এক বোন ফেসবুকে সূরা ইয়াসীনের ফযিলতগুলো নাকি 'জাল ও জয়িফ' এ' মর্মে একটি স্ট্যাটাস দেন। জানি না বোন কোন তরীকার। মনে হয় আহলে হাদীস হবে। সে যাই হোক আমি বুঝতে পারলাম না হঠাৎ করে সূরা ইয়াসীনের ফযিলত ভিত্তিহীন তিনি এ নিয়ে পড়লেন কেন। মানুষ এমনিই কুরআন তিলাওয়াত করতে চায় না এমন অবস্থায় জয়িফ হাদীসের ভিত্তিতে সূরা ইয়াসীন পড়লে 'বিদআত' হবে এমন কথা প্রচার করলে তো মনে হয় মানুষ কুরআন পড়াই ছেড়ে দিবে।
কোন হাদীস জয়িফ হলেই কিছু লোক বলে দেন এটি 'জাল ও জয়িফ'। এভাবে জয়িফ হাদিসকে জাল বলে আখ্যায়িত করেন। কিন্তু হাদিসটি যে জাল এর পক্ষে প্রমাণ পেশ করেন না। অথচ বলার সময় বলেন 'জাল ও জয়িফ'। আসলে জাল ও জয়িফের মধ্যে পার্থক্য কতটুকু?
একটা জিনিস জাল, এর অর্থ হল সেটা আসল নয়। আসল জিনিসের বদলে নকল জিনিস দিয়ে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ এখানে আসলের অস্তিত্ব নেই। যেমন জাল টাকা, জাল পাসপোর্ট, তেমনি জাল হাদীস।
অন্যদিকে জয়িফ মানে দুর্বল। কিন্তু সেটাতে আসলের অস্তিত্ব আছে। যেমন, লোকটি জয়িফ। এখানে লোকটি আছে, কিন্তু কোন বিশেষ কারণে দুর্বল।
জয়িফ মানে হল অস্তিত্ব অবশ্যই আছে, কিন্তু কোন বিশেষ কারণে দুর্বল। জয়িফ বা দুর্বল সবসময়ই পরিত্যায্য নয়। দুনিয়ার ক্ষেত্রেই ধরুন। জয়িফ বা দুর্বল বলে আপনিতো আপনার কোন দুর্বল সন্তানকে, কোন দুর্বল আত্মীয়কে বা কোন দুর্বল সম্পদকে ছেড়ে দেন না। দুনিয়ার জয়িফ দুই টাকার মালকেওতো আপনি ছেড়ে দেন না। ছেড়ে দেন না কারণ এগুলোর অস্তিত্ব আছে। এগুলো জাল নয়। জাল ও জয়িফের মধ্যে পার্থক্য হলো ততটুকু একটা জিনিসের অস্তিত্ব থাকা ও না থাকার মধ্যে পার্থক্য যতটুকু। দুনিয়ার জয়িফকে ছাড়েন না, আখিরাতের জয়িফকে ছাড়ার আগে তাই তিনশত বার চিন্তা কইরেন দয়া করে। তারপর প্রচার করবেন ইনশাআল্লাহ। আর সাড়ে চৌদ্দশত বছর ধরে আমাদের পুর্ববর্তী কোটি কোটি উম্মত যে আমল করলেন জাল ও জয়িফ বলে আখ্যায়িত করে কী-বোর্ডের এক খোঁচায় তা নষ্ট করবেন না। কারণ জ্ঞানে ও বুজুর্গীতে কোনটাতেই আমরা তাদের ধারেকাছেও নেই। আল্লাহ রব্বুল য়ালামীন আমাদের সকলকে বুঝার তৌফিক দান করুন। আমীন।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




