somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শীতার্তদের মাঝে নিজ উদ্যোগে শীত বস্ত্র বিতরণ করলাম।

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকে কি কেউ টিভিতে একটা নিউজ দেখেছেন? এই শীতে একটা নিষ্পাপ শিশু মারা গেছে আর তা দেখে বাচ্চার মায়ের কি আহাজারী??? ভাই আমি এই নিউজের লিংক দিতে পারছিনা কারন আমি নিউজটা টিভিতে দেখেছি।

এই সংবাদটা দেখে আমার শরীর শিউরে উঠেছিল।এই কনকনে শীতে আমি এবং আমরা কত আরামে আছি কিন্তু সেই গরীব লোকগুলো তারা কতই না কষ্ট পাচ্ছে। আর তাই বিবেকের তাড়নায় শুরু করলাম শীত বস্ত্র সংগ্রহের কাজ।

বন্ধুদেরকে জানালাম ব্যাপারটা বললাম দেখ দোস্ত আমি সেদিন রাতেও বাসায় ফেরার সময় দেখি রাস্তার পাশের মানুষগুলো ছালা গায়ে দিয়ে শুয়ে আছে। আর আমরা লেপ/কম্বলের নিচে শুই। কত কষ্টই না করছে তারা চল কিছু গরম কাপড় সংগ্রহ করে বিতরণ করি।

কিন্তু তখনই কিছু বন্ধু বলে উঠল দেখ আমরা ভালো ঘরের পোলা মানুষের বাসায় বাসায় এভাবে যাওয়াটা কেমন দেখায় না? তাছাড়া সবাই কি কাপড় দিবে? আমি বললাম তোদের লজ্জা লাগলে থাক কিন্তু আমি পারছিনা আমাকে কাপড় সংগ্রহ করতেই হবে।

তারপর দেখি ধীরে ধীরে সবাই আমার সাথে এগিয়ে এলো কাপড় সংগ্রহের জন্য। কিছু বাসায় এমনভাবে বলল যে, তাদের কথা শুনে মনে হল আমরা ভীক্ষে করতে নামছি তারপরও আমি হাল ছারিনি কিছুক্ষন পর কাপড় পা্ওয়া শুরু করলাম তখন আর সেই মহিলার দুর্ব্যবহার মনে থাকল না।

আস্তে আস্তে দেখি আমাদের ৩টা বড় ব্যাগ কাপড়ে ভরে গেল সবার মুখ উজ্জ্বল হতে লাগল ২বন্ধূ গিয়ে আরো ২ টা বস্তা কিনে নিয়ে আসল। ৩০মিনিটে সেগুলোও ভরে গেল তারপর আরো ৫টা কিনলাম । আস্তে আস্তে সেগুলো্ও ভরে গেল।

তখন ওদের বললাম দেখছিস সমাজে ভালো মানুষ বেশি না খারাপ মানুষ??? একজনের খারাপ ব্যবহারের জন্য তো কাপড় সংগ্রহ করাই বন্ধ করে দিতে চেয়েছিলি আর এখন!


ওরা বলল লেকচার বাদ দিয়া বল এখন সামনের প্লান কি? আমি বললাম খুব ভালো হতো যদি আমরা সেন্ট্রালি এই কাপড়গুলো বিতরণ করতে পারতাম কিন্তু আমাদের যে প্রশাসন দেখা যাবে ৯০% কাপড় বিক্রি করে দিয়ে ১০% হয়তো বিতরণ করবে!

তাই নিজেরাই একটা পিকআপ ভ্যান সংগ্রহ করে সেই বস্তাগুলো নিজেদের কাধে করে বয়ে নিয়ে পিকআপে উঠালাম। যাওয়ার সময় সবচেয়ে অবাক হলাম যে ব্যাপারটায় সেটা হলো আমাদের সবার এই কাপড় সংগ্রহের কাজ দেখে এক লোক তার গায়ের গরম কাপড়টাই খুলে দিলেন আর আমাদের চা নাস্তা খাওয়ার জন্য ৩০০ টাকা দিলেন।


আমরা সবাই গতকাল রাত ১১.০০ টার দিকে বের হলাম গরম কাপড় বিতরণ করতে আমি প্রথমেই সবাইকে বললাম দেখ আমাদের মতো আরো অনেকেই শীক বস্ত্র বিতরণ করছে দেখা যাচ্ছে কোন এলাকার মানুষ ২বার পাচ্ছে আবার কেই একবারও না তাই চল আমরা এন্টিক জায়গা খুজে সেখানে আগে বিতরণ করি যেহেতু সাথে গাড়ি ছিল তাই সমস্যা হলো না।

যেখানেই যাই মানুষের চোখে মুখে যে কি আনন্দ সেটা আপনি কখনো কোন ছবিতে তেখতে পাবেন না সত্যিই তাদের আনন্দ দেখে আমার এবং আমাদের কত যে ভালো লেগেছিল তা ভাষায় বলে বোঝাতে পারব না। মানুষের জন্য কিছু করতে পারার যে কি আনন্দ সেটা বলে বোঝানো সম্ভব নয়।আমাদের কষ্টটা বৃথা যায়নি।সারাদিনের ক্লান্তি একদম ভুলে গিয়েছিলাম ওদের আনন্দ দেখে।


হায় আমার দেশ সবাই যদি নিজ নিজ স্বার্থের পরেও একটু গরীবদের নিয়ে ভাবত!


অনেকেই ভালো কাজ করতে চায় তবে উদ্যোগ সবাই নিতে পারেনা! আপনারও যদি এমন কিছু করার ইচ্ছা থাকে তাহলে আর দেরি করবেন না আর যা কিছু না পারেন অন্ততপক্ষে আপনার নিজ এলাকার কিংবা নিজ বিল্ডিংয়ের লোকজনের কাছ থেকে কিছু গরম কাপড় সংগ্র্রহের চেষ্টা করুন

আমাদের বস্ত্র বিতরণের কিছু ছবি দিলাম।

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১:৩১
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্ধের দেশে আয়না বিক্রি করতে এসেছিলেন ইউনুস স্যার!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩৪



অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ছেড়ে গেলেও নতুন বাংলাদেশ গড়ার সার্বিক দায়িত্ব আমার, আপনার, আমাদের সবার। দীর্ঘ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন কিরকুট, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

*** জামাত শিবির এর যারা আছেন তারা দয়ে করে প্রবেশ করবেন না ***


বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এখন আর কেবল একটি দলের ভাগ্যের প্রশ্ন নয় এটি রাজনৈতিক ভারসাম্য, গণতান্ত্রিক কাঠামো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীর বুকে এই দুর্যোগ যেন কোনওদিন না আসে

লিখেছেন অর্ক, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২২



পৃথিবীর বুকে এই দুর্যোগ যেন কোনওদিন না আসে। দুর্ধর্ষ মাফিয়া একটি রাষ্ট্রের মালিক হতে যাচ্ছে। দেশ সীমানা ভূখণ্ডের গণ্ডি পেরিয়ে, পৃথিবীর জন্যই অত্যন্ত বিপদজনক। অবশ্য নির্মম বাস্তবতা হলো, আগাগোড়া অসভ্য,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবশেষে দেশে গণতন্ত্র কায়েম হইলো

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৩

দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে এখন আমাদের আর কোন টেনশন রইলো না। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের বিজয়ী প্রার্থীদের আজ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই মূলত দেশ আবার গণতন্ত্রের ট্রেনে যাত্রা শুরু করলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রঙিন ডালিম ফলের একটি ব্যতিক্রমি অঙ্গ বিশ্লেষন ( Anatomy of Pomegranate )

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১১


সবুজ পাতার আড়াল ভেঙে
ডালিম ঝুলে লাজুক রঙে
বাইরে রক্তিম খোলস কঠিন
ভিতরে দারুন জীবন রঙিন।
শত দানার গোপন ভুবন
একসাথে বাঁধা মধুর টান
হৃদয়ের হাজার স্বপ্ন যেন
লুকিয়ে থাকা রক্তিম গান।

উপরে প্রচ্ছদ চিত্রে রেনেসাঁ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×