somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্মৃতিচারণ ★

১৯ শে এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ১২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কৈশোরের অনেক স্মৃতিই আজো উঁকি দেয় মনে। জানালায় তাকিয়ে আকাশ দেখি আর ভাবি কৈশোরটা আসলেই সুখের ছিলো। সারাদিন ঘুরে বেড়ানো, খেলাধুলা কতকি.......
আজ সেই দিনগুলো খুবই মনে পড়ে।

প্রতি বছরই বন্ধুরা সবাই মিলে ফুটবল কিনতাম। আমার স্পষ্ট মনে আছে তখন আমরা ক্লাস নাইনে পড়ি। একটা ভালো বল কিনার জন্যে বন্ধুরা সবাই মিলে ধান কাটলাম মাঠে.....। বল কিনার জন্যে বাড়ি থেকে হেটে চলে গেলাম ভৈরব! তখন ৪৫০টাকা দিয়ে একটা বল কিনলাম।
ডিয়ার বল! বল কিনে কি আনন্দ! সবাই মিল আবার হেটেই ফিরলাম বাড়িতে।
বাড়ি ফিরে যেন সময় কাটছে না! কখন বিকেল হবে? অপেক্ষা করছিলাম। হঠাৎ দেখি বন্ধুরা বল নিয়ে নেমে গেছে মাঠে আর ডাকছে সবাই আসার জন্যে। দিলাম দৌড়.......

ফুটবলে আমি তেমন পারদর্শী নয়।
আমাদের মাঝে যারা খুব ভালো ভেলতো তাদের মধ্যে শুভ, কামাল, নুরে আলম, অন্যতম।
নুরে আলম অনেক ভালো খেলতো।
আর কামালে যে স্ট্যামিনা! সারা মাঠতো ওর দখলে!! শুভও খেলতো দারুন! তবে যেটা না বললেই নয়, যেটা আমার জন্যে চিরন্তন সত্য সেটা হলো অন্য কোনো টিমের সাথে খেলা থাকলে মাঠে নামার সুযোগ আমার থাকতো না বললেই চলে! আমি সুযোগ পেয়েছি কম! মাঝে মাঝে সুযোগ পেলেই ভাগ্যবান মনে করতাম। তবে মন খারাপ হতো না কোন দিন।

মৌসুমের প্রথম ফুটবল ম্যাচ খেলবো আজ কি আনন্দ! ম্যান ভাগ করা হয়েগেছে। আমার দলে ছিলো কামাল, নুরে আলম, মন্টু......
আর বিপক্ষ দলেও ছিলো অনেক ভালো প্লেয়ার। তাদের মধ্যে মিজান সে দলের গোলরক্ষক।
খেলা চলছে.......

হঠাৎ করে আমাদের দল পেয়ে গেলো পেনাল্টি কিক এর সুযোগ!
কামাল কিক করার দায়িত্ব দিলো আমাকে, তবে গোল করতে হবেই!
আমি ঠিক করলাম বছরের প্রথম ম্যাচে প্রথম গোল!
যে করেই হোক গোল করবোই!
দলকে জয়ী করবো এই চিন্তা। অন্য দিকে মিজান গোলরক্ষক, গোল হতে দিবেনা সে!
কিক করার মুহুর্ত। আমি কয়েক পা পিছন থেকে একটু দৌড়ে এসে দিলাম কিক.........।
মিজান ধরার জন্যে লাফিয়ে হাত বাড়ালো।

দুর্ভাগ্য আমার! এবং দুর্ভাগ্য মিজানের!

বল মিজানের নিয়ন্ত্রনে ছিলো না ঠিক। তবে বল লেগে ছিলো ডান হাতের কব্জির একটু নিচে। ছিটকে পিছনে পড়লো মিজান। বল গোলে ডুকলো কিনা খেয়াল করিনি, দৌড়ে গিয়ে মিজানকে ধরলাম। মিজান চিৎকার করছে... আমারও কান্না চলে এলো....
হাতটা মিজানের ভেঙ্গে গেছে!
সবাই ওকে ধরে বাড়ি নিয়ে গেলাম।
ঐদিনের মতো খেলা এখানেই শেষ।
দুদিন পর মিজান কে দেখতে গেলাম
কি যে কষ্ট লাগলো,
নিজেকে অনেক অপরাধী মনে হলো।
মিজানের পাশে গিয়ে বসলাম ভয়ে ভয়ে..
ওর সাথে অনেকক্ষণ সময় দিয়ে ফিরলাম আমি খেলার মাঠে!
ঐবছর মিজান আর খেলেনি।
এর পরের বছর ঠিকই আবার নেমেছে সে খেলার মাঠে!

এরপরের বছরের ঘটনা! তখনআমরা ক্লাস টেনে। প্রতি বিকেলেই জমতো খেলা। মাঝে মাঝেই পাশের গ্রামের সাথে খেলা থাকতো। এক বিকেলে শ্রীনগরের সাথে খেলা। মাঠে নামলাম আমরা। খেলা চলছে। বল নিয়ে ছুটছি আমরা। গোলপোস্টের কাছাকাছি কিক করার জন্যে প্রস্তুত। হঠাৎ যেন কয়েক জনের সাথে ধাক্কা। পড়ে গেলাম আমি।উঠে দাড়ালাম কষ্ট করে। কিন্তু আর খেলা সম্ভব নয়। ডান পায়ের হাটুতে লেগেছে খুব। হাটু ঘুরেগেছে একটু!
ভাইয়ের কাধে ভর করে ফিরলাম বাড়ি।
ভাগ্যিস পা টা ভাঙ্গেনি!
দীর্ঘ দিন পর আবার স্বাভাবিক হাটতে পেড়ে খেলার ইচ্ছে হচ্ছে খুব। দৌড়ালাম মাঠে....

কি মজা! সবাই আবার এক সাথে মাঠে!!!
এখন সবাই একসাথে হলেও, মাঠে আর একসাথে হয়ে উঠেনা!!!

সেই দিনগুলো.....
সেই দুরন্তপনা, সেই বন্ধু, সেই খেলার মাঠ আজও খুব মনে পড়ে.........


এহসানুল হক হোসেন
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চাপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১



রাজধানী ঢাকা সহ দেশের নানা অঞ্চলে টমটম, অটোরিক্সা, নসিমন, করিমন চলাচল করে। বেশ মানুষজন পরিবহন সহ মালামালের বস্তাও টানাটানি করতে দেখা যায়। কিন্তু এইগুলোর দেশ হচ্ছে গ্রাম গঞ্জের বাজার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সমাধিতে কোনো ফলক রেখো না

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৪


আমার সমাধিতে কোনো ফলক রেখো না
আমার ডক্টর উপাধিটি মুছে দিও
জ্ঞানী, কবি, দরবেশ, সাধক, সফল, ব্যর্থ
এসব কোনো শব্দই যেন
মাটির ওপর দাঁড়িয়ে আমাকে আলাদা না করে।

কারণ আমি দেখেছি
অহংকার খুব সূক্ষ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর পর্যন্ত সবাই শিশু!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৬

১৮ বছর পর্যন্ত সবাই শিশু!

শিশুর অধিকার রক্ষা অবশ্যই সভ্য সমাজের দায়িত্ব। কিন্তু প্রশ্নটা তখনই কঠিন হয়ে ওঠে, যখন ১৭ বছর ১১ মাস ২৯ দিন বয়সী কেউ ধর্ষণ বা হত্যার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস: ঢাকার রাজপথ, ধারণক্ষমতার সংকট এবং গণপরিবহনের বাস্তবতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩৩



আজ ২২ সেপ্টেম্বর—বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস। কল্পনা করুন তো, কর্মব্যস্ত এক মঙ্গলবারের সকালে ঢাকার রাজপথে কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি নেই! কানে তালা লাগানো অহেতুক হর্নের গর্জন নেই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফুনফুনা ফুন

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩



ছয় হাজার হাজার আগে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিলো মাত্র দশ লাখ।
হ্যা দশ লাখ। পুরো পৃথিবীর সব জায়গায় মানুষ থাকতো না। বনজঙ্গল ছিলো। আর সমুদ্র এবং নদী। পাহাড় পর্বত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×