অধম এক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ার । একটা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে সামান্য মাইনেতে, বলতে গেলে পেটে-ভাতেই আছি । তবুও শান্তি, হালায় কেউ বেকার তো কইবার পারে না । সকালে উঠে গোসল করে ইস্ত্রি করা প্যান্ট-শার্ট পড়ে বাবুটি সেজে বের হই । এয়ার কন্ডিশন্ড কেভিনে বসে ১০ টাকা বেতনে ১০০ টাকার কাজ করে তবেই বাসায় ফিরি প্রতিদিন । বসের মিষ্টি মিষ্টি কথায় ইদানীং আর মন ভরছে না । ভরবে কি করে ? পেট খালি থাকলে কি আর মন ভরে । লোকাল বাসে করে বাসায় ফিরতে ফিরতে ভাবি এই মাসটা শেষ হলে চাকরিটা ছেঁড়েই দিব । কিন্তু ছাড়া আর হয় না । তবুও মনে বড় আঁশ, যদি হইত একটা সরকারী চাকরি, বড় করে নিতাম একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ! অধমের স্বপ্ন অধরাই রয়ে যায় । জীবিকার টানাপোড়নে ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়াও বিসিএস ও ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনেক লিখিত পরীক্ষা দিয়েছি । অনেক পরীক্ষাই ভাল দিয়েছি । আবার অনেক গুলো জগন্য রকম খারাপ হয়েছে । আজ সকালে পিডিবি’র পরীক্ষা দিয়ে আসলাম । পুরাই ঝাঁজরা কইরা ছাইড়া দিসে । ভাল হল কি মন্দ হল এখনো সিদ্ধান্তে আসতে পারি নি । দেখা যাক কি হয় । এমনিতেই রোজা রেখে পরীক্ষা দিতে গেলাম । বের হয়েই যা তেষ্টা পেল ! কিছু মনে করবেন না, একখান বিড়ির ! সংযম ! সংযম ! অবশেষে নিজেরে কন্ট্রোল করলাম ।
বিপর্যস্ত হয়ে হাঁটছিলাম পলাশী হয়ে টি এস সির দিখে । স্মৃতির পাতায় একেকটা পরীক্ষার এডমিট কার্ড ভেসে উটতে লাগলো । হিসেব করে দেখলাম ১১ টা পরীক্ষা দিয়েছি এ পর্যন্ত । রেজাল্ট শূন্য । মনে মনে ভাবছি আর হাসছি, যে পর্যন্ত ১০১ টি পরীক্ষা না হয়, পরীক্ষা দিতেই থাকব । এঁর মাঝে যদি কিছু হয় তো শুকুর আলহামদুলিল্লাহ্ । না হইলে আর কি ! “পোলাপাইনেরে এই এডমিট কার্ডগুলা দেখাইয়া কমু, বাবারে দেখ, কম চেষ্টা তো করি নাই ।“

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



