বৃদ্ধলোকের মাথায় ছিট বলে রশিদ তার কাছে ঘেঁষতো না। তবে তার বাসার বই সংগ্রহ অসাধারণ। বয়স বাড়লে চাঁছাছোলা হয়ে যায় মানুষ। মুখের ওপর সত্যি কথা বলে ফেলে। আবরণহীন সত্যি বেদনার কারণ।
কিন্তু স্যারের সাথে দেখা করার কথা ছিল তের তারিখ।
তের তারিখ এসে যায়। বই ফেরত দেবার কথা। যখের ধনের মত একটা দুর্লভ লাইব্রেরি দখল করে রাখছে বৃদ্ধ। এদিকে দাগ তুলতে গিয়ে বিপদে পড়েছে। মলাটের পিছনে মমি ক্রেয়নে ভুত এঁকেছে। বাচ্চাদের এত বারণ করা যায়?
রফিক ফোনে বললো, স্যার! আসবো?
লোকটা বলেছিলেন, ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে যেতে হবে। সরোজের কাছে টাকার জন্য সন্ধ্যার আগে যেতে হবে। ওটা বেশি জরুরী। এই ৯টাতেই আরো দু তিন জায়গায় এপয়েনমেন্ট জট। ভদ্রলোকের স্ত্রী রশিদকে পছন্দ করেন। নিজ হাতে চা করে দেন। সাথে টোস্ট বিস্কিট দেন।গত সপ্তাহে যখন যাই। গত দিন শুনতে পেল। এই লোকটার অস্থিরতা বাড়ছে। দুরে চলে যাবেন বলে ছাতা নিয়ে বের হয়ে যান। একটা বই থাকে। যদিও বই পড়তে পারেন না। আমরা জানি উনি পাশের ঐ রাস্তা পর্যন্ত গিয়ে ফেরত আসবেন।
এগারোটায় বসার ঘরে বসে ছিল রশিদ। পাশে টিভি চলছিল। অফিস থেকে দীঘিনালায় পাঠানোর কথা রফিকদের ব্রাঞ্চের দুতিনজনকে। কি করবে? অনেক উঁচুতে একটা এপার্টমেন্টে থাকে। এটা পাল্টাতে হবে। নানান বিষয় নিয়ে ভাবছিল। এদিকে অনেক ক্ষণ ধরেই ফোন বাজছে খেয়াল করেনি। মমির হাতে ফোনটা দেখে বুঝল মেয়েটা ফোন রিসিভও করেছে খেলতে খেলতে।
রশিদ কলব্যাক করেই ওপাশ থেকে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠ শুনতে পেল। বাবা, তুমি জলদি এসো, বাসায় পুলিশ। তোমার আঙ্কেল সুইসাইড করেছে। অনেকগুলো ঘুমের বড়ি। আর একটা চিরকুট পাওয়া গেছে বিছানার পাশে।
রশিদ গিয়ে দেখেছিল মাউণ্টেনের উপর মৃত অভিযাত্রীদের মত একটা দেহ। সুইসাইড নোটে লেখা - I will be back।
-
ড্রাফট ০.৭
আগের ড্রাফট #০.১
লোকটার ঘরে একটা ধর্মগ্রস্থ ছিল। পরজন্মে তার অগাধ বিশ্বাস। অন্য পাশে নতুন কেনা একটা সাপ্তাহিক প্ল্যানার। সে ভালবাসতো বাঁচতে । কিন্তু আত্মহত্যায় অনিহা ছিল না। খুব ভোরের ধ্যান মগ্ন শহরে একটা বালু ফেলার ট্রাক শব্দ করে ঢুকেছিল। তখনই চিৎকার করে এই মৃত মানুষের কথা বলা হলো। ছোট গল্পের মত লোকটির মৃত্যু হত্যা বা আত্মহত্যা কিছুতেই নির্ধারিত হলো না। শুধু চিরকুটে লেখা ছিল - I will be back soon.

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


