somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রত্যাবর্তনের লিপি

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১১:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বৃদ্ধলোকের মাথায় ছিট বলে রশিদ তার কাছে ঘেঁষতো না। তবে তার বাসার বই সংগ্রহ অসাধারণ। বয়স বাড়লে চাঁছাছোলা হয়ে যায় মানুষ। মুখের ওপর সত্যি কথা বলে ফেলে। আবরণহীন সত্যি বেদনার কারণ।
কিন্তু স্যারের সাথে দেখা করার কথা ছিল তের তারিখ।
তের তারিখ এসে যায়। বই ফেরত দেবার কথা। যখের ধনের মত একটা দুর্লভ লাইব্রেরি দখল করে রাখছে বৃদ্ধ। এদিকে দাগ তুলতে গিয়ে বিপদে পড়েছে। মলাটের পিছনে মমি ক্রেয়নে ভুত এঁকেছে। বাচ্চাদের এত বারণ করা যায়?
রফিক ফোনে বললো, স্যার! আসবো?
লোকটা বলেছিলেন, ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে যেতে হবে। সরোজের কাছে টাকার জন্য সন্ধ্যার আগে যেতে হবে। ওটা বেশি জরুরী। এই ৯টাতেই আরো দু তিন জায়গায় এপয়েনমেন্ট জট। ভদ্রলোকের স্ত্রী রশিদকে পছন্দ করেন। নিজ হাতে চা করে দেন। সাথে টোস্ট বিস্কিট দেন।গত সপ্তাহে যখন যাই। গত দিন শুনতে পেল। এই লোকটার অস্থিরতা বাড়ছে। দুরে চলে যাবেন বলে ছাতা নিয়ে বের হয়ে যান। একটা বই থাকে। যদিও বই পড়তে পারেন না। আমরা জানি উনি পাশের ঐ রাস্তা পর্যন্ত গিয়ে ফেরত আসবেন।
এগারোটায় বসার ঘরে বসে ছিল রশিদ। পাশে টিভি চলছিল। অফিস থেকে দীঘিনালায় পাঠানোর কথা রফিকদের ব্রাঞ্চের দুতিনজনকে। কি করবে? অনেক উঁচুতে একটা এপার্টমেন্টে থাকে। এটা পাল্টাতে হবে। নানান বিষয় নিয়ে ভাবছিল। এদিকে অনেক ক্ষণ ধরেই ফোন বাজছে খেয়াল করেনি। মমির হাতে ফোনটা দেখে বুঝল মেয়েটা ফোন রিসিভও করেছে খেলতে খেলতে।
রশিদ কলব্যাক করেই ওপাশ থেকে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠ শুনতে পেল। বাবা, তুমি জলদি এসো, বাসায় পুলিশ। তোমার আঙ্কেল সুইসাইড করেছে। অনেকগুলো ঘুমের বড়ি। আর একটা চিরকুট পাওয়া গেছে বিছানার পাশে।
রশিদ গিয়ে দেখেছিল মাউণ্টেনের উপর মৃত অভিযাত্রীদের মত একটা দেহ। সুইসাইড নোটে লেখা - I will be back।

-
ড্রাফট ০.৭

আগের ড্রাফট #০.১

লোকটার ঘরে একটা ধর্মগ্রস্থ ছিল। পরজন্মে তার অগাধ বিশ্বাস। অন্য পাশে নতুন কেনা একটা সাপ্তাহিক প্ল্যানার। সে ভালবাসতো বাঁচতে । কিন্তু আত্মহত্যায় অনিহা ছিল না। খুব ভোরের ধ্যান মগ্ন শহরে একটা বালু ফেলার ট্রাক শব্দ করে ঢুকেছিল। তখনই চিৎকার করে এই মৃত মানুষের কথা বলা হলো। ছোট গল্পের মত লোকটির মৃত্যু হত্যা বা আত্মহত্যা কিছুতেই নির্ধারিত হলো না। শুধু চিরকুটে লেখা ছিল - I will be back soon.
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:৫০
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মানুষের মধ্যে এমন কেউ কী আছেন, যাঁরা AI-এর কাছে নিজেদের জ্ঞান, লেখার দক্ষতা কিংবা সৃজনশীলতার শ্রেষ্ঠত্ব হারানোর ভয় পাচ্ছেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৪




এআইকে বলে ছিলাম- তুমি বলতে গেলে একটা গেদা বাচ্চার মত। এর মধ্যে অনেক মানুষ তোমাকে হিংসা করে। বিষয়টা কি?

উত্তরে এআই বলল- হা হা! আপনার কথাটা শুনে হাসি... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুজুরের কি শরিয়াহ আইনে বিচার হবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১২


মুফতি মোহাম্মদ আলী কাসেমীর জন্য খারাপ লাগছে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে প্রকাশ এবং এ নিয়ে লাইভ করার অভিযোগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×