somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডেস্টিনেশন: বাংলাদেশ ..........(1)

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ৮:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক কাহিনী করে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে যাচ্ছি 2 বছর 3 মাস পর। নাটক কম হলো না। গতকাল বৃহষ্পতিবার অনেক কাঙ্ক্ষিত ই মেইলটা পেলাম। যার সারমর্ম হলো আমার ছুটি হয়ে গেছে ও আমি বাংলাদেশে যেতে পারি। মেইলটা পেয়ে একটু থতমত খেয়ে গিয়েছিলাম।তবে জ্ঞান ফেরত পেতে সময় বেশি লাগেনি।লোপ পাওয়া জ্ঞান ফেরত পেতেই একের পর এক ফোন দিতে থাকলাম ট্রাভেল এজেন্সিতে। কোথায় দেই নি ব্রিসবেন-মেলবোর্ন- সিডনি কোথাও বাকি রাখি নি। কিন্তু তাদের বক্তব্য হলো টিকেটের দাম একটু বেশি। দামটা শুনে একটু দমেই গিয়েছিলাম, এ যদি হয় একটু বেশি, তাহলে আকাশ প্রমান বেশি কাহাকে বলে? কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সামর্থ্যের মাঝে যেটা আছে তা হলো সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স। সেটাতে আছে সিঙ্গাপুরে 72 ঘন্টার ট্রানজিট।

আল্লাহ উপরে, নিচে আমি আর পাশে আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা, সমুদ্্রে পেতেছি শয্যা, শিশিরে ভয় কি? কেটে ফেললাম ফটাফট । কথা হলো আমার বড়বোনের বিয়ে 17 তারিখ, বৌভাত 18 তারিখ, আর আমি মফিজ পৌঁছাব 19 তারিখ রাতে। তাও সই। ট্রাভেল এজেন্টকে বললাম 17 থেকে 19 তারিখ পর্যন্ত যত ফ্লাইট সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকা যাবে তাতে যেন আমার নামটা ওয়েটিং লিস্টে প্রথমে থাকে, যেন কেউ ট্রিপ ক্যান্সেল করলে আমার কপাল খুলে যায়। এজেন্ট বাবাজী তাও করল।

পরবতর্ী চিন্তা ছিল, আমার কপালে মাশাল্লাহ যেই বিশাল এক ফুঁটো আছে তাতে 72 ঘন্টা সিংগাপুরে কাটাতে হলে আমি খুব একটা অবাক হব না। তাই দিলাম ফোন সিঙ্গাপুর এ্যাম্বেসিতে। সেখানের সুমিষ্ট কন্ঠধারী মহিলা জানিয়ে দিলেন সবুজ রঙের পাসপোর্টে সিংগাপুর নামক ফকিরের দেশে বিনা ভিসায় ঢুকা যাবে না। মগের মুল্লুক আর কি!! ফকিরনির দেশে যতসব উলটা-পালটা নিয়ম থাকে, সেটা সিংগাপুর এ্যাম্বেসি আরেকবার প্রমান করল। যাই হোক আমাকে বলা হলো ভিসা ফি দিয়ে যদি আমি পাসপোর্টের ফটোকপি উনাদের নিকটে পাঠিয়ে দেই, তাহলে তারা আমার পাসপোটের্ র রেফারেন্স দিয়ে সিংগাপুরের ইমিগ্রেশনে ইনফরমেশন পাঠিয়ে দেবে যা আমার পাসপোর্টে ভিসা নামক লেবেল লাগাতে সাহায্য করবে। আমি মনে মনে বললাম "মামি ঘুঘু দেখেছ, ফাঁদ দেখনি, বিপদে পড়ে তোমার স্বদেশী আমার কাছে আসুক, দেখিয়ে দেব বাংগালি কি চিজ!"।

বেটির সাথে ঝগড়া করে কোন ফায়দা নেই, তাই দৌড়ালাম বাসায় পাসপোর্ট আনতে। অফিসে বললাম লাঞ্চে যাচ্ছি। পাসপোর্ট এনে ফ্যাকস করলাম ফটোকপি। তারপর বুক করলাম হোটেল। এয়ারপোর্টে ও এয়ারপোর্টের বাইরে। অবসহা বুঝে ব্যবসহা করব ভেবে।বাসায় ফিরলাম 6টায়, ট্যাক্সি কল করলাম 9টায়। আর ঝড়ের বেগে জিনিসপত্র গুছালাম।ট্যাক্সি নিয়ে এয়ারপোর্টে আশার সময় মনে হতে লাগল কি কি নিয়ে আসি নি। গুল্লি মারি!! দেশে যাচ্ছি। রাত 11.45 ের প্লেনে উঠে সিংগাপুরে আসলাম লোকাল সময় 5.30এ।

(চলবে)

পুনশ্চ: এই লেখাটা সিংগাপুর এয়ারপোর্টে বসে মাছি মারার সময় লেখা। লেখাটির সময় চ্যাটে সংগী ছিল আমার জামর্ানী প্রবাসী বন্ধু ও কানাডা প্রবাসী ছোট ভাই সেলিম।লেখাটা শুরু করেছিলাম ক্রিডের "মাই ওন প্রিজন" গানটি দিয়ে, এখন চলছে " পওলা আবদুলের "রাশ রাশ"। আর কোন কাজকর্ম নেই তো, তাই আরও এক চককর মেরে এসে লেখাটা কন্টিনিউ করব। এখন টপিক খুঁজছি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল-জলন্ত

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
অলকা থাকে আমেরিকার ফারগো নামক শহরে। খুবই ছোট শহর। শহরটি ছবির মতন সুন্দর। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত পড়ে। এলিন নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে অলকা দুই রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩

গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16



১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুটি হাসিখুশি গল্প: ফাজিল কানাডিয়ান ও মহা সিরিয়াস কানাডিয়ান

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৩৩


হুমায়ূন আহমেদের একটা গল্প ছিল তাদের মাকে নিয়ে। তাদের মেঝ ভাই জাফর ইকবাল তখন আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে থাকেন। তাদের মা ছেলের কাছে বেড়াতে গিয়েছেন। বিকেলে তিনি একা একা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রশ্নের আগুন যুক্তির মহাযাত্রা :প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য ২য় পর্ব ।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:০৮


আদিতে ছিল প্রশ্ন
অন্ধকার আকাশের তলে দাঁড়িয়ে মানুষ
চেয়ে দেখেছিল নক্ষত্রের দিকে
মনে তার জেগেছিল বিস্ময়
কে জ্বালালো এই দীপ
কেন ঘোরে পৃথিবী, কেন নামে বৃষ্টি
কেন জন্ম, কেন মৃত্যু
কেন এই অনন্ত চলা?
উত্তর ছিল না হাতে
ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×