................................
কামালের আজ কাজ করতে ভালো লাগছে না। বিদেশে আসার পর প্রতিদিন তার মনে হয় জীবনটা অর্থহীন। প্রচন্ড মানসিক চাপে ভুগে সে। একা থাকার অনেক যন্ত্রনা আছে। একাকীত্বে মানুষ মানসিক রোগী হয়ে যেতে পারে। কামালের কেন জানি মনে হয় দিন কে দিন সে মানসিক রোগী হয়ে যাচ্ছে। অবশ্য তার ইদানিংকালের কৃতকর্মগুলো দেখলে যে কেউ মেনে নেবে যে সে একজন মানসিক রোগী।হাড়ভাঙ্গা খাটুনি ও দিনশেষে বাড়ি ফিরে রুটিন কাজ করতে করতে কামাল আজ বিরক্ত। মাঝে মাঝে মনে করে চাকরি ছেড়ে দিয়ে দেশে চলে যাবে। হায়রে দেশ!!!!!!!!! দীর্ঘশ্বাস বুক চিরে বের হয়ে আসে।
প্রবাসে কামালের আগমন সাত বছর আগে।এইচ এস সি পাশ করার পর বাবা-মা তাকে দেশে থাকতে দেন নি। সে নিজেও চায় নি দেশে পচে মরতে। তাই চলে আসে প্রবাসে। খুব কঠিন ছিল সে দিনগুলো। কাজ আর পড়াশুনা। পড়াশুনা আর কাজ। টিউশন ফি যোগাড় করার জন্য বেআইনীভাবে 3 টা কাজ করত কামাল। তাই পড়াশুনার সময় খুব একটা পেত না। ফলে রেজালট খারাপ হতে লাগল। এক সময় চলে গেল খাদের শেষ প্রান্তে। চূড়ান্ত পতনের পূর্বে কামাল সিদ্ধান্ত নেয় দেশে যাওয়ার। যদি মা-বাবাকে বুঝতে পারে তার ব্যর্থতার কথা, তাহলে হয়ত তারা কামালকে দেশে ফিরে যেতে বলতে পারেন। কামালেরও ইচ্ছে তাই ছিল। দেশে এসে কিছু করার। কিন্তু বিধিবাম। দেশে গিয়ে সে বুঝতে পারে বাবা-মার প্রত্যাশার চাপ। তাই কিছু না জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রবাসে ফিরে আসে কামাল।
দুই
........................
ঘুম থেকে জেগে উঠে নিজেকে খুব সুখী মনে হয় জাকিরের। পাশে শুয়ে থাকা মিলির দিকে তাকিয়ে ভাবতে থাকে দেশে ফেলে আসা বউয়ের কথা। অনেক বলেও জাকির তার বিবাহিত স্ত্রী কল্পনাকে এখানে নিয়ে আসতে পারে নি। মিলিও বিবাহিত ও মিলির 3 বছর বয়সী একটা মেয়ে আছে। জাকির তার এই বর্তমান অবসহানের জন্য নিজেকে দায়ী মনে করে না। সে বরাবরই কল্পনাকে চলে আসতে বলেছে। কিন্তু কল্পনার এক কথা সে তার অসুসহ মাকে ছেড়ে প্রবাসে আসতে পারবে না। তাই বার বার সে জাকিরকে দেশে ফিরে আসতে বলে। জাকির যে পরকীয়ায় মত্ত এটা অবশ্য কল্পনা জানে না। এরকম কিছু হতে পারে তা কল্পনা কখনও চিন্তাও করে নি।
ধুর, এসব চিন্তা করতে ভালো লাগছে না। জাকির পাশ ফিরে মিলির দিকে তাকিয়ে ভাবে সেও একজন পুরুষ। তার চাহিদা আছে। কল্পনা সে চাহিদার কথা একবারও ভেবে দেখেনি। ভাবে নি তার কষ্টের কথা। কিন্তু মিলি তাকে সব দিয়েছে। ভালোবাসা, জৈবিক তৃপ্তি, মানসিক সান্তনা সবকিছু। আর মিলির স্বামীটা একটা গাধা। মেয়েটাকে একা রেখে এদিক-ওদিক চাকরির প্রয়োজনে ঘুরে বেড়ায়। আরে ব্যাটা টাকা-পয়সাই কি সব? বউয়ের চাহিদা দেখবি না?
চোখ কচলে আড়মোড়া ভেঙ্গে উঠে বসে জাকির। কাজে যেতে হবে। আজকে আবার বাসায় তার রান্নার শিডিউল। কামাল গতকাল পই পই করে বলে দিয়েছে রান্না যেন থাকে রাতে বাসায়। কামালের রাতের শিফটে কাজ আছে। খুবই ব্যস্ত একটা দিন কাটাতে হবে আজ। হঠাৎ জাকিরের জৈবিক ক্ষুধা মাথা চাড়া দিয়ে উঠে। মিলিকে জাগাবে নাকি? নাহ থাক...। সময় নেই। দেরি হলে টমাস চেঁচামেচি করে।বিছানা ছেড়ে উঠে বাথরুমের দিকে রওয়ানা হয় জাকির।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



