আমরা যারা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি তারা নেহায়েত নিরুপায় হয়েই পড়তে যাই। পাচ থেকে দশ লাখ টাকা দিয়ে অন্য কিছু করলেও জীবিকা নির্বাহ করা সম্ভব। শুধু সম্ভব না ভালোভাবে সম্ভব। মা বাবার আশা পূর্ণ করতে আমরা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে চেষ্টা করি। আমার মত মধ্যবিত্ত পরিবারদের এই টাকাটা ম্যানেজ করতে কি পরিমাণ কষ্ট হয় তা আমাদের চাইতে ভালো কেউ জানে না। বাসা থেকে বের হওয়ার সময়ে পকেটে টাকা না থাকলেও লজ্জায় চাইতে পারিনা অনেকে। বন্ধুদের থেকে ধার করে কলা রুটি খেয়ে কোনোমতে দিনটা পার করি। একটা সিগারেট তিন চার ভাগ করে টানি। আমরা উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর আমাদের উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিলো সরকারের। কিন্তু সরকার তা করতে পুরোপুরি ব্যর্থ বলা যায়। কত শতাংশ ছাত্র পাবলিকে সুযোগ পায় তা সবাই জানে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ,বিশেষজ্ঞরা কোনো সমাধান করতে পারেনি। আমি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। সেখানকার বড় ভাই আপুরা ছয় বছরেও অনার্স কমপ্লিট করতে পারেনি। এ দেশে জন্মে কি আমরা অপরাধ করেছি। যেখানে পয়েন্ট সাত পারসেন্ট ভ্যাট দেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই সেখানে সরকার আমাদের উপর সাড়ে সাত পারসেন্ট ভ্যাট বসিয়েছে কোন যুক্তিতে? সবার বাপ তো আর কোটিপতি নাহ। এই নিয়ে যখন আমাদের আন্দোলন তখন সরকার গুলি চালাচ্ছে আমাদের বুকে! বাহ কি সহজেই এই দেশে মানুষকে মেরে ফেলা হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানে যদি দুর্নীতি বন্ধ হোতো তাহলে আমরা আরও একযুগ আগেই উন্নত দেশ হতাম। আমরা যারা প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়ি সরকারের উচিত ছিলো আমাদের ভর্তুকি দেয়া। আমরা যদি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে অন্যায় করে থাকি তবে আমাদের তালিকা করে গুলি করে মেরে ফেলা হোক। কারণ আমরা আর বাঁচতে পারছি নাহ। বিখ্যাত দার্শনিক সক্রেটিস বলেছিলেন, ' যে শিক্ষা অর্জনে অর্থ ব্যায় করতে হয় সে শিক্ষার প্রয়োজন নেই। '
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



