somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ আর আমাদের কিছু আক্ষেপঃ

২৪ শে মে, ২০১৩ দুপুর ২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইদানীং পেপার পত্রিকা, ইন্টারনেট ও বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদের ভিক্তিতে আমাদের প্রবীণ বুদ্ধিজীবী তথা সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সমালোচনায় একটি বিষয়ই আমাদের বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে, জাঁতি হিসেবে আমরা অত্যন্ত সহনশীল ।
কয়েকদিন আগে একটি লেখায় বলেছিলাম, আমার সোনার দেশে দিনে দশ বার জন লোক মারা যাওয়াটাই স্বাভাবিক মনে হয় আমাদের কাছে । তার কম হয়ে গেলে যেন একটু চিন্তিত হয়ে পরি, কোথাও কোন গলদ হয়নিতো ? সেই গননার মাত্রাটা বাড়তে বাড়তে আজ হাজার ছাড়িয়ে গেছে । তবুও আমরা এতুটুকু বিচলিত হইনা । যে যার কাজ করে যাচ্ছি ঠিকঠাক ।
আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রও কাজ করে যাচ্ছে ঠিকঠাক । কারো কোন আপত্তির অবকাশ নেই । দুঃখিত, কারো আপত্তি করার কোন ক্ষমতা নেই । আমাদেরকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে যেতে হবে যে, দুধ লাঙলের মত সাদা । কারন লাঙল দেখতে সাদা বক পাখির মত । আর বক দুধের মত সাদা ।
পঞ্চাশের দশকে শোষণের বঞ্চনা সহ্য করতে না পেরে, প্রবল দেশপ্রেম নিয়ে যে কয়জন বীর বাঙালী রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন তার মধ্যে প্রায়ত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান অন্যতম । বিশেষ করে ষাটের দশকে রাজনীতির মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন প্রবল দেশপ্রেমে নিয়ে । এই মানুষটিও বিতর্কিত হয়েছিলেন ফাঁসি ও যাবতজীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদেরকে ক্ষমা করে । আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারি না জিল্লুর রহমানের মত ব্যক্তির দ্বারা এই কাজ হয়েছে । নাকি তাঁকে দিয়ে করানো হয়েছে ? গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি পুতুল মাত্র ।
১৯৯৯ সালের ৯ই জুন ভারতীয় নাগরিক জিবরান হত্যা মামলায় চট্টগ্রামের কে ডি এস গ্রপের মালিক খলিলুর রহমানের ছেলে ইয়াসিন রহমান ওরফে টিটুর যাবতজীবন কারাদণ্ড হয় । মামলার রায় হয় ২০০৭ সালের ২৮ মার্চ । রায় ঘোষণার প্রায় সাড়ে চার বছর পর এসে আদালতে আত্মসমরপন করে ইয়াসিন । বুঝতেই পাড়ছেন আত্মসমর্পণের পর খুব বেশিদিন তাঁকে কারাভোগ করতে হয়নি । দীর্ঘ ১৪ বছর আগে খুন করে এই পর্যন্ত মাত্র ১ বছর সাত মাস ১৪ দিন কারাবাস করেন । দুঃখিত মাত্র ৫ মাস জেলে ছিলেন তিনি । বাকী এক বছর আড়াই মাস ছিলেন হাঁসপাতালের স্পেশাল কামরায় । বন্ধু-বান্ধবের আড্ডা, রেডিও, টেলিভিশন, ল্যাপটপ, ইন্টারনেট কি ছিলনা সেই কামরায় ।
শুনছি সেই ইয়াসিন রহমান নাকি এবার দণ্ড মওকুফের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছে । ১৪ বছর আগে খুন করে যে লোক মাত্র ৫ মাস কারাভোগ করে, সে রাষ্ট্রপতির তথা সরকারের বিশেষ বিবেচনার যোগ্য বিবেচিত হলে এতটা অবাক হওয়ার কিছু নেই ।
দেখে মনে হয় আমাদের রাষ্ট্রপতিরা যেন ক্ষমার বাক্স নিয়ে স্বপদে অধিষ্ঠিত হন । লক্ষ্মীপুরের পৌর মেয়র তাহেরের পালক ছেলে জব্বারের যাবতজীবন সাজার ২০ বছর মাফ করে দিয়েছিলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি । শুনছি বাকী ১০ বছরের শাস্তি মুওকুফের জন্য নতুন রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করা হয়েছে । ফরিয়াদি আছে আরও দুই জন । তারাও এক মন্ত্রীর আত্মীয় ।
বাংলাদেশ সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে, “রাষ্ট্রপতি কোন আদালত ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোন কতিৃপক্ষের মাধ্যমে যে কোন দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করতে এবং যে কোন দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা কমাতে পারেন ।“
পুরু অনুচ্ছেদে আমার কোন আপত্তি নেই শুধু “যে কোন” কথাটাতে আমার আপত্তি । এই যে কোন কথাটা যদি না থাকত তবে রাষ্ট্রপতিও পারত না ক্ষমার অযোগ্য কাউকে ক্ষমা করতে । অথবা সরকারের শক্তিশালী কোন মহলও কোন সুপারিশ কিংবা চাপ প্রয়োগ করতে পারত না রাষ্ট্রপতিকে । আর অপরাধী সত্যি যদি ক্ষমার যোগ্য হয়, তবে অবশ্যই বাদীর পূর্ণ সমর্থন নিয়ে তবে দণ্ড মওকুফ করা যেতে পারে ।
মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়,
আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি সরকার, মন্ত্রী বা আমলাদের, নাকি জনগনের ? এভাবে চলতে থাকলে অপরাধীদের অপরাধ করতে আর এতটুকু বুক কাপবে না । আজ আপনি ক্ষমা করে দিচ্ছেন অন্যর খুনিদের । তারা নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াবে । কাল আপনি খুন হবেন । তখন আপনার মত কেউ একজন আবার তাঁদের ক্ষমা করে দিবে । চিৎকার করে কাঁদবে আপনার সন্তানেরা । আপনাকে হারানোর শোকে নয়, ন্যয় বিচার না পাওয়ার যন্ত্রণায় । যেমন কান্না করছে নিহত জহিরের মা ফিরুজা বেগম ।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মানুষের মধ্যে এমন কেউ কী আছেন, যাঁরা AI-এর কাছে নিজেদের জ্ঞান, লেখার দক্ষতা কিংবা সৃজনশীলতার শ্রেষ্ঠত্ব হারানোর ভয় পাচ্ছেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৪




এআইকে বলে ছিলাম- তুমি বলতে গেলে একটা গেদা বাচ্চার মত। এর মধ্যে অনেক মানুষ তোমাকে হিংসা করে। বিষয়টা কি?

উত্তরে এআই বলল- হা হা! আপনার কথাটা শুনে হাসি... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুজুরের কি শরিয়াহ আইনে বিচার হবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১২


মুফতি মোহাম্মদ আলী কাসেমীর জন্য খারাপ লাগছে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে প্রকাশ এবং এ নিয়ে লাইভ করার অভিযোগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×