somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাস্তব মত্স্যকন্যার সন্ধানে-৩

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


হ্যালো, সবাই আশা করি ভালো আছেন। আমার স্ক্যানার ঠিক মত কাজ করছে না। তাই আমি আগের সিরিজের অনুগামী হতে সমস্যা হচ্ছে। যাই হোক, আমি আপনাদের বেশী অপেক্ষা করতে দিতে রাজি না। তাই আমি আজ একটু মত্স্যকন্যাদের ইতিহাস কপচাবো। অবশ্যই আপনারা যেরকম ইতিহাস এতদিন জেনে এসেছেন তেমন কিছু না। এটা বলতে পারেন সম্পূর্ণ আলাদা ইতিহাস। থিয়োডর গ্যাচটের ‘Mermaids: Nymph of the Sea’ হতে সংকলিত। পড়ার আগে আমি আপনাদের একটু সতর্ক করতে চাই। এই ব্লগে এমন কিছু লেখা বা কন্টেন্ট থাকতে পারে which are SEXUALLY EXPLICIT in some manners. সুতরাং আপনি যদি এতে খারাপ বোধ করেন তাহলে ব্লগটি এভয়েড করাই আপনার জন্য ভালো হবে। টাইটেলে এইটিন প্লাস ট্যাগ দিয়ে বাড়তি পাঠক আনতে চাইনি বলেই আপনাকে এই বিড়ম্বনার সম্মুখীন করলাম। I am sorry about that.


Ok, শুরু করা যাক তাহলে। আপনি কি একটা জিনিস জানেন? পৃথিবীতে মারমেইডের আই-উইটনেসের সংখ্যা কিন্তু অনেক। এইসব সাক্ষীরা যেসব স্টেটমেন্ট এয় তার অফিসিয়াল ব্যাখ্যা হচ্ছে কিছুটা এমনঃ যে নাবিকরা হয়তো সিল, সি-লায়ন,মানাতিস, ওয়াল্রুস টাইপ প্রাণী দেখে কিন্তু মনে করেছে যে ঐটাকে একটা লেজ সমৃধ্ব মেয়ে বলে। যা থেকে আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় এইসব নাবিকেরা হয় মাতাল ছিল নতুবা খুবই অপটু ছিল। কিন্তু বাস্তবই দেখা গিয়েছে যে ক্রিস্টোফার কলম্বাস, হেনরি হাডসনের মত নাবিকরাও এমন সাক্ষী দিয়েছেন। এমনকি জন স্মিথ, যিনি কিনা পরবর্তীতে ভার্জিনিয়া গভর্নর হয়েছিলেন তিনিও মারমেইড দেখেছেন বলে দাবি করছেন। তো আমাদের কি এখন বিশ্বাস করতে হবে যে কলম্বাস সি-কাউ দেখে মনে করেছেন যে এটা আসলে মারমেইড? অথচ উনারা সবাই বিখ্যাত এবং জ্ঞানী নাবিক হিসেবেই সবার মাঝে সুপরিচিত। আপনি কোনটা বিশ্বাস করবেন সেটা আপনার ইচ্ছে। হয় উনারা গর্দভ অথবা মারমেইডের অন্য ইতিহাস থাকলেও থাকতে পারে। হুম, আমি এইখানে মারমেইডের অন্য ইতিহাস তুলে ধরবো। যা হয়তো সারা পৃথিবী সযত্নে গোপন করে চলেছে সহস্রাব্দি ধরে। যারা আই-উইটনেস হয়েছেন তাদেরকে অপদস্থ করার জন্য অন্য ধরনের যুক্তিও দেয়া হয়েছে। সি-কাউ অথবা অয়াল্রুসের যোনীর গঠন মহিলাদের যোনীর মতই। বলা হয় এরা হয়তো সি কাউ দের সাথে সঙ্গম করেছে, কিন্তু সেটাকে ভদ্র সমাজে একসেপ্ট করানোর জন্য সেটাকে মারমেড বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু এই ব্যাখ্যার সমস্যাটা হল হাজার হাজার মেশ-পালক তাদের মেষের সাথে সঙ্গম করে। কিন্তু এটাকে তারা কোন মিথলজিকাল ক্রিয়েচার হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করে না। তারা এটা স্রেফ গোপন করে ফেলে। এরকমই আরেকটা ব্যাখ্যা হচ্ছে এই নাবিকরা হয়ত অনেকদিন সমুদ্র বাসের কারণে এবং নারী সাহচর্যের অভাবে sex starved হয়ে দৃষ্টি বিভ্রমের স্বীকার হয়েছেন। কিন্তু এই ব্যাখ্যাও ধোপে টেকার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী না যেখানে অধিকাংশ আই-উইটনেস ডাঙ্গার অথবা এমন নাবিকদের যারা সমুদ্রে লম্বা সময় কাটাতো না। ইউরোপেই সবচেয়ে বেশী আই-উইটনেস পাওয়া যায়। এবং এরা মাছ ধরার জন্য তেমন দূরে যেত না। সুতরাং নারী সংসর্গের অভাব হওয়ার প্রশ্নই উঠেনা।


মারমেইড আই উইটনেসের রিপোর্ট সমগ্র ইউরোপ জুরেই পাওয়া গেছে। আমি এখানে শুধু মাত্র ঐতিহাসিক সাক্ষীদের কথা দেখাচ্ছি। আয়ারল্যান্ডে এদের বলা হয় ‘Merrows or Murirruhgachs’, কর্নওয়ালে বলে ‘Merrymaids’, শেটল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে বলা হয় ‘Sea-trows’, জার্মানিতে বলে ‘Sea-trows’।
স্ক্যান্ডিনেভিয়ান্সরা এদের Navmand বলে এবং রুশরা এদের রুসালকাস বলতেই বেশী পছন্দ করে। মারমেইড দেখার সাক্ষ্য সেই এন্সিয়েন্ট গ্রীক থেকে শুরু করে আজো পাবেন। এসব কি তাহলে সবই তথাকথিত sex starved এবং pervert লোকের কল্পনা? আই-উইটনেস মেয়েরা কি তবে লেসবিয়ান ছিল? গন-আই-উইটনেস কি তাহলে গন-erection? একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে বৈকি।


সেপ্টেম্বরের ৮, ১৮০৯ সালের The Times (তৎকালীন ইংল্যান্ডের পত্রিকা, নিউ ইয়র্ক টাইমস না কিন্তু) পত্রিকায় ইংল্যান্ডের এক রিটায়ার্ড মাস্টার লিখেন যে তিনি মারমেইড দেখেছেন। তিনি প্রথমে দেখেছিলেন যে এক নগ্ন নারী একটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ পাথরের উপর বসেছিলেন। জায়গাটি এতই বিপজ্জনক ছিল যে খুব ভালো সাঁতারুর পক্ষেও এমন জায়গায় যাওয়া সম্ভব না। তাছাড়া আরও অবাক করা বিষয় ছিল নগ্নতা। কারণ ঐ সময়ের ইউরোপে মেয়েরা পাব্লিক্লি নগ্নতার কথা কল্পনাও করতো না। যদিও তিনি এবং ঐখানে উপস্থিত লোকেরা প্রথমে এটাকে মানুষই ভেবেছিলো, কিন্তু তাদের ভুল ভাঙ্গে তখন যখন মারমেইডটি সমুদ্রে ঝাপ দেয় এবং এটির লেজ দেখা যায়।
আপনাদের কাছে আমি যেই বিচিত্র এবং অদ্ভুতুড়ে ইতিহাস উপস্থাপন করছি এই ইতিহাসের ভিত আরও মজবুত হয় এক ডাচ নাবিক হামেলের সাক্ষ্যের মাধ্যমে। ১৬৫৫ সালে কোরিয়ার শেঝু দ্বীপের পাশে হামেলের জাহাজ ‘স্পারয়ার’ ডুবে যায়। হামেল সহ জনা দশেক নাবিক কোনমতে বেঁচে শেঝু দ্বীপের ডাঙ্গায় ফেরেন। ঐ দ্বীপে উনারা প্রায় ১০ মাস ছিলেন। ঐ দ্বীপে পুরুষের সংখ্যা আশ্চর্যজনক ভাবে কম ছিল। এবং ঐ দ্বীপে বসবাসরত নারীদের জীবিকা উপার্জনের মাধ্যম ছিল সী-ডাইভিং করে সমুদ্রের রত্ন আহরণ করা। ঐ দ্বীপের বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে প্রতি বছরের একটি নির্দিষ্ট রাতে নাকি মারমেইডরা অই দ্বীপে আসে এবং রত্নের সন্ধান দিয়ে যায়। মানে বলে দেয় আরকি কোথায় ভালো ভালো শামুকের আস্তানা আছে। তাছাড়াও বছরের কোন কোন দিন হাঙরের আনা-গোনা হবে সেটাও বলে দেয়। আরেকটা আশ্চর্য করার মত জিনিস হল একটা সামুদ্রিক ক্যালেন্ডার। দ্বীপবাসীদের দাবী এটা মত্স্যকন্যারা দিয়ে যায়। এবং গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা বুঝেছেন যে আসলেই এটা এমন কিছু সামুদ্রিক গুল্ম দিয়ে তৈরি যেগুলো কিনা সমুদ্রের খুব গভীরে জন্মায় যেখানে মানুষ এখন পর্যন্ত তেমন একটা সাফল্য সহকার যাতায়াত করতে পারেনি। এই দ্বীপ নিয়ে সবার আগে হালেম লিখেন হল্যান্ড ফেরার পর। অবশ্য এখনও এই দ্বীপ আছে। আছে দ্বীপের বাসিন্দারাও। এখনও তারা আগের মতই জীবন যাপন করে।
এই বইটায় এমন আরো অনেক উইটনেসের কথা আছে। আছে অনেক মিস্টিক দ্বীপের কথা। আমি একে একে সময় মত প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়ার চেষ্টা করব।
অবশ্য উইলিয়াম বন্ড নামের এক লেখক তিনি এই বইয়ের কাহিনী কিছুটা বিকৃত করে নিজের প্যাগান ধর্ম প্রচারের জন্য ব্যবহার করেছিলেন। দেবী পূজা বা নারী পূজা সম্পর্কে জানেন নিশ্চয়ই? ঐযে ড্যান ব্রাউনের দ্যা লস্ট সিম্বল বা দ্যা ভিঞ্চি কোডে যেই ধর্মের কথা বলেছে।


আমি একটা ফোরাম থেকে জানার পর এই বইটা আমার চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে আনিয়েছি। ইট ইজ এ গ্রেট বুক।
যাই হোক, আজকের মত এখানেই থামছি। ফিরে আসবো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।
যারা আমাকে নিয়মিত সাপোর্ট করছেন তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। ধন্যবাদ সামুকেও। যারা দ্বিমত করেছেন তাদেরও ধন্যবাদ। ইভেন যারা রসাত্মক মশকারি করেছেন তাদেরও ধন্যবাদ। আমি অবশ্য মাঝে মাঝেই কমেন্টগুলো দেখে বুঝতে পারি না কোনটা আসলে মশকারি এবং কোনটা আসলে মন্তব্য। আর হ্যাঁ আমার লেখায় আমি যদি কারো অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে থাকি তাহলে আমি দুঃখিত। আমার লেখাগুলো খুবই সফিসটিকেটেড এঙ্গেল থেকে লেখা হচ্ছে। কারো ধর্মীয় অনুভূতি, সামাজিক বিশ্বাস এবং রীতি নীতির জন্য যদি আমার তথ্য যদি সামান্যতম পীড়াদায়ক হয় তাহলে তার জন্য আমি দুঃখিত। এটা শুধু আমার এই পর্বের জন্য নয়, সকল পর্বের ক্ষেত্রেই একই।
আস্তা লা ভিস্তা...

এই সিরিজের প্রথম আরটকেল
এই সিরিজের দ্বিতীয় আর্টিকেল
২০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×