আল্লাহ উপরে, নিচে আমি আর পাশে আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা, সমুদ্্রে পেতেছি শয্যা, শিশিরে ভয় কি? কেটে ফেললাম ফটাফট । কথা হলো আমার বড়বোনের বিয়ে 17 তারিখ, বৌভাত 18 তারিখ, আর আমি মফিজ পৌঁছাব 19 তারিখ রাতে। তাও সই। ট্রাভেল এজেন্টকে বললাম 17 থেকে 19 তারিখ পর্যন্ত যত ফ্লাইট সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকা যাবে তাতে যেন আমার নামটা ওয়েটিং লিস্টে প্রথমে থাকে, যেন কেউ ট্রিপ ক্যান্সেল করলে আমার কপাল খুলে যায়। এজেন্ট বাবাজী তাও করল।
পরবতর্ী চিন্তা ছিল, আমার কপালে মাশাল্লাহ যেই বিশাল এক ফুঁটো আছে তাতে 72 ঘন্টা সিংগাপুরে কাটাতে হলে আমি খুব একটা অবাক হব না। তাই দিলাম ফোন সিঙ্গাপুর এ্যাম্বেসিতে। সেখানের সুমিষ্ট কন্ঠধারী মহিলা জানিয়ে দিলেন সবুজ রঙের পাসপোর্টে সিংগাপুর নামক ফকিরের দেশে বিনা ভিসায় ঢুকা যাবে না। মগের মুল্লুক আর কি!! ফকিরনির দেশে যতসব উলটা-পালটা নিয়ম থাকে, সেটা সিংগাপুর এ্যাম্বেসি আরেকবার প্রমান করল। যাই হোক আমাকে বলা হলো ভিসা ফি দিয়ে যদি আমি পাসপোর্টের ফটোকপি উনাদের নিকটে পাঠিয়ে দেই, তাহলে তারা আমার পাসপোটের্ র রেফারেন্স দিয়ে সিংগাপুরের ইমিগ্রেশনে ইনফরমেশন পাঠিয়ে দেবে যা আমার পাসপোর্টে ভিসা নামক লেবেল লাগাতে সাহায্য করবে। আমি মনে মনে বললাম "মামি ঘুঘু দেখেছ, ফাঁদ দেখনি, বিপদে পড়ে তোমার স্বদেশী আমার কাছে আসুক, দেখিয়ে দেব বাংগালি কি চিজ!"।
বেটির সাথে ঝগড়া করে কোন ফায়দা নেই, তাই দৌড়ালাম বাসায় পাসপোর্ট আনতে। অফিসে বললাম লাঞ্চে যাচ্ছি। পাসপোর্ট এনে ফ্যাকস করলাম ফটোকপি। তারপর বুক করলাম হোটেল। এয়ারপোর্টে ও এয়ারপোর্টের বাইরে। অবসহা বুঝে ব্যবসহা করব ভেবে।বাসায় ফিরলাম 6টায়, ট্যাক্সি কল করলাম 9টায়। আর ঝড়ের বেগে জিনিসপত্র গুছালাম।ট্যাক্সি নিয়ে এয়ারপোর্টে আশার সময় মনে হতে লাগল কি কি নিয়ে আসি নি। গুল্লি মারি!! দেশে যাচ্ছি। রাত 11.45 ের প্লেনে উঠে সিংগাপুরে আসলাম লোকাল সময় 5.30এ।
(চলবে)
পুনশ্চ: এই লেখাটা সিংগাপুর এয়ারপোর্টে বসে মাছি মারার সময় লেখা। লেখাটির সময় চ্যাটে সংগী ছিল আমার জামর্ানী প্রবাসী বন্ধু ও কানাডা প্রবাসী ছোট ভাই সেলিম।লেখাটা শুরু করেছিলাম ক্রিডের "মাই ওন প্রিজন" গানটি দিয়ে, এখন চলছে " পওলা আবদুলের "রাশ রাশ"। আর কোন কাজকর্ম নেই তো, তাই আরও এক চককর মেরে এসে লেখাটা কন্টিনিউ করব। এখন টপিক খুঁজছি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


