যন্ত্র কৃষিতে এগিয়ে যাওয়া উত্তরাঞ্চলে বোরো মাড়াই-কাটাই পুরোদমে শুরু হয়েছে। এবারের সেচ মৌসুমে আবাদের ফলন খুবই ভাল। মাঠে ব্যস্ত কৃষক। গ্রীষ্মের ঝড় বাদলের পালায় ক্ষতি সামলাতে ধান তোলার শোরগোল গ্রামের প্রতিটি ঘরে। এর মধ্যেই কয়েক পশলা বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় ক্ষতি একেবারেই হয়নি তাও নয়। তবে শিলাপাত না হওয়ায় এই ক্ষতি কৃষকের গায়ে লাগেনি। উত্তরের গ্রামের পথে পা বাড়ালে চোখে পড়বে ফসলের মাঠে কাস্তে হাতে ধানকাটা মজুরের সারি। একটা সময় উত্তরের কয়েক জেলা থেকে মজুররা মাড়াই কাটাইয়ের মৌসুমে আবাদ উদ্বৃত্ত জেলাগুলোতে জড়ো হতো। গৃহস্থ বাড়িতে কিছুটা সময় পরবাসী থেকে মৌসুমের মজুরি নিয়ে নিজ ভিটায় ফিরত। এখন আর সেই দিন নেই। দারিদ্র্য মোচনের পালা শুরু হওয়ায় প্রতিটি এলাকায় এখন প্রান্তিক কৃষক ও ক্ষুদ্র কৃষক নিজেদের যতটুকু ভিটা আছে তাতেই আবাদ করে। যন্ত্রকৃষি এই সূযোগ করে দিয়েছে। এখন উত্তরের গ্রামগুলোতে কৃষকের বাড়িতে গোয়াল ঘর খুঁজে পাওয়া যায় না। হালের বলদের বদলে পাওয়ার টিলারের চাষ শুরু হয়েছে। এতে খরচও কম ও সময়ও বেশি লাগে না। জোড়া বলদ পালার যে খরচ তা থেকে রেহাই পেয়েছে কৃষক। চুরিরও ভয় নেই। যন্ত্রকৃষিতে জমি চাষ, সেচের পানি পরিচর্যা ও শেষের বেলায় ধান কেটে আঁটি টিলারের সঙ্গে এটে ট্রলিতে করে একেবারে কৃষকের উঠানে পৌঁছান যায়। ধান মাড়াই করতে গরু দিয়ে আঁটি খুঁচিয়ে নিতে হয় না। ঢোলের আকৃতির ধান মাড়াই যন্ত্র দ্রুত সেই কাজ করে দেয়। অনেক গ্রামে রোপণ যন্ত্র দিয়ে ধান বোনা এবং হারভেস্টর দিয়ে ধান কাটা শুরু হয়েছে। কৃষকের ঘরের দুয়ারে সার ডিজেল পৌঁছেছে। শুকনো মৌসুমের বোরো আবাদের সময়টি এখন এমনই যে কখন এসে কখন চলে যায় তা টেরই পাওয়া যায় না। কৃষকও হাফ ছেড়ে আবাদটি স্বাচ্ছন্দে করে। এই সময়টায় বোরো আবাদের মাড়াই কাটাইয়ের সঙ্গেই কৃষকরা ভাবছে পরবর্তী ফসলের আগে আর কোন আবাদ করা যায় কি না। প্রতিটি ফসল ঘরে তোলার পর মধ্যবর্তী সময়ে বাড়তি অনেক ফসলই ফলছে। ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের নানা জাতের ধান উদ্ভাবনে এখন ভরবছর কোন না কোন ধানের আবাদ হচ্ছেই। একটি থেকে আরেকটি আবাদে যাওয়ার আগে কৃষক সময় উপযোগী কোন একটি আবাদ করে নিচ্ছে। মোট কথা কোন ভাবেই আর জমি পড়ে থাকছে না। উত্তরাঞ্চলে সবজির এতটাই আবাদ হচ্ছে যে শীত গ্রীষ্ম বলে কোন কথা নেই। এভাবে খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে উদ্বৃত্ত আবাদ এলাকা বেড়ে গিয়েছে। কৃষিযন্ত্র এদের জীবন ধারা পাল্টে দিয়ে দ্রুত সময়ে সব কিছু সমাধান করে দিয়ে এত কাজের মধ্যেও এরা সময় বের করে নিতে পারছে অনাবিল সুখ ও আনন্দ। কৃষক জীবনে দুঃখের পালা দিনে দিনে শেষ হয়ে আনন্দ, বেদনা, হাসি, কান্না নিয়ে মানব জীবনের যে সত্তা তাই তারা ভাগাভাগি করে নিয়ে উপভোগ করছে। এভাবেই দ্রুততম সময়ে দূর হয়ে যাচ্ছে দারিদ্র্য। সত্যিই ভাবতে ভালো লাগছে আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে মধ্যম আয়ের দেশে।
কৃষিতে লেগেছে ডিজিটালের ছোঁয়া। বলদের বদলে যন্ত্রে চাষ। দেশ এগোচ্ছে মধ্যম আয়ের দিকে
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....
দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...
তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন
বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা
প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর
আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন
Sajna

Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন
বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।