জগতকে তুমি কিরূপে দেখিয়াছ। জগতের মানুষগুলোকে কিরূপে দেখিয়াছ। সেই সকল কথা মনের আবেগ দিয়া গুছাইয়া লিখিয়া যাও, পাঠযোগ্য হইলে পাঠক তাহা পাঠ করিবে। এইসব ভাবিয়াই লিখিতে ইচ্ছা করে।
গ্রামের কথা, মানুষের কথা, তাহাদের সুখ-দুঃখ, হাসি কান্নার কথা, জীবন-জীবিকার কথা। কিন্তু তাহা প্রকাশের ভাব-ভাষা কিছুইতো জানা নাহি, লিখনীর জোরও যে নাই। কিরূপে লিখি?
গুণী লেখকগণ ঘটনা প্রত্যক্ষ করিয়া তাহা মনের মাধুরী মিশাইয়া নতুন রূপে বর্ণনা করিয়া থাকে। বড় লেখকেরা তাহাদের লেখনী দিয়া যেকোন ঘটনাকে সহজ ভাষায় ফুটাইয়া তুলিতে পারে। জীবনের অনেক ছোট ছোট ঘটনা তাহাদের হাতে পড়িয়া জীবন্ত হইয়া যায়। তাহাদের কলমের যাদুতে কঠিনতর বিষয় দিবালোকের মত স্পষ্ট হইয়া ফুটিয়া উঠে। পাঠক তাহা পাঠ করিয়া বিমলানন্দ লাভ করে, পুলকিত হয়। তাহারা ইচ্ছা করিলে একটি বিষাদের ঘটনা এমনতরো মনোরম করিয়া বর্ণনা করিবার পারে যাহা পাঠ করিয়া পাঠক গভীর বিষাদে তলাইয়া যায়। আবার একটি হাসির ঘটনার বিবরণ পাঠ করিয়া হাসিতে গড়াগড়ি খায়। আমার কলমের সে জোর কোথায়?
ঐযে দূরে নদীর বুক চিরিয়া পাল উড়াইয়া পানসি নৌকা চলিয়াছে। পথে গ্রাম পড়িবে, হাট-বাজার পড়িবে, নগর-বন্দর পড়িবে, নানা গাছ পালা-বন জঙ্গল পার হইতে হইবে। পথ চলিতে নানান ধর্মের, নানান বর্ণের লোকের দেখা মিলিবে। চলার পথে আরও কত ঘটনা ঘটিবে। হয়তো রাতে কোন বন্দরে নৌকা নোঙ্গর করিয়া রাত্রি যাপন করিতে হইবে। নিজেরা রাঁধিয়া খাইতে হইবে। হায় তাহারা যদি সেইসব লিখিয়া যাইতে পারিত।
চলিবে...
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই অক্টোবর, ২০১৪ দুপুর ১২:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


