somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাহমুদুর রহমানের ওপর নির্যাতনের তদন্ত দাবি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

২৪ শে জুলাই, ২০১০ দুপুর ২:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের অবিলম্বে মুক্তি ও পুলিশ হেফাজতে তার ওপর চালানো নির্যাতনের তদন্ত দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস্ ওয়াচ।
সম্প্রতি নিউইয়র্কে সংগঠনের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, অবিলম্বে মাহমুদুর রহমানকে মুক্তি দিন এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করুন। পুলিশ হেফাজতে মাহমুদুর রহমানের ওপর যে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তা অত্যন্ত গুরুতর। আদালতে মাহমুদুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী এলিট ফোর্সের সদস্যরা চোখ বেঁধে, জানালার সঙ্গে তার হাতে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে তার ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তাকে কোনো ধরনের খাবার ও পানীয় দেয়া হয়নি।
বিবৃতিতে হিউম্যান রাইটস্ ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষক তাজ থাপা বলেন, পত্রিকা বন্ধ করে তার সম্পাদককে জেলখানায় আটক রাখার ঘটনা প্রমাণ করছে বাংলাদেশ সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও স্বাধীন মত প্রকাশের ব্যাপারে ভীত হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে সহিংসতা গণতন্ত্রের মূলনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন বলে জোর প্রচারণা চালিয়েছিল।
দৈনিক আমার দেশ-এর প্রকাশনা বন্ধ এবং সাংবাদিকদের ওপর পুলিশি হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিবৃতিতে তাজ থাপা বলেন, গত ২ জুন মধ্যরাতে শতাধিক পুলিশ জোর করে আমার দেশ কার্যালয়ে ঢুকে মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে ৩৪টিরও বেশি মামলা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৮টিই মানহানি মামলা। পুলিশ জোর করে পত্রিকার প্রেস বন্ধ করার পাশাপাশি প্রকাশনার লাইসেন্স বন্ধ করে দেয়। একইসঙ্গে ওই রাতে ছাপানো পত্রিকার কপিগুলোও নিয়ে যায় পুলিশ। ওই রাতে কর্মরত অনেক সাংবাদিক সেদিনের পুলিশি হামলায় আহত হন।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারের সমালোচনা করে সংবাদ প্রকাশের ফলে মাহমুদুর রহমান ও তার সহকর্মী সাংবাদিকরা বাংলাদেশ সরকারের চাপের মুখে ছিল। পত্রিকাটি সেই থেকে এখনও বন্ধ রয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ সরকার তাদের এই পদক্ষেপের যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনেছে।
ইউরোপের মানবাধিকার বিষয়ক আদালতের রায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, সংবাদপত্র বন্ধের ঘটনা নিশ্চিতভাবেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
বিবৃতিতে তাজ থাপা বলেন, সরকারের দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার সম্পর্কে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলাটা যেকোন গণতন্ত্রের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদপত্র বন্ধ বা পুলিশ পাঠিয়ে হামলা না চালিয়ে বরং সরকারের উচিত সমালোচনাগুলো থেকে কিভাবে বেরিয়ে আসা যায় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া। সম্পাদকের বিরুদ্ধে প্রতারণার মিথ্যা অভিযোগ এনে সংবাদপত্র বন্ধ করার যৌক্তিকতা প্রমাণ করা যায় না।
বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হিউম্যান রাইটস্ ওয়াচের পক্ষ থেকে বলা হয়, অবিলম্বে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে মুক্তি দিন। অথবা দ্রুত তার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করুন। একইসঙ্গে মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ব্যাপারে যেসব তথ্য জোগাড় করা হয়েছে সেগুলোর যথার্থতা পুরোপুরি সঠিকভাবে যাচাই করুন। আমার দেশ-এর প্রকাশক মোহাম্মদ হাসমত আলী সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তাকে তুলে নিয়ে জোর করে দু’টি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছে। অন্যদিকে সরকারি কর্তৃপক্ষ বলছে, হাসমত আলী দু’টি বিবৃতিতে সই দিয়েছেন। এর ভিত্তিতেই মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
মানবাধিকার রক্ষা এবং নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক কনভেনশন আইসিসিপিআর অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সরকারের উচিত মাহমুদুর রহমানের ওপর চালানো নির্যাতনের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে যে, দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নির্যাতনের যুগের অবসান হয়েছে।
৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×