somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কড়চা

১২ ই অক্টোবর, ২০১৩ বিকাল ৫:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এঁর আগেও এমন হয়েছে । শারীরিক অসুস্থতাই যে এঁর জন্য একমাত্র দায়ী এমন নয় । এঁর আগেও বহু অস্থির রাত্রি যাপন করেছি বিষাদের দুষর চাঁদর গাঁয়ে জড়িয়ে । কল্পনায় হারিয়ে ফেলেছি কত চিরচেনা পথঘাট । অচেনা সব ব্যস্ত মানুষের ছুটে চলার মাঝে মিশে যেতাম সম্পূর্ণ অভিন্ন একজন হয়ে ।
তবুও আমি হেসেছি । প্রান খুলে স্বস্থির নিঃশ্বাস নিয়েছি । গেয়ে উঠেছি কতবার “আরেকবার যেতে চাই রিমঝিম-ঝিম সুদূর পুর, অবাক রোদে ভেজা স্তব্ধ দুপুর............।।“
গত কয়েকদিনের টানা জ্বর আর হাপছাড়া গরমে বিষিয়ে উঠেছি অনেকটা । খুব ভোঁর সকালে ঘুম থেকে উঠে যথাসময়ে অফিসে যাবার মত সুবোধ বালক আমি কোন কালেই ছিলাম না । কোন কালেই ছিলাম না বললে মিথ্যে বলা হবে । চাকরির প্রথম তিন মাস পুরাই নয়টা পাঁচটার গণ্ডিতে বেবাচেকা খাওয়া আদর্শ চাকর ছিলাম । ধীরে ধীরে মুখোশ উন্মোচিত হল আমার । আর নামের সাথে দুই শব্দ বিশিষ্ট একটি বিশেষণ যুক্ত হল । “লেট কামার ইমরান” । বন্ধুবান্দব কাউকে কিচ্ছুটি বলি নাই । বললে সব ধরে বসবে, মামা অফিসে নতুন উপাধি পাইছো, পার্টি কই ?
ঘুম থেকে উঠতে আজও লেট হয়ে গেছে । তারাতারি করে গোসল করে, নাকে-মুখে কিছু খেয়ে বেড়িয়ে পড়লাম । রাস্তায় বেড়িয়েই বোঝতে পারলাম, মস্ত বড় ভুল হয়ে গেছে । আরও আগে বেরোনো উচিৎ ছিল । আজ তো কম করে হলেও ১ ঘণ্টা লেট হয়ে যাবে । কি আর করা । অনেক কষ্টে একটা লোকাল বাসে ঝুলে পড়লাম । বাসে অন্য আট-দশটা দিনের চেয়ে একটু বেশিই ভিড় । কিছুতেই সোজা হয়ে দাড়াতে পারছিলাম না । গায়ের চারপাশ্বে লেপ্তে থাকা মানুষের ঘামের বিশ্রী ঘন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসছিল আমার । কেউ কোন পাত্তাই দিচ্ছে না আমায় । শার্ট-প্যান্ট আর চকচকে সু পড়ে যে একটা ভাব নিয়ে বাসা থেকে বেড়িয়েছিলাম, পুরাই ফ্ল্যাট হয়ে গেলাম । নাহ এবাবে আর কদ্দিন ।
বাসটা বসুন্ধরা গেট আসতেই পুরু বাসটা অর্ধেক খালি হয়ে গেল । আমি তো পুরাই বসকাইয়া গেলাম । যাক সামনের দিকের বাম পাঁশে একটা ভাল সিট পেলাম বসার জন্য । শার্ট-প্যান্টের ইন ঠিক করে একটু ভাব নিয়েই বসলাম । কুড়িল আসতেই আমার পাঁশের সিটটি খালি হয়ে যায় । বাসস্টপ থেকে বিশ-বাইশ বছরের এক তরুণী আমার বাসে উঠে । আমার পাঁশের সিটটি আরামদায়ক ও রোঁদমুক্ত হওয়ায় এখানে বসে পড়ে সে । আমি একটু নড়েচড়ে জায়গা করে দিলাম । কোন কথা বলছি না আমরা । আমি একটু লক্ষ্য করে দেখলাম মেয়েটার মাঝে কোন অনাখাঙ্কিত দাম্ভিকতা নেই । যা পাঁশে বসা মানুষটাকে অস্বস্থিতে ফেলতে পারে । ইচ্ছে করছিল তাকে কিছু জিগ্যেস করি । কিন্তু সাহস করে উঠতে পারছিলাম না । মনে মনে অনেক কিছু গুছিয়ে নিলাম, বলব বলে । বাস চলছে । জসিম উদ্দিন পার হয়ে আজমপুর চলে এসেছে । সেদিখে আমার কোন খেয়ালই নেই । দ্বিধা-দন্দের বেড়াজালে আঁটকে থাকা আমি কিছুটি জিগ্যেস করার আগেই ও নেমে গেল পরের ষ্টেশনে । চারপাশ থাকিয়ে যা দেখলাম তাতে চোখ কপালে তো নাই মাঝ মাথা বরাবর চলে এসেছে । তাড়াতাড়ি নেমে উল্টো পথে অফিসের দিখে ছুটলাম । অফিসে ঢুকার পর থেকে লক্ষ্য করছি, সবাই কেমন আড় চোখে থাকাচ্ছে । ঘটনা কি ? অফিসের সবচেয়ে মজার মানুষ জাকির ভাই বললেন, ‘জি এম স্যার আপনাকে স্মরণ করেছিলেন । তাড়াতাড়ি স্যারের রুমে চলে যান ।‘
না জানি কি আছে কপালে । এটা সেটা নানা কিছু ভেবে ভেবে স্যারের রুমে গেলাম।
_ May I come in sir?
___ Yes. Come.
___ স্যার আমায় ডেকেছিলেন ?
___ হম । কাল তুমি বাড়ী চলে যাও । আমার গাড়িতে করে যাবে । একদিন ছুটি কাঠিয়ে এসো । ঠিক আছে ?
পুরাই টাস্কি খাইয়া গেলাম । কয় কি ? হাতপাখা চাওয়ার আগেই এয়ার কন্ডিশন হাজির ! বিষয়ডা ঠিক বোধগম্য হইল না আমার । ওকে স্যার, বলে রুম থেকে বের হয়ে আসলাম । আমি তো মহা খুশী । কাল বাড়ী যাব । পরশু শুক্রবার । এঁর পর আবার একদিনের ছুটি । ভাবতেই সুড়সুড়ি লাগছে গাঁয়ে । বেশ ফুরফুরা মেজাজে অফিস করে বাসার উদ্দ্যেশে রওনা দিলাম । আর বাসায় ফোন করে দিলাম, কাল আসছি ।
এখন মনটা বেশ ভাল । বরাবরের মতো রাস্তার চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সুন্দরীদের দিকে নজর না দিয়ে চারপাশের প্রাকৃতিক সুন্দর্যের দিকে মনযোগ দিলাম । চিরচেনা শহরটাকে আজ দেখছি একটু অন্যরকম ভাবে । দূরের ফ্লাট বাসার জানালার ধারে জ্বলজ্বল করে জলে উঠা টুকরো টুকরো আলোকগুচ্ছকে মনে হচ্ছে একেকটা সপ্নের কৌটা । লাল নীল সোনালী হলুদ-রাঙ্গা সপ্নগুলো একটার পর একটা হারিয়ে ফেলছি আমি । মনে হচ্ছে বহু দুর হতে দূরান্তে হারিয়ে যাচ্ছি আমি । কোন এক ছিটকে পরা গ্রহের পিছু পিছু । আমার ক্লান্তিহীন নির্বাক পথচলা । সমস্ত শরীরটা কেমন জানি হালকা লাগছে । মনে হচ্ছে আমি, আমার শরীর সম্পূর্ণ দুইটি আলাদা স্বত্বা । একটি থেকে অন্যটি সম্পূর্ণ স্বাধীন । আমি যেখানে খুশী অবাধ বিচরন করছি । দেহটা পড়ে আছে বাসের পিছনের দিকের তেল চিটচিটে একটি সঙ্কীর্ণ সিটে ।
শাহাজাদপুর ! শাহাজাদপুর চিৎকার শুনে আমার ধ্যান ভাঙ্গে । তাড়াহুড়া করে নেমে পড়ি ।
বাস থেকে নেমে মোবাইল হাতে নিয়ে দেখলাম, জি এম স্যারের মিসকল উঠে আছে । মানে, স্যার ফোন করেছিল । আমি বোঝতে পাড়ি নি । তাড়াতাড়ি একটা নিরিবিলি যায়গায় গিয়ে স্যারকে ফোন দিলাম ।
ফোন ধরেই স্যার বললেন, “কাল তোমার যাওয়া হচ্ছে না । সেই জন্যই ফোন করেছিলাম । গুড নাইট ।“
আমিতো পুরাই থ............ মেরে গেলাম ।
সপ্নভাঙ্গা আমি আরও একটা ভাঙ্গা থালা নিয়ে প্রতিদিনের মতো বাসায় ফিরলাম ।

ইমরান-উল-ইসলাম
২/১০/২০১৩ ইং, ঢাকা ।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মানুষের মধ্যে এমন কেউ কী আছেন, যাঁরা AI-এর কাছে নিজেদের জ্ঞান, লেখার দক্ষতা কিংবা সৃজনশীলতার শ্রেষ্ঠত্ব হারানোর ভয় পাচ্ছেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৪




এআইকে বলে ছিলাম- তুমি বলতে গেলে একটা গেদা বাচ্চার মত। এর মধ্যে অনেক মানুষ তোমাকে হিংসা করে। বিষয়টা কি?

উত্তরে এআই বলল- হা হা! আপনার কথাটা শুনে হাসি... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুজুরের কি শরিয়াহ আইনে বিচার হবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১২


মুফতি মোহাম্মদ আলী কাসেমীর জন্য খারাপ লাগছে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে প্রকাশ এবং এ নিয়ে লাইভ করার অভিযোগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×