somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ছোটোবেলার খেলাধুলা

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খুব বড় পরিবারে জন্ম হয়নি আমার। আমাদের পরিবার ছিল মধ্যবিত্ত। বাবা খুব অল্প বয়সেই বিদায় নিলেন। শুরু হল পরিবারের দৈন্য দশা। তারপরও থেমে থাকেনি কিছুই, চলেছে আপন গতিতে। আমি এখন স্নাতক(সম্মান) শ্রেনীর ছাত্র। আজ হঠাত আমার ছোটোবেলার খেলাধুলার স্মৃতি গুলো মাথা চাড়া দিয়ে উঠল। ছোটোবেলায় কত রকমের খেলাই না খেলেছি, তার হিসেব নেই। দাড়ান হিসেব দেয়ার চেষ্টা করছি। আমরা খেলার সাথী হিসেবে ছিলাম আমি, আমার ছোটো ভাই ইমন, রাজিব ভাইয়া, শিশির কাকা, অন্তু, রাব্বী, রনি ভাইয়া, রক্সি, একজন প্রমিলা মনি আপু, শাহীন, ফারুক সহ আরও অনেকে।আমরা কি কি খেলা খেলতাম তা লিখতে গেলে লিস্টটা মনে হয় লম্বাই হবে। আমরা কি না খেলেছি মেয়েদের পুতুল খেলা,কুতকুত, এক্কাদোক্কা, গোল্লাছুট, দাড়িয়া বান্ধা, বৌ ছি, ছোয়াছুয়ি, সাতচাড়া, কাবাডি, কালার কালার, কানা মাছিঁ, বল একজন আরেকজনের গায়ে ছুড়ে মারা, লুকোচুরি, বৃষ্টির দিনে ঘরের ভেতর লুকোচুরি, কাঠের ব্যাট দিয়ে ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট, ফুটবল সহ আরও অনেক খেলা।
আমাদের অনেক খেলার মধ্যে লুকোচুরির কথা বলতেই হয়, আমরা দিনের বেলার পাশাপাশি রাতের বেলায়ও লুকোচুরি খেলতাম। তখন রাজিব ভাইয়া টর্চ ব্যবহার করে দুর্নীতি করত।
কাবাডি খেলার কথা না বললেই নয়। এখানে শুধু আমরা ছোটোরাই খেলতাম না আরও একজনও খেলত। তিনি হলেন আমার এক ভাবী আছেন আমার আম্মুর বয়সী এবং অত্যন্ত স্বাস্থবান। তিনি যখন ছড়া কাটতে কাটতে আমাদের কোর্টে আসতেন, তখন আমরা সবাই তাকে জাপটে ধরতাম আর তিনি আমাদের সবাইকে নিয়ে হেটে তার কোর্টে চলে যেতেন।
একবারতো আমার হাতই ভেঙ্গে গিয়েছিল। আমি, আব্বু আর ইমন একবার আমাদের গরুর জন্য ঘাস আনতে গিয়েছিলাম। তখন টেনিস বল দিয়ে খেলার সময় পরেগিয়ে আমার ডান হাত ভেঙ্গে গিয়েছিল।
আমরা ছোটোবেলায় নারকেল গাছের ডালকে ব্যাট এবং সুপারিকে বল বানিয়ে ক্রিকেট খেলতাম। আমার হাত ভেঙ্গে যাওয়ার পরও আমি বাম হাত দিয়ে শিশির কাকাদের বাড়ান্দায় ক্রিকেট খেলতাম।আমাদের ক্রিকেট খেলাটা ছিল অন্যরকম। আমাদের বাড়ীতে একটি কাঠ এবং টিনের দো-তলা বাড়ী আছে, যা উঠানের সাথে, যেখানে আমরা সকল খেলা খেলতাম। আমাদের ক্রিকেট খেলার কল্যানে ঐ বাড়ীর একটি টিনও ভালো নেই। রাজীব ভাইয়া আমাদের সবার থেকে বড় ছিলেন।তাই আমরা যখন সাত চারা নামক একটা খেলা খেলতাম তখন আমরা সবাই এক দলে থাকতাম আর তিনি একা এক দলে থাকতেন। আমরা প্রত্যেকে তার ভয়ে গিয়ে বাঁশ বাগানে লুকাতাম। তবে সবচেয়ে মজার ছিল বৌছিঁ খেলা।কারন এই খেলাটা আমরা সবাই অর্থাত্‍ আমরা ছোটোরা এবং আম্মু, জেঠি আম্মু, ভাবি, কাকিরা সবাই মিলে খেলতাম। যখন রাতে লোডশেডিং হত এবং আকাশে চাঁদ উঠত তখন আমরা এই বৌছি খেলতাম।
ও হ্যাঁ আমার ছোট ভাইয়ের ও একবার হাত ভেঙ্গেছিল। আমরা একবার কালার কালার খেলছিলাম, আর ঐ দিন কেন যেন বার বার ও ই চোর হচ্ছিল। তাই আমরা ওকে নিয়ে একটু ঠাট্টা করছিলাম, এতেই ওর মেজাজ যায় বিগড়ে। ও তখন দাড়িয়ে ছিল আমাদের বাড়ীর একটি পুরনো দালানের সিড়ির উপড়ে, যা প্রায় আমার মাথার সমান উঁচু ছিল। আমি নিচে মাটিতে দাড়িয়ে ছিলাম। তো ও তখন রেগে গিয়ে একটা লাথি মারতে চাইল, আর আমি ওর পা-টা ধরে মুচড়ে দিয়েছিলাম,আর ও মাটিতে পড়ে ওর হাত ভেঙ্গে গিয়েছিল।
পানির নিচের ছোয়াছুয়িতে সায়েম ভাই আর রাজীব ভাইয়ার সাথে কখনোই পারা যেত না। এই খেলার জন্য আব্বুর হাতে অনেক মার খেয়েছি। এই সকল খেলাতেই আমাদের একমাত্র প্রমিলা খেলোয়ার মনি আপু থাকত। তার সাথে কুতকুত এবং এক্কাদোক্কা খেলায় কখনোই পারা যেত না। স্কুলে একবার ছোয়াছুয়ি খেলতে গিয়ে রাস্তায় পড়ে গিয়ে আমার হাতের অনেকটা ছিলে গিয়েছিলো। তার দাগ এখনো আমার হাতে আছে।
ছেলেবেলাটা কতই না মজার ছিল, আবারও ইচ্ছে করে সেই ছেলেবেলায় ফিরে যেতে। ছেলেবেলার সেই সোনালী দিন গুলোর মনে পড়লে মনটা একই সাথে আনন্দে ও বিষাদে ভরে ওঠে। আজ আর কিছু মনে পড়ছেনা তাই এখানেই শেষ করলাম।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১২:৫৫
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন কর্মী ও তার ন্যায্য পাওনা

লিখেছেন কিরকুট, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২০

বাংলাদেশের বেসরকারি খাত নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা সাধারণত বিনিয়োগ, মুনাফা, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ কিংবা উদ্যোক্তার ঝুঁকির কথা ভাবি। কিন্তু এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কর্মীর শ্রম নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তাররা সামনে আরও পিটুনী খাবে... প্রতিকারের সময় এখনি

লিখেছেন অপলক , ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫



দেশে রুগির চেয়ে ডাক্তার, নার্স বা সরকারী সেবা প্রদানকারী সংস্থার সংখ্যা অনেক কম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত চিকিৎসকের সংখ্যা ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৯৯ জন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×