নভেম্বর মাসে আমি ১ম সন্তানের বাবা হই। আমি মেয়ে সন্তানের গর্বিত পিতা। সন্তান জন্ম হওয়ার পর, তার ভবিষ্যত নিয়ে প্রতিটা বাবা-মার ভাবনা শুরু হয়ে যায়। সেরকম ভাবনা থেকেই অনেকগুলো বিষয় অ্যানালাইস করে বের করি। সেগুলো নিয়ে লিখেছি।

♦ বর্তমান যুগের নারীদের স্বপ্ন:
নারীরা বর্তমানে অনেক শিক্ষিত হচ্ছে। অনেক স্বপ্ন নিয়ে মেয়েরা গ্রাজুয়েট হন। স্বপ্ন থাকে, নিজে ইনকাম করবো, ক্যারিয়ারটা হবে নিজের। কারও দয়ার উপর নির্ভর করে বাঁচবোনা। নিজস্ব ইনকাম সোর্স থাকলে শ্বশুর বাড়ির লোকজন গোলাম বানিয়ে রাখতে পারবেনা।
♦ স্বপ্ন সবই মিথ্যা:
কিন্তু সব স্বপ্ন বিয়ের পর মুছে যায়। সংসার সামলানো, তারপর বাইরে গিয়ে ইনকাম। দুইটা বিষয়কে একসাথে সামাল দেওয়া অনেক চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাড়ায়। বাচ্চা হওয়ার পর বিষয়টা আরো বেশি অসম্ভব বিষয় হয়ে দাড়ায়। এপযায়ে এসে নিজের ইনকাম সোর্স থাকার স্বপ্ন, নিজের চাহিদা পূরন নিজের ইনকাম দিয়ে , এ স্বপ্নটিকে কবর দিয়ে দিতে হয়।
♦ মেয়েতো অন্যের ঘরের সম্পত্তি:
আমাদের দেশের মেয়েদের পিছনে খরচ করতে গেলেও বাবা-মায়েরা ২ বার ভাবেন। যেটুকু খুব বেশি কর্তব্যের মধ্যে পড়ে সেইটুকুই খরচ করা হয়। এর বাইরে যদি মেয়েরা আরও নিজেকে দক্ষ করতে চায় সেটাতে সবার ব্যবসায়িক চিন্তাটাই মাথাতে বেশি আসে। কারন সেতো এ ঘরে থাকবেনা, চলে যাবে অন্যের ঘরে। তার পিছনে খরচ করা মানেই লস।
♦ মেয়েদের নিজস্ব ভাবনা:
আমাদের এখানকার মেয়েদের মধ্যেও অনেকেরই রয়েছে কিছু সমস্যা। মেয়েরা যতই বলুক, নিজের পায়ে দাড়াতে চায়। কিন্তু আদতে বাস্তবতাতে অনেক পার্থক্য রয়েছে। বেশির ভাগ মেয়েরাই মন থেকেই পরনির্ভরশীল হয়েই বাচতে চায়। স্কুল লাইফ পযন্ত বাধ্য হয়ে বাবা-মার উপর নির্ভর করে বাচতে হয়। কিন্তু এরপর কলেজ জীবন থেকেই শুরু হয়, বয়ফ্রেন্ডের উপর নির্ভরশীলতা। যে ছেলে তাকে নোট কিংবা অন্য কোন বিষয়ে সাহায্য করবে, তার সাথেই প্রেম হবে। বিয়ের পর স্বামীর টাকাতে বাহাদুরি। স্বামীর টাকাই আমার টাকা। এ পরনির্ভরশীলতা মনোভাবও মেয়েদের পিছিয়ে থাকার একটা কারণ।
♦ স্বপ্ন এবার সত্যি হবেই:
কিন্তু আসলেই কি মেয়েদের স্বপ্নটি পুরন হবার নয়? অবশ্যই সম্ভব। মেয়েদের নিজেদের মধ্যে আত্ননির্ভরশীলতা, আত্নমযাদা সম্পন্ন হওয়ার মানুসিকতা তৈরি করতে হবে। অনেক বাধার মধ্যেই যা রয়েছে, সেটাকেই পরিপূর্ণভাবে ব্যবহার করে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যা নাই সেটি নিয়ে আফসোস করে নিজের জীবনের মূল্যবান সময়গুলো নষ্ট করলে নিজেরই ক্ষতি।
ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইন ইনকাম কনসেপ্টটি মেয়েদের স্বপ্ন পূরণের বাধাকে দূর করবে। এযুগে বাইরে না বের হয়েই, ঘরে সময় দিয়েই নিজের ক্যারিয়ার ঘরে বসেই গড়ে তুলা সম্ভব। এ যুগে নারীরা পিছিয়ে থাকার আর প্রয়োজন নাই।
নিজের মেয়ের জন্মের পর মেয়েদের সমস্যাগুলো ভাবতে গিয়ে অনেকগুলো সমস্যা বের করেছি। সেজন্য আমি আমার জায়গা হতে মেয়েদেরকে আত্ননির্ভরশীল হতে সহযোগীতা করে যাব প্রতিজ্ঞা করেছি। অনেকদিন ধরে ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিংয়ের সাথে জড়িত আমি। এখন থেকে মেয়েদেরকে ৫০% ডিসকাউন্টেই কোর্স করাবো। আপনিও আপনার জায়গা হতে নিজের ঘরের মেয়েদের জন্য কিছু করুন, যা তার ভবিষ্যতকে সুন্দর করবে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৩:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



