ইনাম বিন সিদ্দিক
ঘুম ভেঙে আহত হওয়ার মত খবর দেখলাম। একটি পত্রিকায় তিন কলামজুড়ে ছবিটি ছাপা হয়েছে। শিরোনাম ‘বোরকা পরা মহিলাদের মানবন্ধন’। ছোট্ট করে পাশে বিবরণ লেখা। খবরটি পড়েই আতকে উঠলাম। এমন কাজ করলেন কোন সাহসে। তাও একজন মুফতি। সাবেক সংসদ সদস্য তিনি। তার এমন সিদ্ধান্ত দেখে না আতকে পারা গেল না। না কেঁপে থাকা গেল না। দেশের রাজনীতি, সময় ও পরিস্থিতি তো ওই সাবেক সংসদ সদস্যের অজানা নয়। বিলকন জানা আছে বলেই তো চলমান ইস্যু নিয়ে মাঠে নেমেছেন। কিন্তু এমন করে নামবেন, প্রতিবাদের এমন ভাষা হবে তার। কে জানত এসব। কোথায় চলেছে আমাদের রাজনীতি। কোন সময়ে বসবাস আমাদের। এত অদূরদর্শিতা! এত দুঃসংবাদ!
বলছি মুফতি শহীদুল ইসলামের কথা। সাবেক সাংসদের পরিচয়ের সাথে তার আরেক পরিচয় তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির। এমন একজন মানুষের অদূরদর্শিতায় পুরোপুরি হতভম্ব। জাতি হিসেবে লজ্জিত। এই লজ্জা অজ্ঞতার। এই লজ্জা অদূরদর্শিতার।
আমরা হিসেব মিলাতে পারিনি, একজন সাবেক সংসদ সদস্য, একটি ইসলামি দলের নায়েবে আমির হয়ে কীভাবে তিনি মাদরাসার ছাত্রীদের ঢাকার পথে নামালেন। তাদের দিয়ে মানবন্ধন করালেন। তিনি কি তবে প্রতিবাদের নতুন ইসলামি তরিকা আবিষ্কার করলেন। ছাত্রদের মিছিলের জন্য ব্যবহারের পর ছাত্রীদেরও ব্যবহারের সহিহ তরিকা বাতলে দিলেন। এই তরিকার ভবিষ্যৎ কি তা দেখতে আমাদের অপো ছাড়া আপাতত করার আর কিছু নেই। কিন্তু একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তার কাছে আমাদের অবশ্যই জানবার আছে, এই যে মেয়েদের তিনি রাস্তায় নামালেন, এদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল।
নিরাপত্তার বিয়ষটি নিয়ে প্রশ্ন করতে হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতির সা¤প্রতিক কিছু অভিজ্ঞতার কারণে। আমরা দেখেছি মিছিল-সমাবেশে নারীরা লাঞ্ছিত হওয়ার সেই জাহালিয়াত এখনও দূর হয়নি মাঠের রাজনীতি থেকে। এই কিছু দিন আগেও হরতালে এক মহিলা নেত্রী লাঞ্ছিত হওয়ার ছবিটি নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। একাধিক পত্রিকায় প্রথম দিন ছবিটি লিড হয়েছে। তারপর বিতর্ক চলেছে অনেক দিন। এক বড় দলের মিছিলে এ্যাকশনের যেভাষা ছিল, তাতে আর যে কেউ অন্তত নারীদের নিয়ে কোনো প্রোগ্রাম করার আগে শতবার চিন্তা করার দরকার বলে আমরা মনে করি। অনেকে হয়ত বলতে চাইবেন, এদিন তো মানবন্ধন ছিল। তাদের উজরখাহির জন্য আমরা বিনীতভাবে বলব, এই দেশের রাজনীতিতে এখন মানবন্ধন আর হরতাল মিছিলের খুব একটা তফাত করা হয় না। ইচ্ছে হলে যে কেনো প্রোগ্রামেই ‘এ্যাকশনে যাওয়া হয়।’
আমাদের উদ্বেগ হল, এইদিন যদি (আল্লাহ পাকের শোকরিয়া, এমন কিছু হয়নি। নিরাপদে আমাদের বোনেরা, মায়েরা বাড়িতে ফিরেছেন।) কোনো ‘এ্যাকশনে’ যেত পুলিশ। তখন কি হতো! এ্যাকশনে যায়নি, এটা বলতে হবে ‘খাস মেহেরবানি’। কিন্তু যদি এ্যাকশনে নামত পুলিশ তাহলে এই মেয়েদের কী হতো! কোন্ আশ্বাসে একজন মুফতি মাদরাসার ছাত্রীদের ইজ্জত এভাবে নিলামে তুলেছিলেন!
আলোচিত ব্লগ
'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!
প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন
এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে
একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।
গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।