somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দাসব্যবসা

০৩ রা এপ্রিল, ২০০৭ রাত ৯:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"জন ওয়েসলি তার 1744 সালে মুদ্্রিত বই থটস আপঅন স্লেভারিতে লিখেছেন দাসদের কিভাবে সংগ্রহ , পরিবহন ও কি ধরণের আচরন তাদের সাথে করা হত আমেরিকাতে পাচারকালে।
(1) প্রথমে আসা যাক, কিভাবে তাদের সংগ্রহ করা হত। একটা অংশকে ছল-চাতুরি করে নেয়া হত। জাহাজের ক্যাপ্টেনরা কখনও কখনও নিগ্রোদের জাহাজে আমন্ত্রণ জানাত ও তারপর তাদের আর ফিরে যেতে দিত না। কিন্তু এরচেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক কে জোরপূর্বক সংগ্রহ করা হত। খ্রিস্টানরা সাগরপাড়ে নামার পর পরই যত সম্ভব পুরুষ,মহিলা, বাচ্চাদের ধরে ফেলত ও আমেরিকায় পাচার করে দিত।1551 সালের দিকে ইংরেজরা ব্যবসা শুরু করে গিনিতে সোনা ও হাতির দাঁতের বিনিময়ে, পরবতর্ীতে তারা মানুষের বিনিময়ে ব্যবসা করা চালু করে। 1556 সালে স্যার জন হকিন্স দু'টো জাহাজ নিয়ে কেপ ভার্ডের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন ও সেখানে পৌঁছে 80 জনকে সমুদ্্রতীরে পাঠিয়ে দেন দাস ধরে আনার জন্য এই বলে যে "তাদের শহর পুড়িয়ে দাও ও মানুষদের ধরে আন।" কিন্তু টারার প্রবল বাধার সম্মুখীন হয় ও তাদের 7 জন মারা যায়, কিন্তু তারা 10 জন নিগ্রোকে ধরতে সক্ষম হয়। তাই তারা অন্যত্র যাত্রা করে , যখন পযর্াপ্ত দাস সংগৃহীত হয়, তখন তারা ওয়েস্টইন্ডিজে গিয়ে দাসদের বিক্রি করে।

(2) কিছুকাল পরে ইউরোপিয়ানরা আরও সহজ উপায় বের করে দাস সংগ্রহের জন্য। তারা বিভিন্ন গোত্রকে অন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে উদ্্বুদ্ধ করত এবং যুদ্ধ শেষে বন্দীদেরবিক্রি করে দিতে উৎসাহ দিত।কিন্তু তখন পর্যন্ত কদাচিত যুদ্ধ হত ও পরিবেশটা বেশ শান্তিপূর্ণ ছিল।কিন্তু শ্বেতাঙ্গরা নিগ্রোদের মদ ও লোভ নামক দুইটি জিনিস শিখিয়েছিল, যার ফলে তাদেরকে ভাড়া করে অন্যজনকে বিক্রি করাটা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছিল।এমনকি রাজারাও নিজেদের প্রজাদের বিক্রি করতে পিছুপা হত না। তাছাড়া কিছুসংখ্যক আদিবাসী ছিল যারা অর্থের বিনিময়ে নিজেদের মানুষকে দাসত্বের শৃংখলে বন্দী করতে দ্্বিধাবোধ করত না।তারা রাতের অন্ধকারে লোকালয় থেকে একটু দূরের ঘরবাড়ি ঘেরাও করে মানুষ সংগ্রহ করত।এছাড়া অনেকসময় প্রতিবেশীরা ছোট বাচ্চাদের অপহরণ করত, বা রাস্তা, জঙ্গল বা ক্ষেতে কর্মরত মানুষকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে আসা হত।"

দাসব্যবসা নিষিদ্ধের 200 বছর পূর্তি হলো এবছর। 1807 সালে ইংরেজরা এই ব্যবসা নিষিদ্ধ ঘোষনা করে।কিন্তু পতর্ুগীজ ও স্প্যানিশরা এরপর আরও 50 বছর এই ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। বেদনাদায়ক এই ব্যবসাকে বর্ণবাদের হোতা হিসাবে অনেকে চিহি্নত করেন। 200বছর পূর্বে নিষিদ্ধ হলেও তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর মানুষ আজও পশ্চিমা দাসত্বের শৃংখল থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পারে নি।

উপরের অংশটুকু অনুবাদ করেছি GBLvb থেকে। আগ্রহ ও সময় থাকলে পড়ে দেখতে পারেন। 1997 সালের স্টিভেন স্পিলবার্গের নির্মিত "Amistad" চলচিত্রটি দাসব্যবসার অনেক অন্ধকার দিক তুলে ধরেছে। আগ্রহীরা দেখতে পারেন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×