somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরবাস না পরবাঁশ

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাঝে মাঝে ভাবি বাংলাদেশ কেন এত পিছিয়ে আছে? আমাদের দেশে প্রতিভার অভাব নেই। অনেকে বলেন মেধাবী ছেলেরা নাকি দেশে নেই। এটা একটা খোঁড়া যুক্তি। আমার সাথে পাস করা অনেক মেধাবী ছেলে দেশে রয়ে গেছে ও সেখানে ভাল চাকরি করছে। তবে হ্যাঁ, অনেকেই বিদেশে চলে এসেছে স্বেচ্ছায়। অনেকে মামা-চাচার জোর না থাকায় গ্রহণযোগ্য চাকরি না পেয়ে দেশ ছেড়েছে অনিচ্ছায়। আবার অনেকে উচ্চতর ডিগ্রিলাভের আশায় স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে এসেছে। তবে মজার ব্যাপার হলো যারা বিদেশে আছে, তাদের সিংহভাগই প্রবাসজীবনের উপর অতিষ্ঠ। অনেকে যেকোন মূল্যে দেশে ফিরে যেতে চান, কিন্তু অদৃশ্য এক পিছুটান তাদের আটকে রেখেছে। অনেকে যেতে চান, তবে কিছু সিকিউরিটি ডিপোজিট নিয়ে; যেমন-পাসপোর্ট রেসিডেন্সি, অনেকে কিছু ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্স নিয়ে ফেরত যেতে চান, যাতে দেশে ফেরত গেলে লাখ-দু'লাখ টাকা পারিশ্রমিকের একটা চাকরি মিলে। তবে বেশিরভাগই গ্রহনযোগ্য পারিশ্রমিকের চাকরি পেলে এক মুহুর্ত এদেশে থাকতে চান না। ব্যতিক্রমও আছে। অনেকেই বলেন দেশে গিয়ে কিছু হবে না। এখানে অনেক সুখে আছি। তবে আমার ধারণা সেগুলো মিথ্যাচার। তা নাহলে সময় পেলে কেন তারা বাংলাদেশি নাটক-সিনেমা দেখবে, কেনই বা বাংলাদেশি গান শুনবে আর কেনইবা বৃষ্টিভেজা দিনে খিচুড়ি-ইলিশ খাবে?

অনেকেই বলেন এই দেশে বাড়ি করেছি, গাড়ি করেছি, দেশে থাকলে কিছু হতো না। বলার সময় এমনভাবে বলবেন মনে হবে আহা! কতই না মধুর জীবন ভদ্্রলোকের। আবার একটু নাড়া দিলে আসল ঘটনা বেরিয়ে পড়ে।আর সে ঘটনা খালি দীর্ঘশ্বাসে ভরা।

যেমন- ভদ্্রলোকের উঠতি বয়সী ছেলে বা মেয়ে সাদা চামড়ার ছেলে বা মেয়ের সাথে লিভ টুগেদার করে। বা মেয়ে বিয়ে করেছে শ্বেতাঙ্গ ছেলেকে। আমাদের প্রজন্মের অনেকের কাছে বিষয়টি গ্রহণযোগ্য হলেও আমাদের আগের প্রজন্মের বেশিরভাগ মানুষের কাছে ব্যাপারটি গ্রহণযোগ্য নয়। দেখা যায়, তারা বাংলাদেশি কমিউনিটির অনুষ্ঠানাদিতে যান না। কারন গেলেই অযাচিত সব প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। এরকম পরিবারগুলোর অনেকেই দেশে যান না আর।দেশে গেলেও আত্নীয়-স্বজনের নানারকম প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। নিঃসঙ্গ জীবন-যাপন করেন এরকম মানুষেরা।এই দুঃখ-কষ্ট কি বিশাল বাড়ি বা লেটেস্ট মডেলের গাড়িতে ভোলা যায়?

আবার দেখা যায়, ইউনিভার্সিটির খুবই ভালো প্রফেসর। কিন্তু ছেলেটা হাইস্কুলে ড্রপ আউট হয়ে গেছে। বাংলাদেশি সংস্কৃতিতে বেড়ে উঠা প্রফেসর ভদ্্রলোকের মানসিক অবসহা সহজেই অনুমেয়।প্রবাসী বাংলাদেশি তো বটেই, আত্নীয়-স্বজন , বন্ধু-বান্ধব কেউ বাদ যান না তাকে এ বিষয়ে কথা শুনাতে।

তারপর দেখা যায়, ছেলের বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ে দিয়ে মহা পারিবারিক অশান্তি। দেশে তো প্রবাসী ছেলেদের বিয়ের মার্কেটে দারুণ ডিমান্ড। তাই সুন্দরী পুত্রবধূ যোগাড় করতে সমস্যা হয়নি ছেলের মা-বাবার। কিন্তু বিয়ের পরে এখন তারা বেকায়দায়। ছেলের বাংলার দৌড় অ আ ক খ পর্যন্ত, আর পুত্রবধূর ইংরেজির দৌড় এ বি সি ডি পর্যন্ত। স্বামী-স্ত্রী একসাথে একই ছাদের নিচে থাকে; কিন্তু কথা হয় আকারে-ইঙ্গিতে। বাসায় কোন বাংলাদেশি আসলে মেয়েটি স্বাভাবিকভাবে বাংলাভাষার পসরা নিয়ে বসে। আর জামাই বেচারা তখন হাঁ করে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে থাকে। কথাবাতর্া বুঝলেও অংশগ্রহন করতে পারে না। আর এভাবে শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। একজন ইংরেজিতে ঝাল ঝাড়ে, অন্যজন বাংলায়। কিন্তু একজন আরেকজনের কথা বুঝে না। বেচারা মা-বাবা দু'জনের কথা বুঝে আর হায় হায় করে।

সত্যি বিচিত্র সব ঘটনা। মাঝে মাঝে মনে হয় লেজ গুটিয়ে পালাই। নিজের দেশে না খেয়ে মরলেও সুখ। আর এই দেশে ভাল-মন্দ খেয়ে-পরে মরলেও আত্নার শান্তি হবে না।

পুনশ্চ: এদেশে অনেক সফল মা-বাবা আছেন। যারা তাদের সন্তানকে আগলে রেখে বাংলাদেশি কালচারে মানুষ করেছেন। অসাধারন একাডেমিক রেজালট আছে তাদের সন্তাদের ও তাদের বাংলা শুনলে মনে হয় না তাদের জন্ম বিদেশের মাটিতে। নতুন এই প্রজন্মের কাছে হয়ত অবাঙ্গালী রীতিনীতি গ্রহণযোগ্য হবে ও সস্তা সেন্টিমেন্ট এদের মাঝে কাজ করবে না। হাজার সালাম সেসব বাংলাদেশি মা-বাবাকে। আপনাদের সাফল্যের পিছনে যে ত্যাগ রয়েছে তা দেখে শিখুক কিছু অর্থলোভী মানুষ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেড ইন বাংলাদেশ ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:২২


দেশপ্রেমের সংজ্ঞাটা আমাদের দেশে ঋতুভেদে বদলায়। তবে ২০২৪-এর জুলাই পরবর্তী সময়ে আমরা এক নতুন ধরনের সিজনাল দেশপ্রেম দেখলাম। একে বলা যেতে পারে "রিটার্ন টিকিট দেশপ্রেম"। যারা দেশে বিদেশে আরাম-আয়েশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়ন রোডম্যাপ: একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিপত্র রূপরেখা : পর্ব -১ ও ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১১


প্রস্তাবিত রূপরেখা: কৃষিকে জীবিকানির্ভর খাত থেকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল
ও বৈশ্বিক বাজারমুখী বাণিজ্যিক শিল্পে রূপান্তরের জাতীয় কৌশল প্রস্তাবনা ।

বাংলার মাঠে প্রথম আলোয়
যে ছবি আসে ভেসে
কাঁধে লাঙল, ঘামে ভেজা মুখ
কৃষক দাঁড়ায় হেসে।

সবুজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুদের পর্যবেক্ষণ, শিশুদের ভালোবাসা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৩


Two for joy!

আমার চার বছরের নাতনি আলিশবা আমাকে ব্রীদিং এক্সারসাইজ করতে দেখলে সে নিজেও শুরু করে। যতটা পারে, ততটা মনোযোগের সাথে অনুকরণ করতে চেষ্টা করে। আমি ওকে দেখলে কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি ধার্মিক না মানুষ?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮

ধার্মিক হওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
ধার্মিক হওয়া সহজ। বিজ্ঞানী হওয়া সহজ কথা নয়। পিএইচডি করা সহজ কথা নয়। সেই তুলনায় কোরআন মূখস্ত করা সহজ। জন্মগত ভাবে আমি বাপ মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমাকে ভালোবাসি I love you

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৩:০২

তোমাকে ভালোবাসি বাতাসের মতো,
যেমন শিশুর কাছে বালি একটা খেলনা,
অথবা ঝড়ের মতো, যাকে কেউ বোঝে না।

I love you like the wind,
Playing like a child in the sands,
Or a storm that no... ...বাকিটুকু পড়ুন

×