somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসা নাকি যৌনক্ষুধা: বিরল এক অভিজ্ঞতা

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খালু অসুস্থ। উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইভ সাপোর্টে। টানা ৬ দিন নিবিঢ় পর্যবেক্ষণে থাকলেও নিযুক্ত চিকিৎসক উন্নতির কোনো আভাস দিতে পারছেন না। তবুও সুস্থ হবেন, এ আশায় বুকে নিয়ে অবিরাম চেষ্টা করে যাওয়া।

স্বজনের বাঁচা-মরার সন্ধিক্ষণে যখন মন ভার, তখন চলছিল ফাগুনের আগুন ঝড়া বসন্ত। পরদিনই প্রাশ্চাত্য থেকে আমদানি করা হাইব্রিড ফ্যাস্টিবল ভ্যালেন্টাইনস ডে।

উত্তরা থেকে দুপুরে উঠলাম পাবলিক বাসে। বাসের নাম রাইদা। গন্তব্য রামপুরা। সিট পেলাম না, সিটিং হিসেবে চলা ওই গাড়িতে দাঁড়ানোর নিয়ম না থাকলেও জরুরি মুহূর্ত থাকায় দাঁড়িয়েই পথ পাড়ি দেয়ার চেষ্টা।

গাড়ির আগাগোরা ভরপুর। সবাই সবাইকে নিয়ে ব্যস্ত। হঠাৎ চোখ পড়লো দুই সিট সামনের একটি সিটে। যেখানে বসা টিনেজ যুগল। বয়স খুব বেশি হলে ১৫-১৮ এর কাছাকাছি। একটু অন্যরকম তাদের আবেগের বহিঃপ্রকাশ।

উত্তরা পেরোতেই একটি সিট খালি হলো, বসলাম। ঘটনা ক্রমে তাদের পেছনেই। সুতরাং বুঝতেই পারছেন সবই পরিস্কারভাবে দেখা যাওয়ার কথা। তাই।

দেখলাম, ১৪ ফেব্রুয়ারির যে দিনটিকে আমরা ভালোবাসা দিবস হিসেবে আমদানি করেছি, মানছি, পালন করছি, ধারণ করছি তার সম্পূর্ণ রূপ।

সংক্ষেপ করলে এমন হয়- ছেলেটি মেয়েটিকে ভেতরের সিটে বসিয়ে বাসের যাত্রীদের সমনেই যা করার সবই করলো। তাও একটু একটু নয়, পুরো সময় জুড়েই তারা নিজেদের বিলিয়ে দিয়েছে একে অপরের মাঝে। এরবেশি বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।

তবে, একটি বিষয় খুবই চিন্তায় এসেছে। দেখলাম, বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রী নামছে-উঠছে। নতুন যারা উঠছেন তারা সবাই ওই তরুণ যুগলের ক্ষুধাময় যৌনতার বহিঃপ্রকাশ দেখেছেন, অবাক খানিকটা হয়েছেন বটে, কিন্তু কেউ কিছু বললেন না। আমিও না।

কারণ, কেন বলবেন? বলার রাস্তা আছে কি? যে দেশে অবৈধতাই বৈধতা, বিজাতীয় সংস্কৃতিই সংস্কৃতি, উৎসবের নামে তরুণ-তরুণীদের মাতাল হওয়ায় দুলিয়ে তোলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায়, অনৈতিকতাই আপডেট থাকার নিদর্শন, চারিত্রিক অবক্ষয় যেন কোনো অপরাধ নয় বরং প্রগতি!

যাই হোক, বিনা বাধায় তারা রামপুরা ব্রিজে নামলো। ছেলেটির গলায় ছিল ব্রিটিশ কাউন্সিল লেখা ফিতা। সে দেখলাম হেলপারকে ১০ টাকা বকশিস দিয়ে গেলো বাস থেকে নেমে।

এটি একটি পাবলিক বাসের চিত্র। এর বিপরীতে অন্দরমহলের দৃশ্য নিশ্চয় সহজেই অনুমেয়।

তাই নিজেকে প্রশ্ন করলাম, ভালোবাসা নাকি যৌনক্ষুধা!
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ২:৩৪
১৭টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×