somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার কামলা লাইফ.............(1)

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম বিদেশে এসেছি। গুছিয়ে উঠতে পারি নি। কিন্তু মাথায় একটা টেনশন কাজ করে সারাক্ষন। একটা কাজ ম্যানেজ করতে হবে। তা নাহলে বিপদ। এই বিদেশ বিভঁূইয়ে খাওয়াবে-পরাবে কে? আমরা যখন বাংলাদেশ থেকে নতুন আসলাম, তখন ছোট-খাট কাজকে বলতাম "অড জব"। এখানে আসার কিছুদিন পর সহানীয় নামের সাথে পরিচিতি ঘটে। সহানীয় বাংলাদেশিরা ছোট-খাট কাজকে বলেন "কামলা"।

এই "কামলা" খুঁজতে বের হতাম প্রতিদিন সকাল বেলা। প্রথমে লোকাল পত্রিকা, তারপর এক সময় জুটছে না দেখে ডোর টু ডোর নক করা শুরু করলাম। সে এক ইতিহাস। দোকানে দোকানে গিয়ে ইংরেজিতে জিজ্ঞাসা করি , "ভাই আপনাদের কি কামলা লাগবে?" কিন্তু কামলা আর জুটে না। এর মধ্যে এক বড় ভাই জানালেন একটা এলাকার কথা। শুনলাম ঐ এলাকায় অনেক ফ্যাক্টরি আছে। ওখানে ডোর টু ডোর নক করলে ফায়দা হতে পারে। তাছাড়া ফ্যাক্টরি জবে পয়সাও মন্দ নয়।

আমি আর আমার ফ্ল্যাটমেট একদিন সকালে রওয়ানা দিলাম। কয়েকটা ফ্যাক্টরি ঘুরে লাভ হলো না। যেই শুনে পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই, সেই বলে কাজ নেই। আরে ঝামেলা!! আমি দেশে কোন ফ্যাক্টরিতে কামলা দিব? না দেশে থাকতে সে সুযোগ আমার ছিল? শেষে বিরক্ত হয়ে আমি ও আমার বন্ধু ঠিক করলাম সোজা রাস্তায় হবে না, বাঁকা রাস্তায় কাজ হাসিল করতে হবে। ঢুকলাম এক ব্যাটারি ফ্যাক্টরিতে। রিসেপশনিস্টকে জানাতেই সে বলল, তার জানামতে কোন কাজ নেই, তবে আমরা চাইলে ম্যানেজারের সাথে দেখা করতে পারি। আমরা তো রাজি। বুড়ি গেল ম্যানেজারকে ডাকতে আর এই ফাঁকে আমি আমরা ঠিক করলাম যে আমাদের রয়েছে অনেক বছর ব্যাটারি ফ্যাক্টরিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা.........ব্যাটারি তৈরি করা জানি,এই জাতীয় চাপা মারতে হবে। তা নাহলে গতি নাই।

এরই মধ্যে ম্যানেজার আসলেন। তিনি আমাদের ব্যাপার শুনে দু'জনকে ভেতরে ডাকলেন। ভিতরে বসতেই শুরু হয়ে গেল চাপাবাজি। কিন্তু ব্যাটারি ফ্যাক্টরিতে কি হয় তাই তো জানি না। তাই যা মুখে আসে বলে গেলাম যখন জিজ্ঞাসা করা হলো কি কি করেছি আগে। শুরু করলাম ব্যাটারিতে এসিড ঢালা - জাতীয় অসম্ভব সব চাপা। আর কোন থামাথামি নেই। আমি আটকে গেলে আমার বন্ধু শুরু করে আবার আমার বন্ধু আটকে গেলে আমি। হঠাৎ ভদ্্রলোক বলে বসলেন বাংলাদেশে যে কোম্পানিতে কাজ করেছি তার নাম কি? ওয়েব এ্যাড্রেস কি? দেখি সে কম্পিউটারে গুগল খুলে বসেছে। আরে যন্ত্রনা!!! বলে বসলাম হক ব্যাটারি। ভদ্্রলোক বলেন বানান কি? মহা মুসিবত। আমি সবে তোতলানো শুরু করেছি, তখন আমার বন্ধু বলল "খুব বড় কোম্পানি না তো, এজন্য ওয়েব সাইট নাই"। হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছিলাম।

বলাইবাহুল্য ঐ কামলা আমরা পেয়েছিলাম। আর ভদ্্রলোকের নাম ছিল ফিলিপ ডান। খুবই অমায়িক ও ভদ্্রগোছের মানুষ। তার কাছে আমার অনেক ঋণ। ঐ কামলাটা ছাড়া আমার প্রবাসজীবনে টিকে থাকা খুবই কঠিন হত। টানা 2 বছর কামলা দিয়েছিলাম ওখানে। একদিন কথা প্রসঙ্গে বলেছিলাম, "ফিলিপ তুমি ভালো মতই জানতে আমরা চাপা মেরেছিলাম। তাহলে কেন তুমি আমাদের রিক্রুট করেছিলে?" সে উত্তরে বলেছিল "আমার ঐ মুহুর্তে চিন্তায় ছিল কতখানি ডেসপারেট হলে দু'জন ইউনিভার্সিটি গ্রাজুয়েট এতদূর মিথ্যাচার করে। আমি তোমাদের সাহায্য করার জন্য ঐ দিন কাজ অফার করেছিলাম। কিন্তু আজ মনে হয় আমার সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল না। কারন ইউ গায়েজ আর সিম্পলি দ্য বেস্ট।"

ধন্য ফিলিপ ডান। আপনি সত্যিই মহৎ। আপনার মত মানুষদের কারনেই আমার মত অভাগারা এদেশে টিকে আছে। আজও আমার সিভির প্রথম রেফারির নামটা থাকে "ফিলিপ ডান"।

(লেখাটি ফিলিপকে উৎসর্গ করলাম। একজন মানুষ যাকে নিয়ে তার বাবা-মা গর্ব করতে পারেন। এমন একজন বস যার সাথে কাজ করে কর্মচারীরা নিজেদের ধন্য মনে করে ও যিনি অকপটে মানুষের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারেন। পৃথিবীতে এমন মানুষ আজও আছে দেখেই মাঝে মাঝে এতো মধুর লাগে বেঁচে থাকা।)
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৪২
২১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঁশি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৪



হিম শীতল মাঘ মাসের রাত। ঘন কুয়াশার কারণে পাঁচ হাত সামনেও কিছু দেখা যায় না আর খালপাড়ের বাঁশঝাড়টা তো অনেক দূরে, বাতাস নেই তারপরও বিচিত্র কারণে বাঁশপাতার শব্দ শোনা যাচ্ছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুলো বেড়াল

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২৮


গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। কোথাও মানুষের কোনো সাড়া-শব্দ নেই। মাঝেমধ্যে অবশ্য ঝিঁঝিঁ পোকা ডেকে যাচ্ছে। শব্দে কান ঝালাপালা। এত ঝিঁঝিঁ পোকা কোথা থেকে এলো?

দুটো জঙ্গল পেরিয়ে মূল সড়কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের এই দিনে ১৯৭৫-এর শোকাবহ আগস্ট/ রক্তাক্ত দিবস॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১১



“আজ থেকে অনেকদিন পরে হয়ত কোন পিতা তার শিশুপুত্রকে বলবেন, জানো খোকা! আমাদের দেশে একজন মানুষ জন্ম নিয়েছিল যাঁর দৃঢ়তা ছিল, তেজ ছিল আর ছিল অসংখ্য দুর্বলতা। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ঘাটতি : ভারসাম্যের লক্ষ্যে বাংলাদেশে উৎপাদন ও রপ্তানি কৌশল

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:০২


ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও নিকটতম বাণিজ্য অংশীদার। ভৌগোলিক নৈকট্য, দীর্ঘ সীমান্ত, পরিবহন সুবিধা এবং পরস্পর-নির্ভরশীল উৎপাদনব্যবস্থার কারণে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর কারা মিষ্টি বিতরণ করেছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১৬


যদি কোনোদিন টাইম ট্রাভেল মেশিন আবিষ্কার হয়, পঁচাত্তরের ঘটনা নিজের চোখে দেখার চেষ্টা করতাম। সে সময় কিছু মানুষ মিষ্টি বিতরণ করেছিল বলে শোনা যায় । আমি তাদের কাছ থেকে মিষ্টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×