somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শেয়ার ব্যবসা: একটি বিশ্লেষণ

২৩ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ১০:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শেয়ার হলো লিমিটেড কোম্পানীর পরিশোধিত মূলধনের একটি ইউনিট। প্রাথমিক শেয়ারের টাকা দিয়ে কোম্পানী তার ব্যবসা চালু করে, উৎপাদন চালু করে, অবকাঠামো তৈরি করে, ব্যবসা সম্প্রসারন করে।এটা দেশের উৎপাদন বৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, কর্মসংষ্হান সৃষ্টি, বেসরকারী উদ্যোগতা সৃষ্টিতে খুবই সহায়ক।
কোম্পানীটি ব্যবসা পরিচালনা করে যে লাভ অজর্ন করে তার অংশ হিসাবকাল শেষে শেয়ার মালিকদের মাঝে শেয়ার অনুপাতে বন্টন করে।আর এটাই শেয়ার মালিকের লাভ।
লিমিটেড কোম্পানী গুলো চিরন্তন অস্তিত সম্পন্ন হিসাবে আইনগত ভাবে প্রতিষ্ঠিত। প্রাথমিক শেয়ারের মালিকগন তাদের পুজি চলতি ব্যবসা ফেরত নিতে পারেন তার শেয়ার অন্য কোন আগ্রহি ব্যক্তির কাছে বিক্রয়ের মাধ্যমে। আর এর মাধ্যমেই সৃষ্টি হয়েছে শেয়ার ব্যবসা। গঠিত হয়েছে Dhaka Stock Exchange (DSE), Chittagong Stock Exchange (CSE), Central Depository Bangladesh Limited (CDBL). প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির প্রয়োজনীয়তা থেকে সৃষ্টি হয়েছে সেকেন্ডারী মার্কেট। যাকে আজ মুচি থেকে ইমাম সাহেব সবাই আমরা শেয়ার ব্যবসা হিসাবে জানি। এ ব্যবসায় অংশ গ্রহনের চেষ্টা করি। কারন লাভ শুধুই লাভ।
দেশের অর্থসামাজিক অবস্হা, মানুষের সঞয় প্রবনতা, ব্যাংকের সুদের হার, সরকারের মৃদ্রানীতি, অর্থনেতিক প্রাপ্তির হার, বিনিয়োগ ফেরত পাবার সহজ লভ্যতা ইত্যাদির উপর নিভর করে সেকেন্ডারীতে শেয়ারে বিনিয়োগ করার বিষয়টি। একজন প্রাইমারী শেয়ার মালিক সেকেন্ডারী মার্কেটে তার শেয়ারটি কত দামে বিক্রয় করবেন কিংবা একজন ক্রেতা সেকেন্ডারী মাকেট থেকে কতদামে একটি শেয়ার ক্রয় করবেন তা নিভর করে শেয়ার প্রতি আয় প্রবনতা (PE), শেয়ার প্রতি সম্পদের পরিমান(NAV), শেয়ার প্রতি লভাংশ ঘোষনার প্রবনতা, ব্যবসায়ের খাত ওয়ারী গতি ধারার উপর। এ সব বিষয় গুলোর উপর ভিত্তি করে একজন বিনিয়োগ কারী শেয়ারে তার পুজি বিনিয়োগ করেন শেয়ার বাজারে। উদ্দেশ্য হিসাব কাল শেষে তার শেয়ার প্রতি আয় অজর্ন। আর এটাকে বলা হয় শেয়ারে বিনিয়োগ।
আমাদের দেশে বতমানে শেয়ার ব্যবসার নামে যা চলছে কম দামে শেয়ার(পন্য) ক্রয় করে বেশি দামে শেয়ার(পন্য) বিক্রয় করা। এটা পন্য বেচাকেনার মতই একটি ব্যবসা। এটার পন্য হয় শেয়ার। আর এ ব্যবসার পন্য (শেয়ার) মুল্য নিধারনের ভিত্তি হলো সিন্ডিকেট, গুজোব, মূল্য সংবেদনশীল তথ্যে প্রকাশকে হাতিয়ার হিসাবে মূল্যে ম্যানুপুলেশণ, আইনি মারপ্যাচ, নিয়ন্ত্রন সংস্হার কারসাজি। আর এ জাতীয় শেয়ার ব্যবসার জন্যই দেশের মানুষ আজ তাদের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা, রুটিন কাজকর্ম ছেড়ে ধাপিত হয়েছে এ জাতীয় ডিজিটাল ব্যবসার দিকে। সে ব্যবসার মূল শ্রম হলো কম্পিউটার, মোবাইল এবং ক্যালকুলেটর এর বাটন চাপা। এ ব্যবসার উদ্যোগতা হলো বেকার যুবক, কলেজ ইউনিভাসিটি পড়ুয়া ছাত্র, চাকুরীজীবি, গৃহিনী। যেহেতু লাভ শুধুই লাভ তাই মুচি, ম্যাথর ইমাম সাহেব কেউ এ ব্যবসা থেকে দুরে নয়। কারন ১০০ টাকার শেয়ার কোন প্রকার কারন ছাড়াই ৪ দিনের ব্যবধানে ১২৫ টাকায় লেনদেন হওয়া। যা কিনা অন্য কোথাও বিনিয়োগ করে এ পরিমান লাভ পেতে ২ বছর নিষোজিত থাকতে হতো।
এ জাতীয় প্রচলিত শেয়ার ব্যবসা অর্থনীতিতে কতটুকু সুফল বয়ে আনবে যে ব্যবসার কল্পিত লাভ দিয়ে নতুন কোন ব্যবসা-বানিজ্য চালু হয়না, শিল্প কলকারখানা স্হাপিত হয়না, উতপাদন বৃদ্ধিপায় না বরং দেখা যায় শিল্পকারখানার টাকা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করছে, পুরাতন ব্যবসায় মনোযোগ না দিয়ে এ জাতীয় ফটকা ব্যবসায় মনোনিবেশ করছে। এ জাতীয় ফটকা ব্যবসা আমাদের কে জাতি হিসাবে অলস, কর্মহীণ, উতপাদনে হীন, অস্হির, মানবিক মূল্যবোধহীন হিসাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করছে।
আমার পরিচিত একজন মুরগীখামার ব্যবসায়ী যেখানে ১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগকরে মাসে ২০ হাজার টাকা আয় করতে হিমসিম খাচ্ছে সেখানে একজন শেয়ার ব্যবসায়ী ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে মাসে ২ লক্ষ টাকা আয়ের চেষ্টা করছে। কেউ কেউ সফল ও হচ্ছে। এ অতিরুক্ত ২ লক্ষ টাকায় কো্ন উতপাদন বৃদ্ধি পায়নি। এখন এই ডিম ব্যবসায়ী যদি ডিমের উতপাদন বাদ দিয়ে শেয়ার ব্যবসা শুরু করে তাহলে দৈনিক ২ হাজার ডিম উতপাদন কমে যাবে। কিন্তু ব্যবসায়ী ডিজিটাললি নতুন শেয়ার ব্যবসায় ৫ গুন অায় আশা করেতে পারে।
তাই একজন ডাক্তার ডাক্তারী পেশা বাদ দিয়ে, ছাত্র-শিক্ষক পড়াশূনায় মনোনিবেশ না করে, পেশাজীবি স্ব পেশায় দক্ষতা অজন না করে যদি এ জাতীয় ফটকা বাজিতে নিয়োজিত থাকে তাহলে আমাদের সামনে অন্ককার। যতবেশি লোক শেয়ার ব্যবসায় অংশ গ্রহন করবে দেশ ও জাতি ততই ক্ষতির মধ্যে নিপতিত হবে।
জাতির উন্নতির জন্য দরকার প্ররিশ্রমি, সৎ , কমর্ঠ, প্রজ্ঞা সম্পন্নৃ উদ্যোগতা শ্রেনী। যাদের কাছে মানুষের হাতে পড়ে থাকা অলস টাকা প্রাথমিক পুজি হিসাবে তুলে দিবে। যাদের কর্মততপরতায় দেশের উতপাদনের চাকা সচল হবে, প্রকৃত মাথা পিছু আয় বৃদ্ধি পাবে, দব্য মুল্য হ্রাস পাবে, ফটকা বাজি বন্ধ হবে, ঘুরতে থাকবে উন্নয়নের চাকা।

সংগ্রহিত




২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×