যাই হোক শেষ পর্যন্ত মান-সম্মান নিয়ে বেঁচে আসা গেছে। ধন্যবাদ সাকিব ও আশরাফুলের সুন্দর ব্যাটিঙকে। আশরাফুল যে ক্যাচ মিস করেছে তা অমার্জনীয় এবং জানি না সে আজ কি রকম ব্যাটিং করেছে যেহেতু খেলার শেষাংশটুকু দেখা হয়নি। আশাকরি ভালই খেলেছে ও দায়িত্ব-জ্ঞানহীন কোন শট খেলে নি। তবে বলতে দ্্বিধা নেই তামিম-নাফিস-আফতাব ত্রয়ীর খেলা দেখে আমি শঙ্কিত। বিশেষ করে তামিম-আফতাবের বলপ্রতি শট মারার প্রবণতা ও নাফিসের বার বার পরাস্ত হওয়ার দৃশ্য ছিল বেজায় দৃষ্টিকটু। বারমুডা অভিজ্ঞতার অভাবে পেরে ওঠেনি। বিশ্বমানের টিম হলে 3/37 না হয়ে 3/10 হতে পারত। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে ব্যাপক চাপে পড়ে যেত এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।
যাইহোক, আমরা জিতেছি। ভারতকে একটা শিক্ষা দিতে পেরেছি। এখন লক্ষ্য সামনে এগিয়ে যাওয়া। আগামী 31শে মার্চ সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ খেলবে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। আমরা তো মনে-প্রাণে চাইব সোফিয়া গার্ডেনের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পেশাগত দল।কোন দলকেই তারা ছেড়ে কথা বলে না। তার উপর আছে বাংলাদেশের সাথে হারার নির্মম স্মৃতি। অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়া ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায় হলো সোফিয়া গার্ডেনের সেই ঐতিহাসিক ঘটনা। তাই আমি নিশ্চিত 31 তারিখে অস্ট্রেলিয়া প্রথম থেকেই বাংলাদেশের উপর ঝাঁপিয় পড়ে প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করবে। গিলক্রিস্ট-হেইডেন-পন্টিং-সাইমন্ডসদের বিরুদ্ধে যে লোপ্পা ক্যাচ ফেলা কি অপরাধ ও ম্যাকগ্রা-টেইট-হগদের বিরুদ্ধে যথেচ্ছা শট খেলার মাশুল যে কি হতে পারে তা নাফিস-আফতাব-তামিম-আশরাফুল-রাসেলদের একটু মনে করিয়ে দেয়া যেতে পারে।
আমরা এখন সুপার এইট খেলছি। তাই খেলার মান হতে হবে অস্ট্রেলিয়া-দ. আফ্রিকার মত। বারমুডা -কেনিয়া-জিম্বাবুয়ে-আয়ারল্যান্ডের মানের সাথে নিজেদের তুলনা করার অবকাশ এখন আর নেই। তাই বারমুডার বিরুদ্ধের এই হতদরিদ্্র পারফরমেন্সের কথা খেলোয়াড়দের ভুলে যাওয়া উচিত ও নিজেদের সংশোধন করে নেয়া উচিৎ এখনই। যে সুযোগ আজকে বার বার বারমুডার খেলোয়াড়রা দিয়েছে, সুপার এইটের ম্যাচে তার পুনরাবৃত্তি যে ঘটবে না তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর আজকে যেসব ভুল একাধিকবার করে বেঁচে যাওয়া গেছে, এরপর থেকে তার পরিণতি কি হতে পারে, আশাকরি টিম ম্যানেজমেন্ট খেলোয়াড়দের কানে সেগুলো আরেকবার বলে দিয়ে আমাদের বাধিত করবেন।
"শাবাশ বাংলাদেশ"। আশাকরি সুপার এইটের প্রতিটি দিন হোক এক একটি রাবন বধের দিন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




