
রংপুরে আজ পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে জেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ।
কি বলেছেন আসুন শোনা যাক ,
"আমার শাসনামলে মানুষ নিরাপদে ছিল। খুন হতো না। আর এখন খুনের মহোৎসব চলছে। নারী ও শিশু ধর্ষণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এর ফলে আমরা সবাই ধর্ষিত হচ্ছি।’ তিনি বলেন, নারী হয়ে জন্ম নেওয়াটাই যেন অভিশাপ " ।
খুন , ধর্ষন হচ্ছে তবে মহোৎসব কি চলছে? তার আমলে মানুষ নিরাপদ ছিল ? এটা কি জোক করলেন ? বাপ দাদাদের কাছে শুনেছি এরশাদ সরকারের আমলে মানুষ টাকা পয়সা নিয়ে চলাচল করতে পারত না ,দিনদুপুরে ডাকাতি চলত । আমার এক চাচার দোকান এলাকার এক পাতি জাতীয় পার্টির নেতা জোর জুলুম করে দখল করেছিল ।এখনও দোকান তাদের দখলে ।কত লোকের জমিও এভাবে বেদখলে চলে গিয়েছিল । এরশাদ সরকারের আমল যারা দেখছেন তারা আরো ভালো জানেন ।আমাদের দেশের রাজনৈতি ব্যক্তিরা বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পেলে ভালই জোক করতে পারেন ,এরশাদ সাহেবকে নিয়ে নতুন কি আর বলব ।আজকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বলছে কালকেই আবার সরকারের গুনগান শুরু করবে । তিনিত কথা ঘুরাতে ওস্তাদ ।
তার আমলে স্বৈরশাসন ছিল শুনেছি ,তিনি তার দলকে কন্ট্রোল করতে পারেননি ,দলিয় নেতা-পাতিরা দেশ লুটেপুটে খেয়েছে । আপনারা এসব দেখেছেন ,আমরা শুনেছি । ক্ষমতা হারিয়ে শুধরাননি একটুও ।আজ এই নেত্রীর তলে তো কাল আরেক নেত্রীর তলে ।নিজের যোগ্যতা নিজেই বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন ।হাতের পুতুল হয়ে আছেন অন্য দলের কাছে ।তার মত ব্যক্তির একটি গনতান্ত্রিক দলের চেয়ারপার্সন হওয়া কতটা যোক্তিক ??
যাইহোক আজকে তার বক্তব্যে আসি ।প্রথমে একটু জোক করলেও পরে অবশ্য বেশ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন,
"বর্তমানে সর্বত্র দলীয়করণ, লুটপাট। ব্যাংকে টাকা নেই। নির্বাহী বিভাগ কারও কথা শোনে না। দেশের মানুষ অশান্তিতে আছে। অস্থিরতার মধ্যে বাস করছে। মানুষের শ্বাস বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষ মুক্তি চায়, মানুষ পরিবর্তন চায়।’
ছিয়ানব্বই সালে আমাদের সমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর আমার সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছে। আমার দল ভাঙা হয়েছে। আর বিএনপির সরকারের শাসনামলে আমাকে জেলখানায় নেওয়া হয়। আমাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। আমাকে ইফতার করতে দেওয়া হয়নি। আল্লাহর রহমতে জনগণের ভালোবাসায় আমি বেঁচে আছি, ভালো আছি।’
‘হাসিনার কথা ছাড়া এখন কিছু নড়ে না। একদলীয় শাসন চাই না, জনগণের শাসন চাই। দুঃশাসনের বেড়াজাল ভেঙে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এবার সেই সুযোগ এসেছে।’
একথা গুলো শুনতে ভাল লাগলেও কাজের বেলায় তাকে বরাবর নিরবই থাকতে দেখা যায় ।একদল তো ঈদের পর আন্দোলন করার হুমকি দেয় বারবার ,সেই ঈদ কখনও আসেনা । জনগনও আন্দোলন চায়না । দেশটা তাই এখন সেরা পাঁচ স্বৈরশাসকের খাতায় নাম লিখিয়েছে ।
এরপর তিনি রংপুর বাসী উদ্দেশ্যে বলেন ,
রংপুর ছিল জাতীয় পার্টির দুর্গ, এখন নেই। আসন কমে গেছে। সে আসন ফিরিয়ে আনতে হবে। সামনে নির্বাচন, এ নির্বাচনে বৃহত্তর রংপুরের ২২টি আসনে দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে হবে। ২২টি আসন পেলে আমরা এবার ক্ষমতায় যাব।’
মাত্র ২২ টি আসন পেলেই তিন ক্ষমতায় যাবেন !! কিভাবে সম্ভব আমার বোধ্যগম্য হয়নি ।
এরপরে মাদক সম্পর্কে একটা দিকের কথা বলেছেন ,
আমার সময়ে ইয়াবা নামে কোনো মাদক ছিল না। এখন চায়ের দোকানেও মাদক পাওয়া যায়। মাদক তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।’
এটা অবশ্য ঠিক বলেছেন ইয়াবা এখন বড় একটা মাদক সমস্যা আমাদের সমাজের জন্য । তার মত রাজনৈতিক ব্যক্তি শুধু বাংলাদেশে আছে বলে টিকে আছে । নেতা অশিক্ষিত ,খুনি কিংবা মাফিয়া হোক না কেন তাদের বিচার হতে খুব কম দেখা যায় ,আইনের-রাজনীতির মারপ্যাঁচে ঠিকই বের হয়ে যায় ।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ১১:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





