somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেলায় মেলারন্য শহর টরন্টো!

০৩ রা জুলাই, ২০০৭ সকাল ৭:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গতকাল ছিল পহেলা জুলাই। ক্যানাডার জন্মদিন। হ্যাপী ক্যানাডা ডে। এদিকে টরন্টোর বাঙ্গালী কমিউনিটি মেতেছিলো আনন্দ উৎসবে। মেলায় মেলাময় হয়ে উঠলো শহর। ডাউন টাউনের রিজেন্ট পার্কে হলো “বাংলা মেলা” আর বাংলা টাউন নামে পরিচিত ভিক্টোরিয়া পার্ক এবং ডেনফোর্ত এলাকার ডেন্টনিয়অ পার্কে হয়ে গেল “সময় মেলা”। বাংলা মেলার আয়োজক মূলত “বাংলা কাগজ” নামের একটা সাপ্তাহিক আর সময় মেলা হলো “সময়” নামের আরেকটা সাপ্তাহিকের আয়োজন। এখানে একটা বিরাট বিবাদ আছ এই দুই মেলায়। বাংলা মেলার উপস্থিত লিবারেল পার্টির প্রাদেশিক মূখ্যমন্ত্রী আর তার পারিষদের উপস্থিতি এবং বাংলাদেশী স্টাইলে বক্তব্য প্রদানের ফলে সাধারনের মনে হল সেটা “লিবারেল পার্টি”র একটা প্রচারনা সভা। অন্যদিকে সময় মেলার মূল উদ্যোক্তা সময় পত্রিকার সম্পাদক আলমগীর হোসেইন (যিনি এক সময় ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহসভাপতি ছিলেন) এনডিপি (বামপন্থী) মনোনীত এমপিপি প্রার্থী হিসাবে এনডিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের দিয়ে কোন রাখঠাক না করেই রাজনৈতিক বক্তব্য দেবার সুযোগ দিয়ে তাদেরকে বিমোহিত করেছেন। ক্যানাডার কোন রাজনৈতিক নেতা এতোবড় জনসমাবেশে বক্তব্য দেবার সুযোগ হয়নি বলেই আমাদের বিশ্বাস।


এই বিষয়ের একটা ইতিবাচক দিক হলো - ক্যানাডা ডে -তে বাঙ্গালীরা যেভাবে মেলার মধ্য দিয়ে পালনের মধ্য দিয়ে মূল ধারার জনজীবনে একটা প্রভাব ফেলছে। আর মনে হচ্ছে - বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নীতিমালায় যে অংশ বলা হয়েছে - রাজনৈতিক দলগুলোর লেজুড় নিষিদ্ধ - তার বিষয়ে যথেষ্ঠ সজাগ হয়ে ৩ টা বিএনপি আর চারটা আওয়ামীলীগের শাখা নিয়ে কোন্দল বাদ দিয়ে ক্যানাডীয় রাজনৈতিক দলে ভিড়ছেন। তবে জামাত কিন্তু ধীরে ধীরে আরো সংঘঠিত হচ্ছে। বাংলা টাউনের প্রান কেন্দ্রে একটা মসজিদ থাকা অবস্থায়ও সেখানে সুবিধা করতে না পেরে নতুন একটা মসজিদ খোলা হয়েছে - যাতে জামাত সমর্থকদের লক্ষ্যনীয় কর্মকান্ড লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ধান ভানতে গিয়ে মনে হচ্ছে শিবের গীত হয়ে গেল। যা হোক এবার আসি মেলার বিষয়ে। সকাল থেকে শুরু হওয়া দুইটি মেলাতেই ধীরে ধীরে দর্শক সমাবেশ হতে থাকে। বিভিন্ন পন্য নিয়ে বসা স্টলগুলোতে ভীড় ছিল চোখে পড়ার মতো। আর খাবার ষ্টল যথারীতি ঢাকার মেলাগুলোর কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে।

হৈমন্তী শুক্লা আর মমতাজের উপন্থিতি মেলার জনগনের জন্যে একটা বিরাট আকর্ষন ছিল...সকল গায়ক গায়িকা এবং বক্তাদের সব রকমের অত্যাচার সহ্য করেও রাত ৮ টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন তারা আর গান শুনেছেন রাত দশটা পর্যন্ত। ( উল্লেখ্য যে, এখানে এখন সূর্যাস্থ হয় রাত ৯:১০ মিনিটে)

দুইটি মেলায় উল্লেখযোগ্য জনসমাগম দেখে কিছুটা আবেগাল্পুত হতে হয়েছে। বিশেষ করে এক যুগ আগে যখন এখানে বসত গড়ি - তখন কোন অনুষ্ঠান করতে হলে মাসখানেক আগে ফোনবুক খুলে বসতে হতো - কার কখন অফ ডে আছে সেদিক লক্ষ্য রেখে দিনক্ষন নির্ধারন করে - অনুষ্ঠানের আগে তোষামোদি ফোন দেওয়ার পরও অর্ধ শত জনসমাগম হলে সেটাকে সাফল্য জনক অনুষ্ঠান হিসাবে বিবেচিত হতো। এখন দুই দুইটা মেলায় দর্শক উপস্থিতি আর স্বতস্ফূর্ততা দেখে মনে হলো - আমরা কি বিদেশটাকে দেশ বানিয়ে ফেললাম!

( একই সাথে সামহোয়ার আর অচলায়তে পোষ্টায়িত)
১৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে হেরে যাচ্ছি ০২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪


কাহিনীটা ৯০ এর দশকের শুরুতে। বুশ তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট- মার্কিনিদের আগ্রাসন চলছে তখন ইরাক জুড়ে। হাটে মাঠে ঘাটে আড্ডায় গল্প আলোচনা মিডিয়ায় এমনকি বাসর ঘরেও তখন নব পরিণীতার সাথে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×