somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভূটান এবং তার Gross National Happiness

১১ ই আগস্ট, ২০১৪ বিকাল ৪:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অনেকের মত দেশবিদেশ ঘুরতে আমিও খুবই পচ্ছন্দ করি, এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই। আট বছর কাজ করি, চার আনা পয়সা সেভিংস নাই। সব উরাই ঘুরাঘুরির পিছনে। যেখানেই যাই মনরম দৃশ্য, লোকাল খাবার এগুলো ছারাও আরেকটা জিনিষ আমাকে খুবই টানে। সেটা হল লোকাল পিপুল এন্ড কালচাল। ভুটানে এয়ার পোর্টে নেমেই আমার প্রথম যে কথাটা মনে হয়েছে সেটা হল “আহারে আমরা কোথায় থাকি !!!!” । কোন সন্দেহ নাই পাহারের মাঝখানে একটা দেশ, প্রাকৃতিক সৌর্ন্দযে ভরপুর হবেই । কিন্তু ভুটানোর বিষয়টা অনেক খানিই অন্য রকম। বিষ্ময়কর এক শান্তি ওদের দেশের পরতে পরতে । আমাদের হোটেলের পাশেই একটা বাচ্চাদের স্কুল - পাহারের পাদদেশ ঘেসে, একপাশে খরস্রোতা নদী, পিছনে আপেল বাগান। লাল লাল স্কুল ড্রেস পরা বাচ্চাগুলোকে দেখলাম মহা আনন্দে স্কুলের ঘাস পরিস্কার করছে। আমার হাজবেন্ড আমার মুখের কথা কেরে নিয়ে বলল “ আহারে আমার পোলাডারে যদি এরকম একটা স্কুলে পরাতে পারতাম !!!” আমাদের ড্রাইভার কাম গাইড ছেলেটার নাম ছিলো প্রেমা। রিতিমত গুড লুকিং, আধুনিক স্টিাইলে দাড়ি গোফ ট্রিম করা। চোস্ত না হলেও চমতকার ইংলিশ এবং হিন্দি বলে। বাট পরে আছে ওদের কনভেনশনাল হাটুর সমান বিচিত্র পোশাক। সত্যি কথা বললে ভুটানিজদের জাতীয় পোশক কিন্তু আমাদের লুংগী থেকেও অনেক অদ্ভুত । আমাদরে দেশে কেউ লুংগী পরে অফিস করছে এইটা আমরা কেউ কল্পনাই করতে পারি না। ইনফ্যাক্ট কেউ অফিস করলেও পরের দিন তার চাকরি চলে যাওয়ার সম্ভবনা। আর ওদের রাস্ট্রিয় আইন অনুযায়ী অফিসিয়াল পোশাক হচ্ছে এইটা। এবং এই অদ্ভুত পোশাকেও তাদের আত্ম বিশ্বাস, র্স্মা্টনেসের কোথাও কোন কমতি হচ্ছে না। বরং নিজেদের ঐতিহ্যের প্রতি তাদের শ্রদ্ধাবোধ এবং র্গ্ব শেখার মত বিষয়। । মজার বিষয় হল ভুটান সরকার কিন্তু রাস্ট্রিয়ভাবেই সাদা চামরার টুরিষ্টদের ডিসকারেজ করে। সার্ক্ভুক্ত দেশ হওয়ার ফলে আপনি মোটামুটি যে পয়সায় ভুটান ঘুরতে পারবেন পৃথিবীর অন্য প্রান্ত থেকে আসলে আপনাকে অন্তত তিনগুন বেশী খরচ করতে হবে। এবং প্রতিবছর একটা নির্দিষ্ট সংখ্যার উপরে তারা টুরিষ্ট এলাউ করে না । এর একটা প্রধান কারন কালচারাল মিশ্রতাটা তারা একটু এরিয়েই চলতে চায়। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন ওখানে কোন গাড়ি হর্ণ্ দেয়না, প্রয়োজন ছাড়া অভারটেক করেনা রাস্ট্রিয়ভাবেই ঘোষিত ওখানে কোন ভিক্ষুক নেই, ওদের প্রধান মন্ত্রীর ভাষায় “ উই হ্যাভ পোর গভমেন্ট বাট নো পোর পিপুল” যেটা আসলেই সত্যি। আমাদের গাইড প্রেমার সাথে কথা বলে যেটা বুঝলাম তাদের চাহিদাটাই আসলে আমাদের সাথে মেলে না। ক্রাইম রেট শূণ্য,চাকুরিতে মেয়েরা পুরুষদের চাইতে আগানো, ইভ টিজিং এর কোন কনসেপ্টই নেই। হোটেল, দোকান সবজায়গায় কাজ করছে মেয়েরা। ওখানে মেয়েদের আত্মবিশ্বাসই অন্যরকম। এর জন্য কোন কৃত্রিম মেকাপের দরকার হয়না। প্রেমার কাছে জানতে চাইলাম এখানকার মেয়েদের এত নিরাপত্তা তোমরা কিভাবে নিশ্চিত করলে। ওর খথা শুনে মনে হলো অন্যকোন পৃথিবীর গল্প শুনছি। বলল এখানকার পুলিশ প্রশাসন মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। কিভাবে? ওদের দেশে রিতীমত আইন আছে কোন মেয়ে যদি কমপ্লেইন করে তাহলে তার কথাই শেষ কথা, এমনকি তাকে কোন এভিডেন্সও সাবমিট করতে হয় না। আমি বললাম কোন মেয়ে যদি সুযোগ নেয়? ও একটু অবাক হয়ে জানতে চাইলো সেটা সে কেন করবে? আমি একটু মনে হলো লজ্ঝাই পেয়ে গেলাম। ওখানে সারা শহরে কোন বিলর্বো্ড নেই । পন্য কেনার দোকান আছে কিন্তু তাতে কোকাকোলা বা ফেয়ার এন্ড লাভলীর কোন সাইনবোর্ড্ নেই। ইন্ডিয়ান পন্য আছে ক্নিতু ড্রুক এর পন্যগুলোর মান এতভালো যে আপনি অন্য পন্য কিনবেন না । একটা আধুনিক শপিং সেন্টারে গেলাম, রিতিমত প্যাথেটিক! 70% বিদেশী পন্যের ডেট ওভার হয়ে গেছে দোকানী জানেই না । তারমানে এগুলা কেনার লোক নাই । টাকা না থাকার কারনে যে লোক নেই এমন না, এগুলা কেনার কা্লচারটাই এখোনো তৈরি হয়নি। বিংশ শতাব্দীতে বসে তারা কিভাবে কনজুমার ওর্য়া্ল্ডকে বৃদ্ধাংগুলী দেখাচ্ছে সেটাই বুঝতে পারলাম না। আমার নিজের অভিজ্ঞতাটাকে বিশ্বাস করতে নিজেরই একটু কষ্ট হচ্ছিলো । বাংলাদেশে ফিরে তাই নেট র্সা্চ দিলাম । সেখানে আমার জন্য রিতিমত চমক ছিলো । যেমন সারা বিশ্ব যখন GNP(Gross National Product)এর পিছনে দৌরাচ্ছে, ওরা তখন রাস্ট্রিয়ভাবে GNH (Gross National Happiness)এ বিশ্বাস করে। ভুটানের চতূর্থ্ রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুক 1970 সাল এই ইন্ডিকেটর এর প্রবর্ত্ন করেন । Legal code of 1629 “if the government cannot create happiness for its people, then there is no purpose for government to exist.” এইটা হচ্ছে তাদের লিগাল কোড। “Gross National Happiness is more important than Gross National Product.” -4th King of Bhutan, 1972. ওরা সুখি হবে নাতো কি আমরা হব ? ফর দ্যা সেইক অফ জিএনপি যারা দালানের তলে পিষ্ট করে শ্রমিক মারি? যারা শ্রমিকদের ভূখা রেখে প্রফিট গুনি?


২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Lost for words....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৩ রা জুলাই, ২০২২ সকাল ১০:৩৫

Lost for words....

ভৌগোলিক আয়তনে আমাদের দেশটা ছোট হলেও আমাদের দেশের অঞ্চলভিত্তিক ভাষার বিচিত্রিতা অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। আমরা অনেকেই আমাদের আঞ্চলিক ভাষা নিয়ে ট্রল করি। ইদানিং আমাদের দেশের বস্তাপচা নাটক সিনেমায় আকছার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর মত উনার মন্ত্রীগুলোও এখন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেয়ে ব্রিজের পাশে দাঁড়ানোকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

লিখেছেন সৈয়দ তাজুল ইসলাম, ০৩ রা জুলাই, ২০২২ দুপুর ২:৪০


'বাংলার পথেঘাটে এখন টাকা বেশি। পায়ের নিচে টাকা পড়ে এখন'
বন্যার্তদের পাশে না দাঁড়িয়ে বন্যার্ত এলাকার মন্ত্রী যখন মিডিয়ার সামনে এমন উদ্ভট কথাবার্তা বলে, তখন কেমন লাগে বলেন দেখি! উনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

উত্তরবঙ্গ ভ্রমণ ২০২২ : সীতাকোট বিহার

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ০৩ রা জুলাই, ২০২২ দুপুর ২:৫৫


ডিসেম্বর মাসে বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ থাকে দীর্ঘ দিন। বেড়ানোর জন্যও নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়টাই বেস্ট। এবার ইচ্ছে ছিলো ডিসেম্বরেই উত্তরবঙ্গ বেরাতে যাওয়ার, যদিও এই সময়টায় ঐ দিকে প্রচন্ড শীত থাকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ-২

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২২ বিকাল ৪:০২

ছবি ব্লগ-১

মিগ-২১ প্রশিক্ষণ যুদ্ধ বিমানটি ১৯৭৩ সালে পাইলটদের প্রশিক্ষলেন জন্য অন্তর্ভুক্ত হয়।



এই বিমানটি ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়। এটি আকাশ তেকে ভুমিতে আক্রমনে পারদর্শী।
... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন কোন কোন সমস্যাকে মেগা-প্রজেক্ট হিসেবে প্রাইওরিটি দেয়ার দরকার?

লিখেছেন সোনাগাজী, ০৩ রা জুলাই, ২০২২ রাত ৮:৩৮



পদ্মায় সেতুর প্রয়োজন ছিলো বলেই ইহা মেগা প্রজেক্টে পরিণত হয়েছিলো; যখন সরকারগুলো সেতু তৈরির জন্য মনস্হির করেনি, তখন তারা উনার বিকল্প ব্যবস্হা চালু রেখেছিলো (ফেরী ও লন্চ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×