![]()
মধ্যযুগের ইউরোপে উইচক্রাফটের কথা আমরা জানি। এবং সেটুকু জানলে এটুকুও আমরা জানি যে কিভাবে সাধারণ মানুষেরা উইচক্রাফটের দোহাই দিয়ে অসংখ্য লোককে পুড়িয়ে মেরেছিলো। এর পিছনে ছিলো চার্চের প্ররোচনা।
এথেনা মধ্যযুগীয় কোন রমনী না। সে আধুনিক যুগের এক নারী। ছোটো থেকেই যে পালিত হয়েছে পালক পিতামাতার কাছে। যত বড় হয়, সে বুঝতে পারে অলৌকিক কিছু ক্ষমতা তার মাঝে বড় হচ্ছে, তার সাথে সাথে। পৃথিবীর প্রচলিত বিশ্বাসের, নিয়মের চেয়ে তার জীবন দর্শন যতদিন যায়, আলাদা হয়ে যাচ্ছে। আদতে তার জীবনটা এই রহস্যময় অলৌকিকতার অনুসন্ধান কিংবা একটা ভ্রমণ।
গল্প বলার ঢং অভিনব। লেখক বলছেন, কাহিনীটা একটা বায়োগ্রাফি। যার জীবনি, পরিচিত মানুষেরা তাকে যেভাবে দেখেছে তাদের জবানীর মাঝ দিয়েই ই বায়োগ্রাফি বলে গিয়েছেন লেখক। আমি পাওলো কোয়েলহোর বই "উইচ অভ পোর্তোবেলোর" কথাই বলছি। এটা এমন এক নারীর গল্প, যে নারীটি নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলো ডাকিনীবিদ্যার প্রতি।
আদিভৌতিক বিষয়গুলোর প্রতি এথেনার অবসেশন, তার অদ্ভুত বোহেমিয়ান জীবন, উত্থান-পতনের গল্পই হলো উইচ অফ পোর্তোবেলো। পাওলো কোয়েলহোর অন্যান্য বইগুলোর মতোই এ বইটাও অসাধারণ সব জীবন দর্শন আমাদের সামনে মেলে ধরে। জীবনকে ভালবাসতে শিখায়, আনন্দিত কিংবা দুঃখী করে তোলে।
বইয়ের কিছু অংশ তুলে দেওয়ার লোভ সামলানো গেলোনা।
পৃথিবীতে ৪ ধরণের নারী দেখা যায়-
১। কুমারী ( আমি শারীরিক বা অক্ষতযোনী কুমারির কথা বলছিনা)। এ ধরণের মেয়েরা স্বাধীনচেতা হয়। নিজের যোগ্যতাবলেই পৃথিবী থেকে দরকারি বিষয়গুলো এরা শিখতে আগ্রহী হয়। সবসময় ভালবাসে নিত্য নতুন প্রতিকুলতার মুখোমুখি হয়ে তাকে জয় করতে।
২। শহীদ। এই ধরণের নারীরা জীবনকে বুঝতে শেখে বেদনা, আত্মত্যাগ আর দুঃখকষ্টকে মেনে নেওয়ার মাধ্যমে।
৩। সন্ন্যাসিনী। এরা ভালবাসার সর্বোচ্চ শীখরে নিজেদের নিয়ে যায়। নিঃস্বার্থ হয়ে ভালবাসে, প্রতিদানের আশ্বাস ছাড়াই।
৪। ডাকিনী। এরা পরমানন্দ ও পূর্ণতা প্রাপ্তির অভিযানে নিজেদের নিয়োজিত করে। জীবন তাদের কাছে এক অনুসন্ধান।
সাধারণত, নারীরা এই চারটির যেকোনো একটি ধরণকে তাদের জীবনাদর্শে পরিণত করে, কিন্তু এথেনা একই সাথে এই চার রকম সংজ্ঞা নিজের মাঝে ধারণ করেছিলো!
--------------------------------------
অতঃপর এনামুল রেজা
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১০:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


