১
পুরোনো গল্পে বারংবার আমাদের ফিরে যাবার নিয়ম। বিশেষ করে আমরা যারা বাঙ্গালি, তাদের জন্য।
এ গল্পটা সেই রুপবতি টাইপিস্টের। যে রোজ দেরি করে অফিসে পৌছুলেও বস আদর করে তেমন কিছু বলতেননা। তবে একদিন সহ্যের বাঁধ ভেঙে বস মেয়েটিকে রুমে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন- কি ব্যাপার আপনার? রোজ রোজ দেরি করে অফিসে আসেন কেনো?
রুপবতি টাইপিস্ট একগাল হেসে মিষ্টি করে জবাব দিলো- কি করবো স্যার? অফিসে আসার হাঁটা পথে রোজ এক যুবক আমাকে ফলো করে। আমার পিছে পিছে আসে!
যুবক আপনাকে ফলো করলো, তাই বলে আপনার অফিস পৌছুতে দেরি কিভাবে হয়?
স্যার, ওই ছেলেটা এতো আস্তে হাঁটে। এইজন্যেই আমার দেরি হয়!
প্রতি বছর ঈদের সময় পদ্মায় লঞ্চ ডুববে, স্পিডবোট ডুববে। বাস, ট্রেন এক্সিডেন্ট হবে। প্রশাসন বদলাবে না, বাঙালি জাতিও বদলাবেনা। পরিবহণ ব্যাবস্থাপনায় অনিয়ম বহাল থাকবে, যাত্রিরাও ট্রেন-বাসের ছাদে ঝুলতে ঝুলতে গ্রামে যাবেন, লঞ্চের কার্ণিশে ঝুলতে ঝুলতে বিড়ি ফুকবেন। ট্রেনের ছাদে অনেককে বউ বাচ্চা নিয়েও উঠতে আমি দেখেছি! এখানে দুর্ঘটনা ঘটলে দ্বায়টা কি ঠিক ১০০ ভাগ প্রশাসনের?
যার যা দ্বায়িত্ব, আমরা কেউই পালন করতে পারিনা। আমরা শুধু পারি অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়তে। কি আর করা, আমরা আজন্ম বাঁদর। কবে মানুষ হবো প্রভু?
২
পদ্মার মাওয়ায় পিনাক-৬ যেদিন ডুবলো, তার আগেরদিন ডুবেছিলো একটা স্পিডবোট। ৪ জন নিখোঁজ যাত্রি নিখোঁজই থেকে গেছেন। আর লঞ্চ ডুবিতে নিখোঁজদের দীর্ঘ মিছিলে ওই চারজন তো নস্যিই। আমাদের এমনতরোই সিস্টেম। বিষে বিষক্ষয় যাকে বলে। গতকাল যে লোকটার পুত্র মারা গেছে, সেই শোককে চাপা দেওয়ার জন্য আজ মারা যাবে তার কন্যা। সেই দুঃখের পাথর লাঘব করবার জন্য পরের দিন তিনি নিজেই অমন আরেক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাবেন।
ভাবছি এইসব বলে লাভও বা কি আছে? নৌপরিবহণ মন্ত্রি কিছুদিন আগে বলেছিলেন, বিগত সরকারের আমলের তুলনায় এখন নৌদুর্ঘটনা খুবই কমে গেছে। শুনছি, পিনাক-৬ এ তারও ৩ জন আত্মিয়া ছিলেন!
৩
মাওয়ায় যেদিন স্পিডবোট ডুবলো, তার আগের দিনের কথা। ওই একই সময়ে আমিও কাওড়াকান্দি থেকে মাওয়ার উদ্দেশ্যে পদ্মার অথৈ জলে ভাসছিলাম। স্পিডবোটেই। অন্য সময় যে বোটে ১২ জন যাত্রি উঠায়, ওদিন উঠাচ্ছিলো ১৮ জন করে।
আমরা দুচারজন প্রতিবাদ করতে, ওরা বললো- যাইতে না চাইলে আপ্নেরা নাইমা যান! যাওনের লোকের অভাব আসে নিকি?
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০১৪ বিকাল ৩:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



