somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

... ... ... অতঃপর একজন খেলোয়াড়ের মৃত্যু!

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



হঠাৎ করেই ছোট মাঠ থেকে বড় মাঠে খেলার সুযোগ পেয়ে আমি তখন খুব খুশি। ছোট মাঠে খেলার অনেক হ্যাপা আছে। তার ওপর যেখানে আগে খেলতাম সেটাকে ছোট মাঠ বলাও ভুল হবে। কারণ সেটা আসলে একটা একতলা বাড়ির সামনের একটা চলাচলের রাস্তা। সেখানেই ছোট থেকে খেলে আসছি। তাই ব্যবস্থা খারাপ হলেও আমি এ রাস্তাটাকে অনেক পছন্দ করতাম। তবে অনেক ঝামেলাও হত। কোন বাউন্সারকে যদি কেউ সপাটে মেরে একটা ফোর বা সিক্স আদায় করত, তাহলে তাতে হাততালি পাবার বদলে বকা খাবার সম্ভাবনা থাকত বেশি! কারণ সে শটে যদি বলটা সেই একতলা বাড়ির কোন খোলা বাসার সদর দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে যেত, তাহলে আমাদের সে বল উদ্ধার করতে খবর হয়ে যেত। সে বাসার আন্টি কিছুতেই বল দিতে চাইত না, দিলেও তার ঘ্যানঘ্যানানি সহ্য করতে হত। "বদমাশ ছেলে”" ... "“বড়দের সম্মান দিতে জানে না"” ... "“কত বড় বেয়াদব!"” ... এরকম কত যে বকা খেতে হয়েছিল! পাশাপাশি সেখানে জমিয়ে রাখা লোহালক্কড়ের প্যাচে পড়ে যে কত বল হারিয়েছে, তার কোন ইয়ত্তা নেই। তাই সে রাস্তা বা ছোট মাঠ ছেড়ে যখন বড় জায়গায় খেলার সুযোগ পেলাম, তখন মন খানিকটা খারাপ হলেও সবমিলিয়ে খুশিই হয়েছিলাম। সেখানে বড় ভাইদের ঝামেলা পোহাতে হলেও সেই ডেঞ্জারাস আন্টির বকা কিংবা বল হারানো - এসব নিত্য নৈম্যত্তিক ব্যাপারে ছাড় পাব, এটা ভাবতেই ভাল লাগছিল।


বড় মাঠে যাবার পর প্রথম কয়েকদিন বেশ খেলে কাটালাম। কিন্তু সেখানে যাবার পর একটা নতুন সমস্যা হল; সেটা হল আমি আমার ফর্ম হঠাৎ করেই হারিয়ে ফেললাম! যে আমি আগের মাঠে ব্যাটিং এ বোলাদের পিটিয়ে লাশ বানিয়ে ফেলতাম, সেই আমিই বড় মাঠে এসে একটাও সিক্স মারতে পারলাম না! পাশাপাশি বোলিং এও অবস্থা খারাপ হয়ে গেল। আগে প্রতি ম্যাচেই কমপক্ষে এক উইকেট পাওনা থাকত আমার। কিন্তু এখানে আসার পর সকলে আমার বল বেশ মজা করে মারতে থাকল। আগে আমি ডানহাতি ফার্ষ্ট বোলার থাকলেও এখানে আসার পর নির্বিষ মিডিয়াম ফাষ্ট বোলারে পরিণত হলাম। তাই - ই সকলে বেশ মজা পেয়ে গেল আমার বোলিং এ।


সব মিলিয়ে তখন বেশ খারাপ অবস্থা। আমি আর খেলে মজা পাই না। অন্যদিকে ক্লাস এইটে উঠেছি বলে ইংলিশে ভাল করার জন্য একজন প্রবীণ টিচার প্রতি সন্ধ্যায় বাসায় আসতেন। তাঁর অত্যাচার আর আমার ফর্মহীনতা - সব মিলিয়ে আমি বেশ বেকায়দায়। খেলা শুরু হবার কিছু সময় পরই বুয়া বাসা থেকে ছুটে এসে আমাকে ধরে নিয়ে যেত। কারণ কী? উত্তর -– টীচার বাসায় বসে আছেন! কিছু বলাও যেত না বাসায়। কিছু বললেই বলত, "“বাবু, এটা ক্লাস এইট। আগের মত ঢিলেমি দিয়ে পড়লে হবে না। বৃত্তি পেতে হলে জোরে সোরে পড়তে হবে ... ... ...”" হাবিজাবি হাবিজাবি! কাজেই স্পিকটি নট!


এভাবে এক মাসের মত সময় চলে গেল। মাঠে আমার ফর্ম আবার উঠতে থাকল। ব্যাটিং মোটামুটি হচ্ছিল, মাঝে মধ্যে দুই একটা ফোরও মারতে পারতাম। বোলিং এ ততদিনে লেগ স্পিনার হয়ে গেছি। এতে বেশ সুবিধা হল। অন্য টিমের সাথে ম্যাচ খেলার সময় আমার মত এরকম একজন স্পেশালিষ্ট (!) লেগ স্পিনার দেখে তারা থতমত খেয়ে যেত। কারণ পুরো মাঠে এরকম আলাদা কোন স্পিনার ছিল না কোন দলে। ফলশ্রুতিতে উইকেট পেতে থাকলাম নিয়মিত। আর এরকম ম্যাচ খেলাকালীন উইকেট কিপার হিসেবে প্রত্যাবর্তন - সবমিলিয়ে দিন ভালোই কাটছিল; যদিও ঐ দিকের টীচারের সমস্যা তখনো মেটেনি। তা না কমে বরং দিন দিন বাড়তে থাকল। অবস্থা একসময় এমন দাঁড়াল যে আমাকে হয় বিকেলে খেলতে হবে নয়তো বাসায় বসে সেই এককালীন জাঁদরেল টীচারের সামনে বসে ইংলিশের মডেল কোয়েশ্চেন করতে হবে।


এই সমস্যার মাঝে পড়ে অবশেষে আমাকে একটা অপশন বেছে নিতেই হল। "“লেখাপড়া করে যে - ই, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে –- ই”", এই প্রবাদ বাক্যকে মেনে নিয়ে মাঠে গিয়ে ক্রিকেট খেলা ছেড়ে দিলাম। অন্য অর্থে আউটডোর গেম খেলাই ছাড়তে হল আমাকে। কারণ সময় না পাওয়া। স্কুল, বৃত্তি কোচিং, প্রাইভেট – এ সবগুলো আমার সকল সময় শুষে নিল। ফলশ্রুতিতে দেশের একজন অতি সাধারণ ছেলের খেলোয়াড়ি জীবনের মৃত্যু হল এবং তার সে বছর সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি প্রাপ্তি হল।



প্রথম প্রকাশিত আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:২৭
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×