ঢাকা শহর। আমার দৃষ্টিতে অদ্ভুত একটা শহর।হুমায়ুন আহমেদ এর হিমু যেমন এ শহরে মিশে থাকতে পারে কর্মব্যাস্ত মানুষগুলো ঠিক কেমন করে যেন খাপ খেয়ে যায় এই শহরের সাথে। আমাকে এই শহরের যে বিষয় সবচেয়ে বেশি বিস্মিত কএ তা হল এ শহরের মানুষ। প্রতিদিন একি রকম চিত্র কিন্তু তারপরেও কি বিস্ময়কর নতুনত্ব।ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই একদল মানুষ গাড়ি নিয়ে ফিলিং স্টেশনের সামনে লাইন ধরে থাকে। আবার রাস্তার ওপাশ দিয়ে একদল মানুষ পঙ্গপালের মত ছুটে চলে।এদের গন্তব্য গার্মেন্টস।না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না যে কিভাবে এরা দেশের অর্থনীতির হাল ধরে আছে। স্কুলে যাওয়া ছোট ছোট বাচ্চারা এখন গাড়িতেই ঘুমায় দেখতে মনে হয় একদম দেবশিশু।আবার আরেক দল শিশু যাদের আমরা পথশিশু হিসাবে চিনি তারা ও বেরিয়ে পড়ে খাবারের অন্নেশনে।অবশ্য তাদের চোখে ঘুম থাকে না কিন্তু একটা বুলি বারবার আওড়াতে থাকে “দুইডা টাকা দেন ভাত খামু”। কি বিচিত্র দেশ কি বিচিত্র সমাজ দুই দল শিশু এরা আওয়ামীলীগ ও না বি. এন.পি ও না পার্থক্য এক জায়গায় গাড়ির জানলার এপার ওপার। বাসে বসে থাকা যাত্রীদের চেহারাও দেখার মত সবাই কেমন যেন বিরক্তিভাব ফুটিয়ে রাখে সব সময়। কিন্তু এই ভিড়েই পাশাপাশি সিটে কপোত-কপোতীকে বসে থাকতে দেখা যায়। অবশ্য এদের মুখে সব সময় হাসি হাসি ভাব লেগেই থাকে সব সময়। গাড়ির হেল্পার মাঝে মাঝেই জানিয়ে দেই “মামা ডাইনে চাপান বামে পেলাস্টিক”। এ শহরের এলাকার নামগুলো কেমন অদ্ভুত। যেমন ধরা যাক শান্তিনগর সারাদিক কিচিরমিচির লেগে আচ্ছে। যদিও সেই কিচির মিচির পাখির নয় মানুষের। এক রিকশা আরেক রিক্সা কে ধাক্কা মেরে শুরু করে দেই গণ্ডগোল। কেউ কাউকে ছেড়ে কথাবলার পাত্র নয়।আসলে এই এলাকার নাম শুধু মাত্র শান্তিনগর কিন্তু কেউ এক ফোটা শান্তি খুজে পাবে না। আজ ভোরে অবাক করা একটা বিষয় খেয়াল করলাম। একদল চড়ুই পাখি বসে আচ্ছে আমাদের এলাকার গলিতে।মজার ব্যাপারটা হল চড়ুই পাখিগুলোর মধ্যে কোন রকম ব্যাস্ততা নেই। ঢাকা শহরের পাখি কাক। ঢাকা শহর এর চারপাশের কথা চিন্তা করলে কাক পাখি মানানসই মনে হয় চড়ুই পাখি ঠিক খাপ খায় না। আবেগে আপ্লুত না হয়ে পাড়লাম না কজখন কিছুদিন আগে বসুন্ধারা আবাসিক প্রকল্পে ডাহুক, ফিঙ্গে দেখলাম। ঢাকা শহরে এই পাখি দুইটি দেখব কখনও ভাবি। এসব পাখি এখন গ্রামে দেখা পাওয়া ও ভার হয়ে দারিয়েছে। তাহলে কাকের শহর ঢাকা এরকম পুরাতন চিন্তা ভাবনা থেকে সরে আস্তেই হচ্ছে। আমার মা প্রতিদিন সকালে কিছু ভাত ছিটিয়ে দেন বারান্দায়। দুটি চড়ুই পাখি ভাত খুটিয়ে খুঁটিয়ে খায়। আমি চায়ের কাপ নিয়ে নিদিষ্ট দূরতে দারিয়ে তাদের খাওয়া দেখি। একদি ইচ্ছা আছে পাখি দুটিকে হাতে নিয়ে আদর করে দেব।বারান্দা প্রসঙ্গ যখন এসেই পরল কিছু লেখা হোক মনের কথা।আমি মাঝে মাঝেই খেয়াল করি অধিকাংশ বাড়ির বারান্দা ফাঁকা। হয়ত ঘরে এসি লাগানোর জন্য কেউ হয়ত বাইরে হওয়া খেতে আসে না। খুব জানতে ইচ্ছা করে তারা কি আকাশের দিকে তাকায়। আকাশ কে কি মনের কথা বলে। তবে যায় হোক যেমনি হোক আমার ঢাকা আমাদের ঢাকা এবং গর্ব করার একটা শহর ঢাকা শহর।
আলোচিত ব্লগ
৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি
ক্ষমতার পালাবদল হয়, কিন্তু ইতিহাসের কাঠগড়া কখনো খালি থাকে না
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নাটকীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন
তখন
তখন
সাইফুল ইসলাম সাঈফ
তখন আলিফ লায়লা হতো
দেখতাম বিটিভিতে বাংলা মুভি
মিনা কাটুন, হারকিউলিস, রবিন হুড
নাটক, ইত্যাদি, বেশ আনন্দ পেতাম।
খেলাধুলা করতাম বন্ধুদের সাথে
বিবিধ রকম, সবসময় থাকতাম প্রাণবন্ত!
যে বাড়িতে ভাড়া থাকতাম তাদের
একটি সাদা-কালো টিভি... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের শাহেদ জামাল- ১০১

এক বিদেশি জাহাজ মধুমতি নদীতে একটু একটু করে ডুবে যাচ্ছে।
সেই ডুবে যাওয়া জাহাজ দেখার জন্য শাহেদ জামাল ছুটে চলেছেন- মধুমতি নদীতে। জাহাজ এর নাম স্টিব অস্টিন। শাহেদ জাহাজটির... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাওকে নিয়ে চীনের আবেগ, শেখ মুজিবকে নিয়ে আমাদের বিদ্বেষ

ফরাসি ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তাঁকে নিয়ে কোন মিমটি দেখে সবচেয়ে বেশি হাসি পেয়েছিল। ফরাসি অনুষ্ঠান The Bridge এর ব্যাকস্টেজ ভিডিওতে তিনি বলেন, একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন
ছোটগল্প - চক্ষুহীন লোকটি

মি পারসনস যখন হোটেল থেকে বের হলেন, ভিক্ষুকটি তখন রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে।
সে ছিল একজন অন্ধ ভিক্ষুক। অন্ধদের চিরাচরিত সাদা ছড়ি ছিল তার হাতে। সেটা দিয়ে সামনের পথটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।