অনেকেই বলেন এই দেশে বাড়ি করেছি, গাড়ি করেছি, দেশে থাকলে কিছু হতো না। বলার সময় এমনভাবে বলবেন মনে হবে আহা! কতই না মধুর জীবন ভদ্্রলোকের। আবার একটু নাড়া দিলে আসল ঘটনা বেরিয়ে পড়ে।আর সে ঘটনা খালি দীর্ঘশ্বাসে ভরা।
যেমন- ভদ্্রলোকের উঠতি বয়সী ছেলে বা মেয়ে সাদা চামড়ার ছেলে বা মেয়ের সাথে লিভ টুগেদার করে। বা মেয়ে বিয়ে করেছে শ্বেতাঙ্গ ছেলেকে। আমাদের প্রজন্মের অনেকের কাছে বিষয়টি গ্রহণযোগ্য হলেও আমাদের আগের প্রজন্মের বেশিরভাগ মানুষের কাছে ব্যাপারটি গ্রহণযোগ্য নয়। দেখা যায়, তারা বাংলাদেশি কমিউনিটির অনুষ্ঠানাদিতে যান না। কারন গেলেই অযাচিত সব প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। এরকম পরিবারগুলোর অনেকেই দেশে যান না আর।দেশে গেলেও আত্নীয়-স্বজনের নানারকম প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। নিঃসঙ্গ জীবন-যাপন করেন এরকম মানুষেরা।এই দুঃখ-কষ্ট কি বিশাল বাড়ি বা লেটেস্ট মডেলের গাড়িতে ভোলা যায়?
আবার দেখা যায়, ইউনিভার্সিটির খুবই ভালো প্রফেসর। কিন্তু ছেলেটা হাইস্কুলে ড্রপ আউট হয়ে গেছে। বাংলাদেশি সংস্কৃতিতে বেড়ে উঠা প্রফেসর ভদ্্রলোকের মানসিক অবসহা সহজেই অনুমেয়।প্রবাসী বাংলাদেশি তো বটেই, আত্নীয়-স্বজন , বন্ধু-বান্ধব কেউ বাদ যান না তাকে এ বিষয়ে কথা শুনাতে।
তারপর দেখা যায়, ছেলের বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ে দিয়ে মহা পারিবারিক অশান্তি। দেশে তো প্রবাসী ছেলেদের বিয়ের মার্কেটে দারুণ ডিমান্ড। তাই সুন্দরী পুত্রবধূ যোগাড় করতে সমস্যা হয়নি ছেলের মা-বাবার। কিন্তু বিয়ের পরে এখন তারা বেকায়দায়। ছেলের বাংলার দৌড় অ আ ক খ পর্যন্ত, আর পুত্রবধূর ইংরেজির দৌড় এ বি সি ডি পর্যন্ত। স্বামী-স্ত্রী একসাথে একই ছাদের নিচে থাকে; কিন্তু কথা হয় আকারে-ইঙ্গিতে। বাসায় কোন বাংলাদেশি আসলে মেয়েটি স্বাভাবিকভাবে বাংলাভাষার পসরা নিয়ে বসে। আর জামাই বেচারা তখন হাঁ করে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে থাকে। কথাবাতর্া বুঝলেও অংশগ্রহন করতে পারে না। আর এভাবে শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। একজন ইংরেজিতে ঝাল ঝাড়ে, অন্যজন বাংলায়। কিন্তু একজন আরেকজনের কথা বুঝে না। বেচারা মা-বাবা দু'জনের কথা বুঝে আর হায় হায় করে।
সত্যি বিচিত্র সব ঘটনা। মাঝে মাঝে মনে হয় লেজ গুটিয়ে পালাই। নিজের দেশে না খেয়ে মরলেও সুখ। আর এই দেশে ভাল-মন্দ খেয়ে-পরে মরলেও আত্নার শান্তি হবে না।
পুনশ্চ: এদেশে অনেক সফল মা-বাবা আছেন। যারা তাদের সন্তানকে আগলে রেখে বাংলাদেশি কালচারে মানুষ করেছেন। অসাধারন একাডেমিক রেজালট আছে তাদের সন্তাদের ও তাদের বাংলা শুনলে মনে হয় না তাদের জন্ম বিদেশের মাটিতে। নতুন এই প্রজন্মের কাছে হয়ত অবাঙ্গালী রীতিনীতি গ্রহণযোগ্য হবে ও সস্তা সেন্টিমেন্ট এদের মাঝে কাজ করবে না। হাজার সালাম সেসব বাংলাদেশি মা-বাবাকে। আপনাদের সাফল্যের পিছনে যে ত্যাগ রয়েছে তা দেখে শিখুক কিছু অর্থলোভী মানুষ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


