ভাই!! আমি বেশী জানি একথার দাবী কখনো করি না, কারণ কোরআনুল কারীমে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দৃঢ় প্রত্যয়েরর সাথে ঘোষণা করেন "وفوق كل ذى علم عليم "অর্থাৎ প্রত্যেক জ্ঞানীর উপর একজন মহাজ্ঞানী রয়েছে, তবে মুসলমান মাত্রই এ কথা জানে যে, শরীয়ত একমাত্র আল্লাহ ও রাসূল সাঃ নির্দেশ অনুযায়ী চলবে। কোন ব্যক্তির চিন্তা -চেতনা কিংবা নিজের ইচ্ছা অনিচ্ছার তো কোন প্রশ্নই আসে না। আর এটাই হল একজন মুমিন -মুসলমানের বিশ্বাস, ঈমান -আকীদা।
এবার মূল প্রসঙ্গে আসা যাক -সদকাতুল ফিতর টাকা দ্বারা আদায় করলে আদায় হবে কি না? কারণ হাদীসে তো টাকার কথা উল্লেখ নেই। টাকা-পয়সা দ্বারা তো নবীজী সাঃ সদকাতুল ফিতর আদায় করেননি? রাসূলুল্লাহ সাঃ কোন জাতীয় দ্রব্যের দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করতেন? নবীজী সাঃ এর নিকটে কি অর্থ ছিল না? তিঁনি কেন এসব দ্রব্য দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করতেন?
প্রথমে আসি হাদীসে কোন কোন দ্রব্যের কথা এসেছে? বোখারীতে ইবনে উমর রাঃ হতে বর্ণিত হাদীসে খেজুর, যব, পনির ও কিশমিশের কথা উল্লেখ আছে।
আর আবু সাঈদ খুদরী রাঃ হতে বর্ণিত হাদীসে উপরোক্ত দ্রবগুলোর পূর্বে খাদ্যদ্রব্যের কথা উল্লেখ আছে।
এখন উল্লেখিত দ্রবগুলো দ্বারা আদায় করতে হবে নাকি এগুলোর মূল্য দ্বারা আদায় করলে আদায় হবে?
মূল্য দ্বারা আদায় করার ব্যাপারে তিনটি মত রয়েছে। যথা :- (১) আদায় হবে না।এ ইমাম শাফেয়ী রহঃ ইমাম মালেক রহঃ ও ইমাম আহমদ রহঃ নিকটে।
(২) নিঃশর্তে আদায় হয়ে যাবে। এ ইমাম আবু হানিফা রহঃ ও হানাফী মাযহাবের সকলের নিকটে ও উপরোক্ত তিন ইমামের এক এক কওল অনুযায়ী।
(৩) বিশেষ কল্যাণ বিবেচনায় আদায় হবে। এ ইমাম আহমদ রহঃ ও ইমাম তাইমিয়া রহঃ এর নিকটে ।
আচ্ছা হাদীসে উল্লেখিত দ্রবগুলো কি /কোন জাতীয় দ্রব্য?
একথা মনে করার কোন অবকাশ নেই যে উল্লেখিত দ্রবগুলো তৎকালীন যুগে শুধুমাত্র খাদ্যদ্রব্য হিসেবে ই ছিল না বরং মূল্য বাবত ও প্রচলিত ছিল। যা সুদ সম্পর্কীয় মশহুর হাদীসে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
এখন কথা হল নবীজী সাঃ কেন এ সকল দ্রব্যাদি দ্বারা আদায় করতেন?
নবীজী সাঃ এর নিকটে অবশ্যই অর্থ ছিল। কিন্তু মদীনাবাসী যেহেতু কৃষক ছিল। তাদের কাছে অর্থের তুলনায় এদ্রব্যগুলো সহজলব্য ছিল। যা কিনা হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাঃ এর বর্ণিত হাদীসের ভাষ্য দ্বারা বুঝে আসে।
আর সদকাতুল ফিতরের উদ্দেশ্যের প্রতি খেয়াল করলে তো টাকার ব্যাপারে কোন কথাই নেই।
والله اعلم بالصواب
জানি না এরা কারা? কি উদ্দেশ্যে? কিসের নেশায়? সমাজে বিভ্রান্তি -ফেতনা -ফাসাদ সৃষ্টিতে লিপ্ত।
আল্লাহ আমাদের সকলকে দ্বীনের সঠিক সমঝ দান করুন। আর যাবতীয় ফেতনা -ফাসাদ ও বিভ্রান্তি হতে হেফাজত করুন।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ১:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




