somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পহেলা বৈশাখ যেভাবে কাটালাম

১৪ ই এপ্রিল, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




পহেলা বৈশাখ তো এখনো শেষ হয়নি । ভাবছেন তার আগেই পহেলা বৈশাখ কাটানোর পোষ্ট !! তাহলে বাকিটুকু পড়েই দেখুন !
কালকে রাতে ভাবছিলাম এবার পহেলা বৈশাখ আরো জম্পেশ করে কাটাবো ।কাছেই বিজিবি ক্যাম্পের মেলা ,টাউন হল পার্কে ঘুরব ।
তার আগে বলে রাখি ,আমি হলে থাকি ।আমাদের ক্যাম্পাসে মংগলশোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল ।সরকারের নির্দেশ প্রত্যেক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজন করতে হবে । আচ্ছা মঙ্গলশোভাযাত্রায় কি মঙ্গল নিহিত আছে সেটা আমি এখনও বুঝে উঠতে পারিনি ! ছোট মস্তিষ্কে বড় বড় ব্যাপার ধরেনা ।
যাইহোক রাতে বিশাল স্বপ্ন নিয়ে ঘুমালাম পহেলা বৈশাখ দারুন কাটাব । রাতে এমনিতেই অনেক দেরিতে ঘুমানো হয় ।কালকে রাতে ১টা ৩০ এর দিকে ঘুমাতে গেলাম ,ঘুম আসতে আসতে সোয়া ২ টা কি আড়াইটা বাজবে । বন্ধুদের সাথে আগেই প্ল্যান করাছিল আজকে পহেলা বৈশাখ অনেক ঘুরাঘুরি হবে ।
সকাল ৮টার দিকে তীব্র কান ফাটানো বাঁশীর শব্দে ঘুম ভাংগল ।বুঝলাম মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়ে গেছে ।চোখে তখন বিশাল ঘুম । একটু পরে উঠি এই ভাব নিয়ে চোখ বুঝে আবার ঘুম । বাঁশির শব্দ উপেক্ষা করে ঘুমালেও কিছুক্ষন পরে সাউন্ড বক্সে বাংলা হিন্দি গান শুরু হল ।
তাও উপেক্ষা করে ঘুমালাম । ঘুমাই আবার গানের শব্দ শুনে ঘুম ভাঙে আবার ঘুমানোর চেষ্টা করি । এভাবে করতে করতে ঘুম দিয়া উঠে ফ্রেশ হয়ে উঠে দেখি ১২ টা বাজে ।হায় কপাল ,মঙ্গলশোভাযাত্রায় আর অংশগ্রহন করা হলনা ! পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে জুনিয়র ছেলে পেলে কিছু খাবারের স্টল দেয়া হইছিল । পাশে মঞ্চে চলছে গান-বাজনা ,নৃত্য ।হিন্দি -বাংলা গান সমাল তালে । আমার এক রুম মেট গিয়েছিল সেখানে ,এক গ্লাস শরবত ,ইলিস-পান্তা খেয়ে ৪০০ টাকা বিল দিয়ে এসেছে ! জুনিয়রদের স্টল বলে কথা !! পকেটে টাকার অবস্থা চিন্তা করে আর ইলিস-পান্তা খাওয়া হলনা !
মঙ্গল শোভাযাত্রাইয় যাইনি ,ইলিস-পান্তা খাইনি , বাঙালিরা কি আমাকে মেনে নেবে ??
হল থেকে ষ্টল আর মঞ্চ দেখা যাচ্ছিল । একটা গান শুনে আবার রুমে আসলাম । তখন পেটে ক্ষুধায় চি চি করছে ।রুমে ৪ জন থাকি ,কেউ খাবার এনে রাখেনা ,খাবার আনলে কখন কে খেয়ে শেষ করে হিসেব থাকেনা । হলের ডাইনিং শুরু হয় ১ টার দিকে ।যেহেতু এক ঘন্টা বাকি ,ভাবলাম ব্লগে একটু ঢু মেরে ,গান টান শুনে কাটিয়ে দেই ।দুপুরে খেয়ে মেলায় যাওয়া যাবে ।সকালের খাবার ঘুম আর আলসেমির কারনে বেশীরভাগ দিনই খাওয়া হয়না ।
ডাইনিং আজকে পহেলা বৈশাখে স্পেশাল খাবার আয়োজন করার কারনে দিল ৩ টায় ।স্পেশাল খাবার দেখে মেজাজ আরো খারাপ হল । প্রতিদিন মুরগীর এক পিস ,আর পাতলা ডাল দেয় ।আজকে স্পেশাল বলতে সাথে ছোট এক পিস নলা মাছ(খেতে খুব বাজে) আর অর্ধেক ডিম ভুনা । প্রতিদিন মুরগী রান্নাটা ভাল হয় ,ভাল হয় বলতে খাওয়া যায় ।আজকে স্পেশাল বলতে একটা তরকারিও ভাল হয়নি ।খাওয়া দাওয়া শেষে একটু জিরিয়ে নিয়ে দেখি ৪ টা বাজে ।তখন আবার আকাশের অবস্থা খারাপ । ও বলাই ত হয়নি দুপুরে হালকা বাতাস আর বৃষ্টির কারনে ক্যাম্পাসের সব আয়োজন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ।
বিকেল ৪ টায় অধিকাংশ মেলাই শেষের দিকে ,তার উপরে আকাশের অবস্থা খারাপ । তখন এক রুমমেট বলল ,তার গার্ল ফ্রেন্ড ফোন দিছে ,তার সাথে ঘুরতে পার্কে যাওয়া লাগবে । সে চলে গেল ।আর এক বন্ধু আছে ,সে কোথাও যায়না এমনিতে ।অনেক জোরাজুরি করলাম না সে কোথাও যাবেনা । বাকি রইলাম আমাদের রুমে ২ জন । অন্যজন তখন বলল ,চল পাশের বিজিবি ক্যাম্পে ঘুরে আসি ।পাশের রুমে আরো দুজন বন্ধু আছে আমরা এই ৫-৬ জন একসাথে ঘুরতে গেলে যাই সাধারনত । ওরা দুজন বাসায় চলে গেছে । রইল দুজন ।আর এই বন্ধুর সাথে ঘুরতে গিয়ে মজা নেই ।সারাদিন টিউশনি করে বেড়ায় ।আজকে সব বন্ধ দিয়ে রুমে আছে মেলায় ঘুরতে যাবে বলে ।
কিছুক্ষন পর তার দুজন ছাত্র আসল ,না তারা পড়তে আসেনি ,এমনি ক্যম্পাস ঘুরতে আসছে ।তো এই বন্ধুও গেল ।আমিও তখন ভাবলাম আর মেলায় গিয়ে কাজ নেই আজ । কিছু বৈশাখি গান শোনা শুরু করলাম । পরে দেখি হালকা ঘুম পাচ্ছে । ঘুমাতে চেষ্টা করলাম ।কিছুক্ষন ঘুমাইছিলাম বোধ হয় পরে মশার কামড়ে ঘুম ভেঙে দেখি সন্ধ্যা পার হয়ে গেছে ।
ফ্রেশ হয়ে আবার ব্লগে ঢুকুলাম ,ঢুকেই শুরু করলাম লেখাটা ।
যারা ব্যাচেলর গার্লফ্রেন্ড নেই ,হলে বা মেসে থাকে তাদের অনেকেরই আমার মত নিরামিষ পহেলা বৈশাখ কেটেছে ।আশা করি আপনাদের বেশ ভালই কেটেছে পহেলা বৈশাখ । আপনাদের কিভাবে কেটেছে জানলে খুশি হতাম ।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৫৫
১১টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কেমনের দিনে

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫



মাঝেমধ্যেই মনের ক্যানভাসটা কেমন যেন বিবর্ণ হয়ে যায়। পৃথিবীর সমস্ত রং হারিয়ে যায় অচেনা পথের বাঁকে। কোনো সংকেত ছাড়াই একরাশ এলোমেলো বিষণ্ণতা এসে জেঁকে বসে মনের কার্নিশে। চারপাশের চেনা জগৎটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি, যার অর্থ খারাপ বা অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়া এবং ভালো বা সৎ মানুষকে রক্ষা করা। এটি মূলত সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু টুথপেস্ট নয়—মোড়ক ছেঁড়ার মুহূর্তেই ছড়াচ্ছে মাইক্রোপ্লাস্টিক

লিখেছেন মুনতাসির, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩০

টুথপেস্ট নিয়ে আলোচনা সবে শুরু হয়েছে, কিন্তু বাস্তবতা আরও অনেক বড়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি সিন্থেটিক পণ্যই এখন মাইক্রো বা ন্যানোপ্লাস্টিক তৈরি করতে পারে—এমনকি একটি চিপসের প্যাকেট ছেঁড়ার মুহূর্তেও,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারো নামে মিথ্যা অপবাদ কাম্য নয় তবে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৯


ঘটনাটি মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং তার সঙ্গে থাকা এক সাংবাদিক বন্ধুকে ঘিরে। পরিবাগ ওভারব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়া জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কী-বোর্ড কাহিনী: ডেল কেবি২১৬

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:০০


আমি ১৯৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কী-বোর্ড ব্যবহার করছি। দেশে থাকতে কী-বোর্ড তেমন প্রয়োজন পড়েনি। মাঝে মধ্যে কেনা হতো। একবার বাংলা লিখার জন্য "বিজয়" সফটওয়্যারের প্রলোভনে, বিজয় এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×