somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অভিশাপ

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তখন মধ্যরাত। দরজায় দমাদম শব্দ হচ্ছে। কি করবে রহিমা বিবি, কোথায় লুকাবে এখন তার এই কিশোর ছেলেকে। ছেলে যে মুক্তিবাহিনীর চর! সবাই যে জেনে গেছে এটা। একমাত্র ছেলে সাদেককে পুরো শরীরটা দিয়ে আড়াল করে ঢেকে রেখেছে সে। চেয়ে আছে বিস্ফোরিত নয়নে দরজাটার দিকে। ১৩ বছরের সাদেকের মুখ সাদা হয়ে গেছে আতঙ্কে! ওদিকে দরজার বাইরে থেকে ভেসে আসছে হায়েনার চিৎকার।
হঠাৎ করেই দড়াম করে ভেঙে গেল দরজা! ঘরের মাঝে হুড়মুড় ঢুকে পড়ল ১০/১২ জন মানুষ। এই মানুষগুলোর মধ্যে সবার সামনে দাঁড়িয়ে আছে কালোমতন একজন, নাম তার কাদের। কাদের মোল্লা। এলাকায় সে জবাই করে ছাড়া মানুষ মারে না। আড়ালে আবডালে লোকে তারে ডাকে কসাই কাদের!
কাদের হাত দিয়ে ইশারা করলেই তিনজন ধরে নিয়ে গেল সাদেককে। মা শরীরের সবশক্তি দিয়ে আটকাতে চেয়েছিল, পারেনি। কাদের শক্ত করে ধরে রেখেছে দুই হাত।
"বাবারে, আমার পোলাডারে ছাইড়া দে বাবা", হাউমাউ করে ওঠে রহিমা।
"ওই হারামির পুতরে শোয়া"। কাদেরের হুমুম পেয়ে সাদেককে জোর করে চারজন মিলে চেপে ধরে। রহিমাকে আরেকজনের হাতে দিয়ে সাদেকের দিকে এগিয়ে যায় কাদের মোল্লা। হাতে তার প্রিয় কাটারি। সব চেয়ে বেশী মানুষ এটা দিয়েই কেটেছে সে।

তখনো রহিমা বিবি চিৎকার করে প্রানভিক্ষা চাইছিল সন্তানের। কাদের মোল্লার কাটারির টানে যখন সাদেকের গলা দিয়ে ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরছিল তখনো রহিমা বিবি চিৎকার করছে। কিছুক্ষন ছটফট করেই থেমে গেল সাদেকের শরীরটা, সাথে মা রহিমাও। যেন একসাথে মরে গেল দুজন। প্রানহীন চোখে নিজের সন্তানের দিকে চেয়ে আছে রহিমা।
কাদের বেরিয়ে যাচ্ছিল। রহিমা শুধু বিড়বিড় করে বলল, "তুইও মরবি কাদের, তুইও মরবি। তোর মরন হইবো এর থেইকা ভয়ংকর!"
আবছাভাবে কথাটা কানে এল কাদেরের। কর্ণপাত করেনি সে। দেশদ্রোহীর মা কি বলল তাতে মাথা ঘামানোর কোন মানে হয় না।
এরপর কেটে গেল ৪২ বছর। সেদিনও মধ্যরাত। কাদের কিছু দেখতে পাচ্ছেনা। মুখ তার কালো কাপড়ে ঢাকা। গলায় পরানো হয়েছে রশি। এলাকার মানুষ যে কসাই কাদেরের নামে কাঁপত সে এখন থরথর করে কাঁপছে । যে তখন মুহূর্তের কোপে মানুষ কেটেছে এখন তার মৃত্যু হবে দড়িতে ঝুলে, ছটফট করতে করতে। হঠাৎ তার মনে পড়ল ৪২ বছর আগের রহিমা বিবির বিড়বিড় করে বলা সেই কথা, "তুইও মরবি কাদের, তুইও মরবি। তোর মরন হইবো এর থেইকা ভয়ংকর!"
একজন মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, পুরো দেশের মানুষ তাতে খুশি হচ্ছে। এর চেয়ে ভয়ঙ্কর মৃত্যু হয়?
হাতলটা ধরে টান দিল জল্লাদ, কাদেরের পায়ের নিচ থেকে সরে গেল কাঠের পাটাতন, দড়িতে ঝুলন্ত কাদের পড়ে গেল এক কালো আধারে। এমনই আঁধার যে আঁধারে একটি জাতির কলঙ্কের কালিমা কিছুটা হলেও মুছে যায়।

ঘটনাটা কাল্পনিক। তবে এটা সত্য যে, এরকম শত শত মা বিড়বিড় করে তখন অভিশাপ দিয়েছিল কাদেরকে। এতো মায়ের অভিশাপ বিফলে যায় না রে কাদের, এতো মায়ের অভিশাপ বিফলে যায় না।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জন্মগ্রহণ কি আজন্ম পাপ?

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬



রাষ্ট্রের নিরাপত্তা আছে, জনগণের নিরাপত্তা কোথায়?

বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে কি নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারটুকুও আমাদের নেই? সরকার ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকে। কিন্তু সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×