somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছাত্রলীগনামা

০৫ ই অক্টোবর, ২০১৬ বিকাল ৪:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিক্ষ্য শান্তি প্রগতির নামে (মোরা) মুজিবের সৈনিক

কাঁপিয়ে তুলবো সারা চরাচর (মোরা) কাপাবো দিগবিদিক

ছাত্রলীগ জয় জয় ছাত্রলীগ ৷

সারা স্বদেশের অ্যান্দালনের মৃত্যুঞ্জয়ী নাম

স্বদেশ গড়ার শপথে দীপ্ত আমাদের 'সংগ্রাম।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একদিকে যেমন এই ভূখন্ডের সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন, অন্যদিকে আদর্শিক চেতনায় উদ্ধুদ্ধ, ছাত্র ও শিক্ষাবান্ধব কর্মসূচি বান্তবায়নে অপ্রতিদ্বন্দী ৷ ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি সময়ের দাবিতে জন্ম হয়েছিল আমাদের প্রিয় এই সংগঠনের ৷ তারপর সময়ের প্রয়োজন মেটাতেই এগিয়ে চলা ছাত্রলীগের ৷ বায়ান্ন, বাষট্রি, ছেষট্রি, ঊনসত্তরের পথ বেয়ে মুখোমুখি জাতির পৌরবময় একাত্তরের ৷

উপরের কথাগুলো বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র হতে নেয়া।স্বাধীনতার পরে আদর্শিক ছাত্ররাজনীতি বলতে যা বুঝায় ছাত্রলীগ তার ধারে কাছে নাই।রীতিমত ফ্রাঙ্কেনস্টাইন এ পরিণত হয়েছে ছাত্রলীগ।পত্রিকা আর সোশাল মিডিয়ায় ছাত্রলীগের দলীয় কর্মযজ্ঞের যে বয়ান আসে সেগুলোর সাথে দলীয় সংগীত আর গঠনততন্ত্রের ভূমিকার আপ্তবাক্যগুলোর বৈসাদৃশ্য ছাড়া সাদৃশ্য খুজতে চাওয়া যেন এরকম কাজের মতো- ......সাদৃশ্য খোঁজতে চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।



শাবি ছাত্রলীগের সিনিয়র এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী বদরুলকে তারই একসময়ের ছাত্রী খাদিজা তথাকথিত প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ছাত্রলীগ নেতা হৃদয়ের গভীর মনোবেদনা থেকে যে কান্ডের অবতারণা করেছেন তা এখন আলোচনার শীর্ষে রসিক বাঙ্গালী সমাজে।



বদরুল হয়ত " কি যাতনা বিষে বুঝিবে সে কিসে- কভূ দংশেনি যারে" এমন অবস্থায় ছিলেন।যার কারণে রাগে-ক্ষোভে চরম ব্যথিত হৃদয়ে অমর প্রেমকাহীনি রচনার ব্যর্থতাই তাকে একাজে প্ররোচিত করে থাকতে পারে।

বদরুল হয়ত তার অগ্রজ মানিকের কথা জানতেন- যিনি ধর্ষণে সেঞ্চুরি করে মিষ্টি বিতরণ করেছিলেন জাহাজ্ঞীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে তিনি নিরাপদে বিদেশ-বিভূইয়ে চলে গেছেন।

আসলে ছাত্রলীগনামা লেখা জটিল এক উপাখ্যান রচনার মত।প্রতিদিন আরো কত মানিক আর বদরুল অন্তরালে থেকে যাচ্ছে আর ইবলিস-প্রেতাত্বা অট্রহাসি দিচ্ছে.......

ছাত্রলীগনামাঃ

স্বাধীন বাংলাদেশে ছাত্রহত্যার সূচনা হয় ছাত্রলীগের মাধ্যমে।১৯৭৪ সালের ৪ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসিন হলে সংঘটিত হয় সাত জন ছাত্র হত্যার মতো নারকীয় ঘটনা। ছাত্রলীগের অভ্যন্তরিণ কোন্দলে ঐদিন মুহদিন হলের টিভিরুম রক্তাক্ত হয়েছিল।ব্রাশফায়ার আর বোমায় ঝাঁঝরা হয়েছিল সাতটি মুখ।এর পর থেকে শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার রাজনীতি চলতে থাকে অবাধ গতিতে। ১৯৯৩ সালে নিউইয়র্ক টাইমস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘বিশ্বের সর্বাধিক সংঘাতপূর্ণ শিক্ষাঙ্গন’ বলে চিহ্নিত করে।

১৯৮২ সালের ১১ মার্চ রাজশাহি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে এক নির্মম ঘটনা।শিবিরের নবাগত সংবর্ধনায় ছাত্রমৈত্রি,ছাত্রইউনিয়ন ও ছাত্রলীগের যৌথ হামলায় নিহত হন শিবিরের সাব্বির,হামিদ,আইয়ূব,জব্বার।ঐদিন লোহার রড,পাইপগান,দা-কিরিচ দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয় সাব্বিরকে।ইটের উপর মাথা রেখে আরেকট ইটের আঘাতে মাথা থেকে মগজ বের করে দেয়া হয় আব্দুল হামিদের-যা ঐ সময়ের পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

২০১৬ সালের ১১ জানুয়ারি ব্রাম্মনবাড়িয়ার ইউনুসিয়া মাদ্রাসার ছাত্র মাসুদুর রহমানকে ছাত্রলীগ গুলি করে হত্যা করে বলে পত্রিকান্তরে প্রকাশিত।

২৮ অক্টোবর ২০০৬ সালের পল্টন হত্যাকান্ড ইতিহাসে ছাত্রলীগের এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে লিখা থাকবে। লগি-বৈঠার নির্মম আঘাতে মুজাহিদ, শিপন আর জসিমদের রক্তাক্ত দেহ ছাত্রলীগের ড্রাকুলা চরিত্রের কথা মনে করিয়ে দেয়,



বিশ্বজৎ -ছাত্রলীগের নির্মম কোপাকুপির শিকার হয়েছিলেন যেমনটি খাদিজার ক্ষেত্রে হয়েছে।



ছাত্রলীগের সন্ত্রাস নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ২০১০ সালের ৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘ছাত্রলীগকে নিয়ে আর কোনো নেতিবাচক সংবাদ দেখতে চাই না।’ ওইদিন রাতেই শাহবাগে ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলায় দুই সাংবাদিক আহত হন। ১৪ মে প্রধানমন্ত্রী অপর এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্টকারী যেই হোক না কেন, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। ১৫ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘ছাত্রলীগের নামে সন্ত্রাস বরদাশত করা হবে না।’ এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের অবাধ্য ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে শাস্তির সুপারিশ করেছিলেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছিলেন, ‘ছাত্রলীগ যা করছে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে।’ একই সময়ে ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ। সর্বশেষ গত ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন ‘ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের কারণে আমাদের মাথা হেট হয়ে যায়।’

অর্থমন্ত্রী বলতে বাধ্য হয়েছিলেন- বদমাসরা ছাত্রলীগ করে।


সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই অক্টোবর, ২০১৬ বিকাল ৪:৩১
৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×