ক্ষেতলালে গণহত্যা:
একাত্তরের মে মাসের শেষের দিকে কোনো একদিন সকালবেলা ক্ষেতলাল হিন্দুপল্লী, উত্তরহাট শহর, হারুনজা হাটসহ বিভিন্ন স্থানে গণহত্যা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। রাজাকার আলীমের নির্দেশে যাদেরকে হত্যা করা হয়, তাদের মধ্যে রয়েছে, বাদল, সচীন ওরফে ভানু, প্রবাস চন্দ্র শীল, মনিভূষণ চক্রবর্তী, কার্তিক চন্দ্র বর্মণ, নিমাই চন্দ্র বর্মণ, প্রিয়নাথ বর্মনসহ অপরিচিত আরও ৩ জন।
রাজাকার আব্দুল আলীমের নির্দেশে বিভিন্ন থানায় শান্তিকমিটি গঠন করা হয়। রাজাকার আব্দুল আলীম ও পাকিস্তানী মেজর আফজালের নীলনকশা ও পরিকল্পনায় জয়পুরহাটের বিভিন্ন উপজেলা, পার্শ্ববর্তী নওগাঁ জেলা এবং দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তিবাহিনীর সহায়তায় লুটপাট চালায়। রোযার ঈদের আগে ক্ষেতলাল থানাধীন উত্তরহাট শহর হাটের পশ্চিম পাশে আনুমানিক বিকেল ৩টায় মেজর আফজাল ও রাজাকার আব্দুল আলীম একটি জীপ গাড়িযোগে আসে। সঙ্গে বহু পাকিস্তানী সেনা। ৫০০/৭০০ জনকে নিয়ে সেখানে মাইক লাগিয়ে জনসভার আয়োজন করা হয়। রাজাকার আব্দুল আলীম জনসভায় বলে যে, আগামী ঈদে আমরা কলকাতা গড়ের মাঠে নামায পড়ব। সাধারণ মানুষের সাহস বৃদ্ধির জন্য কাউকে ক্ষমা করা যাবে না। এদের যা পাও লুট করে নাও। হত্যার জন্য ১০ জনকে ক্ষেতলাল সদরে নিয়ে যাওয়া হয়।
মিশন স্কুলে সম্ভ্রমহরণ:
একাত্তরের ১৮ জুন রাতের বেলায় দক্ষিণ খাস পাহুনন্দা মিশন স্কুলে কয়েক যুবতীকে ১৫ দিন আটকে রেখে সম্ভ্রমহরণ করা হয়। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ ১৮ জুন ১৫০ থেকে ২০০ জনের একদল পাকিস্তানী সৈন্য মিশন স্কুলে আসে। সেখানে দুই থেকে আড়াইশ’ জন নিরীহ মানুষকে আটক করে। এর মধ্য্যে ১৫০ জনকে সেই রাতেই গুলি করে হত্যা করে তাদের লাশ গর্ত করে পুঁতে রাখা হয়। বাকিদের পরদিন ছেড়ে দেয়া হয়। এছাড়া রাজাকার আব্দুল আলীমের নির্দেশে তার ঘাতক বাহিনী মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ করে, যা অভিযোগপত্রে উঠে এসেছে
[সংগৃহীত]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



