আপনি নারী, স্বাধীনতা চান। আমি পুরুষ (মতান্তরে মোল্লা!) আপনাকে অবরোধ বাসিনী করে রাখতে চাই। তাইতো?
আমি জানিনা আপনি মোল্লা বলতে কি বোঝাচ্ছেন। টুপি দাড়ি থাকলেই যদি মোল্লা হয়ে যায় তাহলে দুঃখের বিষয় আমি মোল্লা নই। অবহেলিত খোঁচা খোঁচা দাড়ি এবং প্যান্ট শার্ট পরা সাধারণ আমি নারীদের স্বাধীনতার পক্ষে কন্ঠ মিলাতে চাই।
কিন্তু স্বাধীনতা বলতে আপনি কি বোঝাচ্ছেন, সেটা তো আমার জানার খুব ইচ্ছে। আসুন আপনাদের চালচলন অনুযায়ী আমরা স্বাধীনতার অর্থ খুঁজি।
*নারী পুরুষ সমান অধিকার।
এইটা নিয়ে লেখার আগে উইকি,সামু,আমার ব্লগ সহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরলাম। তাজ্জব হয়ে গেলাম লেখাগুলো পড়ে। উইকিতে ডেফিনেশন, হালকা গৎবাধা তথ্য। ব্যস! কিন্তু ব্লগে যা অবস্থা! আল্লাহ মাফ করুক! যেই কিনা নারীদের উপর পুরুষদের একটু প্রাধান্য দিতে গেছে, সেই খাইছে বাংলালিংক দামে বাংলা গালি!
আমি গালি খাওয়ার জন্য লিখি না। তবে লেখা পড়ে গালি দিলে বাধ্য হয়ে শুনি এবং চুপ থাকার চেষ্টা করি, কারণ আমি বিতার্কিক নই। মূর্খ লেখক।
আমি এখানে বিশদভাবে কোরআন হাদিসের রেফারেন্স টেনে আপনাকে বিরক্ত করবো না। আমি শুধু আমার মনে যা এসেছে তাই লিখে যাবো। সেটা যে যেভাবে গ্রহণ করে আমার কোন মাথা ব্যথা নাই।
--
সমান অধিকার চান, তাইনা? কেন আপনাকে বঞ্চিত করলো কে? ইসলাম? নাকি মোল্লারা? ইসলামের সংবিধানে কোথাও কি বলা আছে যে, অবরুদ্ধ করে রাখো নারীদের। তাদেরকে বাইরে বেরোতে দিওনা! লেখা আছে?
কিন্তু স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা আছে, "পর্দা করার কথা"। এখন পর্দা মানে কি! তাইনা? পর্দা মানে কি কালো বোরখায় জবুথবু হয়ে হেঁটে বেড়ানো!? হতে পারে!
কিন্তু আমার কাছে পর্দা মানে এমন পোষাক পরা যাতে আপনাকে দেখে প্রচন্ড যৌনাক্রান্ত ছেলেটাও
"উফ্ কি মাল রে" না বলতে পারে। আমার কাছে পর্দা মানে আপনার এতটুকু রক্ষণশীল হওয়া যতটুকু হলে আপনাকে কেউ টিজ করবে না, হঠাৎ দেখায় কারো চোখ আটকে যাবে না আপনার কোন অঙ্গের উপর। মোটকথা সাধারণ একজন মেয়ে, যে তার শরীর কিংবা চলাফেরা সম্পর্কে অসাধারণভাবে সচেতন!
(আর মেয়েদের জন্য পর্দা করাটা ইসলামের হুকুম হলেও, সব ধর্মের মেয়েদেরই উচিত একটু কনজারভেটিভ হওয়া। কেন উচিত সেটা আমি জানিনা। জানি শুধু কোন মেয়ে মানেই সম্মানজনক কিছু একটা, হতে পারে সেটা "মা" "বোন" অথবা "প্রিয়তমা"। স্বাধীনতার আড়ালে সম্মানজনক নারী জাতিটা কেন পণ্য হবে? কেন তারা মানুষকে চোখ দিয়ে ধর্ষণ করার সুযোগ দিবে!? )
**
এবার যদি কর্মক্ষেত্র বলেন, তাহলে আমি একটু ভড়কে যাবো! কারণ এখানেও আমার জানামতে ইসলামের কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। পর্দার ভিতর থেকে আপনি পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে পুরুষদের সাথে কাজ করতে পারবেন । সেক্ষেত্রে আপনি নিজের কাছে কয়েকটা প্রশ্ন করে নিন....
"নিজেকে সেইফ রাখার কতটুকু ক্ষমতা আছে আমার? আমি কি পারবো ওই সুশীল বসের লাঞ্চের অফার রিফিউজ করতে?
আমি কি পারবো, বন্ধুভাবাপন্ন কলিগদের মাতাল দৃষ্টি উপেক্ষা করে চলাফেরা করতে? আমি কি পারবো আত্নসম্মান বজায় রেখে সত্যিকারের নারী অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে? "
সন্তোষজনক উত্তর পেলে আসুন একসাথে কাজ করি। আমি সুশীল যতই
"নারী অধিকার নারী অধিকার " বলে লাফালাফি করি না কেন! সুন্দরী আপনাকে দেখলে আমিও রাতারাতি "বদলে যাবো"!!
আর আপনি সুন্দরী না হলে যেখানেই যান না কেন, প্রচন্ড যোগ্যতা এবং স্ট্রাগল করতে হবে।
ঘৃণায় আপনি আমাকে গালি দিতে চাচ্ছেন? আমি দুঃখিত "আপা"। বাস্তবতা বড়ই কঠিন।
***
স্বাধীনতার আড়ালে নারীকে পণ্য বানিয়ে ফেলাটা সত্যিই দারুণ ব্যাপার!
সুশীলরা আপনাদের বলছে,
"তোমরা পরাধীন! ইসলাম তোমাদের অবরোধবাসিনী করে রাখতে চায় । তোমরা আধুনিক হও। রাস্তায় নামো। চিৎকার করে হাত উঁচিয়ে স্বাধীনতা চাও। তোমার ওড়নাটা আরেকটু সরে যাক। আমরা দেখি...।
স্বাধীন হওয়ার পর ওসব অতিরিক্ত জিনিস তোমাদের নিষ্প্রয়োজন হয়ে পরবে। আধুনিক হতে গেলে পাশ্চাত্য সভ্যতা গ্রহণ করতে হবে। তোমরা আধুনিক হও। "
আপনি আমাকে অসভ্য বলতেই পারেন।
বলতে পারেন "তোদের মতো লুইচ্চাদের কারণেই দেশ রসাতলে যাচ্ছে। "
সত্যি ভাই! ভালো হয়ে যাবো কথা দিলাম। কিন্তু আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যান দেখি...
"স্বাধীনতা কিংবা
সমান অধিকার মানে কি? "
ছেলে বন্ধু"দের" সাথে হাত ধরাধরি করে হাঁটতে দিতে হবে! তাই না?
প্রিয়জন সেটাতে বাঁধা দিলেই ন্যারো মাইন্ডেড! ইসলাম বাঁধা দিলেই গোঁড়া ধর্ম! হুজুর বাঁধা দিলেই তালেবান!
ছিঃছিঃ আমি আবার নীচু মানসিকতার পরিচয় দিয়ে ফেললাম! দুঃখিত।
জিন্স, শার্ট, ঢোলা গেঞ্জি ইত্যাদি ইত্যাদি আধুনিক পোশাক গুলো পরাতে কোন আপত্তি করা যাবে না? তাইনা?
আপত্তি করলেই ব্যাক ডেটেড! গেঁয়ো!
আর টিজ হওয়ার পর এই ব্যাক ডেটেড গেঁয়োদেরই মানববন্ধনে দাঁড়াতে হবে! ইভটিজারদের শাস্তির কথা বলে চিৎকার করতে হবে! আর মেয়েটা হালকা মেকআপ নিয়ে আবার জিন্সে ঢোকাবে পা, গায়ে চড়াবে চেক চেক দারুণ সেই শার্ট!
বাহ্! বেশ বেশ বেশ!
বন্ধু ছাড়া তো লাইফ ইম্পসিবল! তাইনা? প্রেমিক একজন স্পেশালি থাকবে কিন্তু বন্ধু থাকবে অগণিত ।
বন্ধুত্বে কোন ছেলে মেয়ে নাই, বাঁধা ধরা কোন সীমা নাই। যখন যা খুশি তাই।
তারমানে ছেলে মেয়ের অবাধ বন্ধুত্ব অথবা গলাগলিতে বাঁধা দিলেই স্বাধীনতা হরণ।
আপনি আমার সাথে একমত না?
পত্রিকায় বন্ধু কর্তৃক ধর্ষিত,অপহৃত মেয়ের ঘটনা পড়েছেন কখনো? আসলে পত্রিকার পাতা খুবই সীমিত। জীবনের বহু আকর্ষণীয়, রসালো অথবা শিক্ষনীয় খবর অপ্রকাশিতই থেকে যায়। কে জানে আপনিও একদিন হতে পারেন সেই অপ্রকাশিত খবরের শিরোনাম। নিজের ভালো পাগলেও বোঝে, বোঝেনা বুদ্ধিমতী নারী।
**
সত্যি বলতে
"নারী পুরুষ সমান অধিকার
কিংবা নারী স্বাধীনতা " এই টপিকটাই খুব সেন্সেটিভ। এটা নিয়ে বিতর্ক চলতে থাকবে বহুদিন। একদিন পাশ্চাত্যের সভ্যতা পুরোপুরি বিকশিত হবে আমাদের দেশে। নারী নেতৃত্বের হাত ধরেই আধুনিক পশু হবো আমরা। নারীদের মূল্য তখন কেমন হবে, সেটা জানতে উন্নতবিশ্বের দিকে একটু চোখ রাখুন।
উন্নয়নশীল দেশের রক্ষণশীল নারীরা ব্যাক ডেটেড-ই থেকে যান। ভালো কিছু জীবনের জন্ম হোক আমার দেশে।
আপনার মতো মায়ের যে বড্ড প্রয়োজন।
***
"নারী দিবস" তো কি হইছে?
নিজের জন্য কিছু বলবো না তা কিভাবে হয়?
অবরোধবাসিনী আমার "মা" কে আমি দেখেছি। বোরখাটা পড়ে ওনার একটু ঘুরতে যাওয়ার খুব শখ। বাবা সময় পান না অথবা গৃহিণীর আবার এতো শখ কিসের?
পুরুষদের এতটা রূঢ় কিংবা ব্যস্ত না হলেই কি নয়?
প্রিয়জনের জন্য আমরা না হয় আকাশের দরজাটা খুলে দিই। ঘুরে বেরিয়ে আবার তারা ফিরে আসুক নীড়ে। বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে পারলেই আপনি "নারী" সত্যিকারের স্বাধীনতা এবং অধিকার পাবেন।
বিঃদ্রঃ অগোছালো লেখায় ভুল ত্রুটি থাকাটা খুব স্বাভাবিক। ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখলে বিতর্ক নিষ্প্রয়োজন হবে। আর শুধরে দিলে তো খুব ভালোই হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মার্চ, ২০১৪ রাত ৯:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



