somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রামগঞ্জ : কিছু কথা কিছু স্মৃতি ১

১২ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৩:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এটা আমার প্রথম ব্লগ লিখা, এটা লিখার পেছনে আমার হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের খুঁজে বের করার ইচ্ছা আছে, সেইসব মধুর স্মৃতিকে স্মরন করা, যে গুলো আমার ছোটবেলা কে রঙিন করে রেখেছিল, স্মরন করতে চাই সেই সব বন্ধুদের, যাদের কারণে আমার প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল খুবই আনন্দদায়ক, যাক আসল কথা শুরু করি।

রামগঞ্জ, লক্ষীপুর জেলার একটি থানা, মফস্বল শহর, আমার বাবা সরকারী চাকুরে, যার জন্য বাংলাদেশ এর অনেক জায়গায় আমাদের যেতে হয়েছিল। রামগঞ্জে ও সে কারণে যাওয়া, আমার বয়স যখন ৫ তখন গিয়েছিলাম সেখানে, ৪ বছর পর সেখান থেকে চলে আসি, তা ও আব্বুর চাকরির কারনে, এখন ও মনে পরে প্রথম যে দিন রামগঞ্জ যাই, সে দিনের কথা, রামগঞ্জ পৌছেছিলাম সকাল ৭ টায়, আমরা থাকতাম ওয়াপদা কলোনীতে, রামগঞ্জ বাসষ্ট্যান্ড এর পাশে ছিল। কলোনীটা ছিল খুব সুন্দর, বাসার সামনে ছিল বেশ বড় একটা খেলার মাঠ, একটা বিশাল দিঘী ছিল, আমার প্রথম সাঁতার শেখা এই দিঘী তে, মনে পড়ে প্রথম যেদিন বিদ্যালয়ে যায় সেদিনের কথা, বিদ্যালয় টা ছিল কলোনী থেকে ১০ মিনিটের, এখনকার মতো এতো বেশী রিকশা অথবা সিএনজি ছিল না, তাই পদযুগল ই ছিল ভরসা, প্রথম বিদ্যালয়ের স্মৃতি তেমন কিছুই মনে নেই আমার, শুধু তিন জন মানুষ ছাড়া, ফাতেমা আপা, খুব ভাল অংকের শিক্ষিকা ছিলেন তিনি, থাকতেন আমাদের উপরের তলায়, আপার একটা বাচ্ছা ছিল ১ বৎসর বয়স, খুবই আদুরে, দ্বিতীয় জন হচ্ছে হুজুর স্যার, কেন জানি না, এই স্যারকে আমার খুবই ভাল লাগতো, স্যার ও আমাকে খুবই আদর করতো, এখন ও মনে আছে, স্যার আমার জন্য উনার বাড়ি থেকে পাকা আম নিয়ে এসেছিল, তৃতীয় জন হচ্ছে বিষ্ণু, একটা মেয়ে, প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণী আমি এই বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছিলাম, বিষ্ণু সবসময় আমার পাশেই বসতো, ওর আম্মা ছিল পাশের উচ্চ বিদ্যালয়ের (মেয়েদের) শিক্ষিকা। যা হোক, এই বিদ্যালয় আমার ভাল লাগে নাই, এই বিদ্যালয়ে থাকার সময় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো প্রথম শ্রেণীতে উপজেলা বৃত্তি পাওয়া, তখনকার সময় এই বৃত্তিটা ছিল খুবই রাজসিক, উপজেলার সবগুলো বিদ্যালয়ের শিক্ষাথীরাই এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেছিল, প্রথম শ্রেণীতে আমি প্রথম হয়েছিলাম, ৩০০ টাকা পেয়েছিলাম পুরস্কার হিসেবে।
পরের বৎসর চলে এলাম "রামগঞ্জ মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়", এখানে এসে বুঝলাম প্রতিযোগীতা কাহাকে বলে, উহা কত প্রকার ও কি কি? এখানে এ্যাডমিশান এর সময় একটা মজার ঘটনা ঘটেছিল, সাধারণত, নতুন কোন বিদ্যালয়ে আসলে নতুন ছাত্র এর রোল নাম্বার হয় সবার পরে, কিন্তু আমার হয়েছিল ৩। শোভন নামে একজন ছাত্র বিদ্যালয় ছেড়ে চলে গিয়েছিল, তখন শ্রেণী শিক্ষিকা আপা জিজ্ঞেস করলো "তোমাকে রোল নাম্বার ৩ দিলে সেটা ধরে রাখতে পারবে?" আমার আগের বিদ্যালয়ে রোল নাম্বার ছিল ১, তাই কিছুটা হলে ও আতেঁ ঘা লেগেছিল, আপাকে বললাম "আগে তো দিয়ে দেখেন", আমার জীবনের প্রথম ত্যারা উত্তর, আপা কি বুঝছে জানি না, উনি আমাকে আর কিছুই বলেন নাই, এখানে এসে পেলাম এক ঝাঁক বন্ধু, ফরহাদ, টিপু, জোবায়ের, কামাল, কামরুল, তাহমিনা, শিখা রাণী দাশ সহ আরো অনেকে, নাম মনে করতে পারতেছিনা বলে কষ্ট লাগছে।

পরের পর্ব
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৫৯
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×