somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সহায়সম্বলহীন, তাড়া-খাওয়া দরিদ্র মানুষের পরিচয়পত্র বা লিখিত প্রমাণপত্র থাকে না

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৩:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মায়ানমার সরকার ২০৯ জন রোহিঙ্গা মুসলিমকে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। দুই বছর আগের জাতিদাঙ্গায় উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের শরণার্থী শিবির হইতে এই কয় জনকে বাছা হয়েছে। যেখানে সারা দেশে অন্তত ৮ লক্ষ রোহিঙ্গা বসবাস করেন, থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশের উদ্বাস্তু শিবিরে আরও কয়েক লক্ষ, সেখানে মাত্র ২০৯ জনকে নাগরিকত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত আপাতদৃষ্টিতে হাস্যকর।

কিন্তু ১৯৮২ সাল হইতে নাগরিকত্ব হারানো রোহিঙ্গাদের বর্তমান অসহায়তা এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের হাতে তাঁহাদের ধারাবাহিক নির্যাতন ও বঞ্চনার কথা মাথায় রাখলে এই সূচনাটিকে স্বাগত না জানিয়ে উপায় নেই। বিশেষত যখন মায়ানমার সরকারের মতে রোহিঙ্গারা বিদেশি অর্থাৎ বাংলাদেশি, নাগরিকত্ব পেতে হলে তাহাদের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকদের আগমনের আগে কয়েক পুরুষ ধরে ব্রহ্মদেশে বসবাসের লিখিত প্রমাণপত্র হাজির করতে হবে।

সহায়সম্বলহীন, তাড়া-খাওয়া দরিদ্র মানুষের পরিচয়পত্র বা লিখিত প্রমাণপত্র থাকে না। তাই মায়ানমার সরকার আসলে তার এই সিদ্ধান্তের দ্বারা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী রূপে শনাক্ত করতে অধিক আগ্রহী।

বস্তুত, ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটিতে সরকারের আপত্তি। নাগরিকত্ব পেতে হলে এই জনসম্প্রদায়কে নিজেদের ‘বাঙালি’ বলে শনাক্ত করতে হবে, এমনই সরকারের দাবি। স্বভাবতই রোহিঙ্গা মুসলিমদের নেতারা সরকারের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে নারাজ। তাদের কাছে জাতি-সম্প্রদায়গত আত্মপরিচয় মূল্যবান। কিন্তু ত্রাণ-শিবিরে বৌদ্ধ জঙ্গিদের ঘেরাওয়ের মধ্যে কার্যত বন্দি অসহায় রোহিঙ্গা পরিবারগুলির কাছে খাদ্য-বস্ত্র-আবাসন ও চিকিৎসার চাহিদা পূরণ আত্মপরিচয় অপেক্ষা অধিক জরুরি। তাই ইতিপূর্বে জনগণনার সময় তারা নিজেদের রোহিঙ্গা পরিচয় উল্লেখ করে নাগরিকত্ব হারালেও এখনি বাঙালি হিসাবে শনাক্ত হইতে অসম্মত নন। মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের এই অসহায়তারই সুযোগ নিয়ে নাগরিকত্বের টোপ দিয়ে একটি গোটা জনসমাজের পরিচয় বদল করতে উদ্গ্রীব।

বাংলাদেশ সফর কালে মায়ানমারের প্রবাশী কল্যান মন্ত্রী কক্সবাজারের ত্রাণ-শিবিরে বসবাসকারী ৩২ হাজার রোহিঙ্গাকে দুই মাসের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়াছেন। এই সবই আশার কথা।

কিন্তু মুসলিম বাংলাভাষীদের প্রতি মায়ানমারে এত কাল ধরে বৈষম্য, বঞ্চনা ও নিপীড়ন চলেছে, তাহার কারণ সামরিক একনায়কতন্ত্র, যা যাবতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন নির্মম ভাবে দমন করেছে এবং বিভিন্ন জনজাতীয় গোষ্ঠীর আত্মশাসনের দাবিতে মুখর সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকেও বন্দুক-কামান দিয়া জবাব দিয়েছে।

বর্তমান সামরিক শাসকদের আপেক্ষিক উদারতা গণতান্ত্রিক নেত্রী আঙ সান সু চিকে মুক্তি দিয়েছে, তাঁহার অনুগামীদেরও দফায়-দফায় কারামুক্ত করেছে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা অংশত ফিরাইয়া দিয়াছে। কিন্তু বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদের উগ্র রূপটি এখনও বিভিন্ন সংখ্যালঘু জাতিসত্তার আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার শিরোধার্য করতে চায় না। এ জন্য রোহিঙ্গা-অধ্যুষিত আরাকান প্রদেশের নাম পর্যন্ত পাল্টিয়ে তাকে ‘রাখিন’ করা হয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গা মুসলিমদের স্বতন্ত্র আত্মপরিচয় ও তার ভিত্তিতে নাগরিকত্ব অর্জনের দাবিটি ক্রমেই আন্তর্জাতিক জনমতের অনুমোদন লাভ করেছে। মায়ানমার তাই এই পথে আরও অগ্রসর হওয়ার সাহস দেখালেই মঙ্গল।

প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির মিল পাব আশাকরি...।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৩:৩৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×