somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার কামলা লাইফ..........(2)

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জীবনে ব্যাটারি কামলার পাশাপাশি আরেকটা কামলা দিয়েছি। সেটা ছিল এক জঘন্য অভিজ্ঞতা। আমার ধারনা নিতান্ত নিরুপায় না হলে মানুষ এই কামলাটা দেয় না। ওটা ছিল কিচেন হ্যান্ড, তাও ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে। যারা কাজ করেছেন তারা ছাড়া এই দুঃখের কথা কেউ বুঝবে না।

অনেক আশা নিয়ে গিয়েছিলাম। রেস্টুরেন্টে ঢুকেই সমস্ত আশা এক বিশাল ধাককা খেল। আমার কাজের জায়গা রেস্টুরেন্টের কোনার এক অন্ধকার কুঠুরিতে। কোন রকমে একজন মানুষ দাঁড়াতে পারে সেখানে, আর পাশে রয়েছে বিশাল ফ্রিজ।সেখানে থেকে ভেসে আসছিল কনকনে ঠান্ডা বাতাস। বলার অপেক্ষা রাখে না যে কামলা দিতে আসার সময় কোন গরম কাপড় সঙ্গে আনার প্রয়োজনবোধ করিনি।

যাই হোক কাজ শুরু করলাম। আমার বন্ধু আগেই সতর্ক করে দিয়েছিল যে 8 ঘন্টার টাকা পেলেও কাজ করতে হবে মোটামুটি 12 ঘন্টার মত। তাতেও আপত্তি নেই। আমি সবকিছুতে রাজি। অনেকদিন আগের একটা দ্্বিতীয় যুদ্ধের ছবি দেখেছিলাম, নাম ছিল "দ্য লংগেস্ট ডে"। ডি-ডে ল্যান্ডিং নিয়ে কাহিনী। খোলা বীচে গুটি কয়েক আমেরিকান সৈন্যের জামর্ান মেশিনগানের হাত থেকে সারাদিন বেঁচে থাকার রোমহর্ষক কাহিনী। আমার জীবনের "দ্য লংগেস্ট ডে" ছিল ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টের কাজ করার দিন। এখনও মনে মনে ভাবি কিভাবে টিকে ছিলাম সে 12 ঘন্টা। সিনেমার নায়কের মতো খোলা বীচ ছিল না, ছিল ছোট্ট একটা পানি ভেজা স্যাঁতসেঁতে রুম। আমার আশেপাশে রক্তাক্ত মৃতদেহ ছিল না, ছিল খাবারের উচ্ছিষ্ট পরিপূর্ণ দুর্গন্ধযুক্ত এক পরিবেশ। আমার হাতে বেয়োনেট সংযুক্ত রাইফেল ছিল না, ছিল বাসন মাজার ডিটারজেন্ট আর ছোবা (দুঃখিত আঞ্চলিক শব্দ ব্যবহারের জন্য। ভালো বাংলা মনে আসছে না)। রাইফেল দিয়ে আমি জামর্ান সৈন্য মারিনি, ছোবা দিয়ে পরিষ্কার করেছি উচ্ছিষ্টপূর্ণ প্লেট। এক দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা। উপায় ছিল না, তাই চুপচাপ কাজ করে গিয়েছিলাম।

রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে গেলে যখন ঝাড়ু ধরিয়ে দিয়ে বলা হলো পুরা রেস্টুরেন্ট পরিষ্কার করার জন্য, চোখের পানি ধরে রাখতে পারি নি। কিছু করার ছিল না। ডারউইন সাহেব শ'কয়েক বছর আগে বলে দিয়েছেন, "সাভর্াইভাল ইজ ফর দ্য ফিটেস্ট।" বাপের হোটেলে কাজ-কর্ম ছাড়া ফ্রি লাইফ এনজয় করার মজাটা তখন হাড়ে হাড়ে বুঝেছিলাম।

আমি পেরেছি, আরও দশজন পেরেছে, ভবিষ্যতে যারা আসবেন তারাও পারবেন। আমরা যারা স্কলারশিপ ছাড়া বিদেশে আসি মিনিমাম ফিনান্সিয়াল সাপো র্ট নিয়ে তাদের হাতে খুব কম অপশন-ই থাকে। তবে স্বীকার করতে দ্্বিধা নেই, এই তথাকথিত অডজব আমাকে কিছু মূল্যবান শিক্ষা দিয়েছিল। তাহলো- আত্নবিশ্বাস, নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার, আত্ন উপলব্ধি ও জীবনের কঠিন বাস্তবতার স্বরূপ।

যারা মনে করেন তারা অডজব করেন, দয়া করে এ নিয়ে নিজেকে ছোট মনে করবেন না। নিজের অজান্তে এ থেকে যে শিক্ষা আপনি লাভ করছেন তা একসময় অবশ্যই উপলব্ধি করবেন ও সেদিন এর মর্ম বুঝতে পারবেন। আমি কোন জবকেই অডজব বলি না বা দাবি করি না আমি "ইভেনজব" করি। প্রতিদিন গুনে গুনে নয় ঘন্টা কাজ করা লাগে, যার জন্য মাস শেষে বেতন পাই। এজন্যই দিন শেষে বাসায় এসে মাকে ফোন দিয়ে বলি "আম্মা কামলা দিয়ে আসলাম।"

পুনশ্চ: ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে কাজ করে ওখানে খাওয়ার মানসিকতাটা হারিয়েছি। এত নোংরা থাকে ওদের রান্নাঘর বলার মত না। কেউ আমাকে ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে খাওয়ার কথা বললেই আমার চোখে ভাসে স্যাঁতসেঁতে রান্নাঘর, চারিদিকে উচ্ছিষ্ট ও আবর্জনা , ময়লা প্লেটে খাবার পরিবেশন করার মত দৃশ্য। ভদ্্রতার সাথে প্রত্যাখান করি আমন্ত্রন।


(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ৯:২৫
২৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×