somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

love story

১৯ শে জুলাই, ২০১৬ দুপুর ১২:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভালবাসার জয়
,,,,ইমন চৌধুরী
--এই তুই আমায় মেসেজ দিবি না।
--কেনো বল তো?
--ঝাটা মারি তর মুখে আমায় আনফ্রেন্ড করলি কেন?
--হুম মহারানী এখনো রেগে আছ!
--খুব
--নাক কি ফুলে উঠেছে?
--মানে?
--মানে রাগলে তরে অনেক সুন্দর দেখায়।ঐ নাক তো তর একটা আস্ত কলাগাছ,,,
হেসে ফেলে নাবিলা।ছেলেটা ওকে বড্ড ভালবাসে,কিন্তু ও তো এখন তাকে এড়িয়ে চলতে চায়।নাবিলার বিবাহর কথা চলছে।এই গত দিন ও তো ওকে বর্গির দল দেখে গেছে,কিন্তু ও বলবে কি ভাবে নাবিল কে।ছেলেটা তাহলে কিছু পাগলাম করে বসবেই।আব্বু কে বলবে ঠিক করে নাবিলা।কিন্তু একঝাক লজ্জার অবগাহন ওকে ঘিরে ধরে।চকবাজার মোরে এতক্ষনে এসে গেছে মেয়েটি।কিন্তু সেদিকে ওর দৃষ্টিপাত নেই।
যে করে হক আজ ওকে বাসায় বলতেই হবে,ও বর্গিদের আস্তানায় গেরা গারতে চায় না।
জোরে জোরে পা চালায় নাবিলা।
মাগরিবের আযান এই হল কৃত্রিম শহরের আলোক বাজি সবে শুরু।রিকশা করে যেতে হবে,ব্যাগ হাতরে ২০টাকা পেল নাবিলা।যদি রাত্তির না হত তবে এ ২০টাকা সে খরছ না করে একটি মুবাইল কার্ড কিনে নিত।
*
--নাবিলা রেডি হয়ে নে,,,
--আবার কে আসবে আব্বু,ঐ বর্গিরা তো?
--শোন মেয়ের কথা ও তোমার হবু বর,তুমি থাকে দেখবে না?
--না আমার দেখার কাজ নেই।
--কে কোথায় আছিস মেয়েটার দিকে একটু খেয়াল দাও,ওরা সবে এলো বলে!
কাজে ব্যাস্ত হয়ে গেলেন উনি,কত্থ কাজ পরে আছে তা তো সামলাতে হবে।
ফোনের স্কিনে বার বার তাকাচ্ছে নাবিলা,এই সময়টায় যদি কৃপটেটা কল করত।চোখ চাপিয়ে জল চলে আসে সবার অলক্ষে,সে তো ওকেই চাই তবে কেন তা বলতে পারছে না।
--আসুন আসুন বেয়াই কত সুভাগ্য,আবার পায়ের ধুলো পড়ল।
মজুমদার সাহেবের একমাত্র ছেলের সাথে উনার মেয়ের। বিয়ে হবে এটা কি ছোট কথা।যেখানে উনার কোম্পানি তে তিনি চাকরী করেন,না মেয়েটা বড্ড ভাগ্য নিয়ে জন্মেছে,ভাবেন শিকর বাবু।
--কি বল ভাই সুধু সুধু লজ্জা দিচ্ছ , মা যে আমার সাক্ষাত প্রতিমা।আমি তো তোমার কাছে ভিক্ষা চাচ্ছি মাত্র।
শিকর বাবু আশ্চর্য হন এত সম্পদ প্রতিপত্তি যার সে এত নিরহংকার হয় কেমনে,শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে আসে সবার অলক্ষে।মেয়েটা অনেক সুখি হবে।
--সাহেব সে বলে আমায় ছোট করবেন না।
--আশ্চর্য তুমি সেই সেকালেই আছ ভাই,আমি তোমার বেয়াই।আর এমনটি করবে না।কই আমার মা কে নিয়ে আস।
সবার মওনতার অবসান করে প্রতিমার পদচারণে ঘড় আলো হল যেন ভাবেন মজুমদার বাবু।না ছেলেটার পছন্দের তারিফ করতে হয়।
--না না তাক মা সালাম করতে হবে না,হাত দেখি।
একটি দামি হিরের আন্টি পরিয়ে দেন মজুমদার সাহেব।ঘর যেন ধাধিয়ে গেল এর আলোর চটায়।
--তো বেয়াই,বাবাজি কে তো দেখছি না, উনির তো দেখা চাই।
--না বেয়াই ও আগেই দেখে ফেলেছে।তুমি ও তো দেখেছ।আর ভাই ওর একটা জুরলি কাজ থাকায় আসতে পারে নি।তো বিয়ের তারিখ ঠিক করে ফেলি কি বল।
--এটা তো আমার সুভাগ্য।
--সামনের সাপ্তায় একটা ভালো দিন আছে সেদিনেই শুভ কাজ সারা যাক কি বল।
--আলহামদুলিল্লাহ তাহলে শুক্রবারই?
--হুম,তাহলে আসি ভাই সেই কথাই থাকল।
*
কখন থেকে কল ট্রাই করছে নাবিলা কিন্তু নাবিলের সুইচ অফ।রাগে কাঁপে নাবিলা বুদ্ধুটার একটু যদি আক্কেল থাকত!চট করে মাথায় একটা বুদ্ধি আসল, যাক এ দুশ্চিন্তার অবসান হল।
--অর্ক কই যাচ্ছিস?
--দিদি ফুটবল খেলতে,না না একন ছার না।
খামটা দেখেই বুজতে পারল সে নাবিল ভাইয়ের কাছে আপুর ওটা পাঠানো চাই।কারন বেচারা পর্বে অনেকবার হয়েছে এই পোস্টাফিসের ডাকপিয়ন।
--দেখ এই যে চকলেট।
--এত্ত!পেলি কই রে দিদি।
লোভাতুর এই দৃষ্টি কে বড্ড উপভোগ করে নাবিলা।
--যাবি না, আচ্ছা চলেই যাই।
--না দিদি প্লিজ দে আমি যাব।
ওর মুখে হাসির ঝিলিক খেলে গেল।চকলেট বক্স আর খামটা এগিয়ে দিল ভাইয়ের দিকে।এত্ত সুন্দর করে হাসে কিভাবে দিদি ভাবে অর্ক।
*
নামাজ শেষে অযিফা পড়ছে নাবিলা মন টা অনেক হালকা লাগছে।নাবিল কোনো পাগলাম করে নি,ও নিজে থেকে চলে গেছে নাবিলার জিবন থেকে।জগন্য ভাবে সে লিখেছে "তুই ওকে বিয়ে কর কারন ঐ একমাত্র তর ভালবাসা পাওয়ার যোগ্য"। তার চল ছিল এতদিন নাবিলা আর ভাবে না,সে একন বাচঁতে পারবে।প্রশান্ত মন নিয়ে বিয়ের পিড়িতে বসল সে।আজ তার মনে কোনো অন্যায় বোধ নেই।
--বেয়াই অবশেষে বিয়ে সম্পূর্ণ হল।
--সবই আল্লাহ পাকের অশেষ দয়া।
মজুমদার আর শিকর বাবুর মুলাকাত হয়ে গেছে।
*
বাসর রাত্তির সাজানো ঘরটা কন্দনরত হয়ত নাবিলার সাথে।সে এখন এত ভেঙ্গে পড়ছে কেনো!নাবিল তো ওকে নিজ থেকে ছেরে গেছে।
ঘড়ির দিকে তাকায় নাবিলা রাত ২টা বাজে,সেই সময় দরজায় আস্তে করাগাত করছে ওর হবু বর।
পায়ের শব্দ ধিরে ধরে ওর পাশে এসে থেমে গেল।
--নাবিলা
ঘুমটার আড়ালে কেঁপে উঠল নাবিলা।
--নাবিলা
চমকিয়ে উঠে তাকায় সে,এক দৃষ্টি তে চেয়ে থাকে সুধু কয়েক মূহুর্ত।তারপর দুমদাম কয়েকটা কিল বসায় জামাই মশাইয়ের পিট বরাবর।খুশির অবগাহনে জরিয়ে ধরে দুজন দুজনকে।সুধু অস্ফুট কন্ঠে বলে নাবিলা তাহলে লিখা মিথ্যা ছিল।পরম আবেগে নাবিল বলে,
না মিথ্যা না কারন আমিই সুধু তর ভালবাসা পাওয়ার যোগ্য।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুলাই, ২০১৬ দুপুর ১২:৪৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×