গত ৬ ই জুলাই ছিল একে৪৭ রাইফেলের জন্ম দিন ছিল। এই উপলক্ষে মস্কোতে আয়োজিত এক পার্টিতে ৮৭ বছর বয়স্ক এই মারাত্মক অস্ত্রটির জনক মিখাইল কালাশনিভকে রাশিয়ার এক প্রবাদ পুরুষ হিসাবে বর্ননা করেন রাশান প্রেসিডেন্ট পুতিন। উল্লেখ করা যেতে পারে - অস্ত্রটি ডিজাইনার কালাশনিকভের নামানুসারে নামকরন করা হয় "Avtomat Kalashnikova," অথবা "Kalashnikov's automatic weapon" ।
১৯৪৭ সালে এই রাইফেল বাজারে আসার পর একক ভাবে ছোট অস্ত্রের বাজার একক ভাবে ধরে রেখেছে। এই সময়ে ইরাক, প্যালেস্টাইন এবং আফগান যোদ্ধাসহ সকল গেরিলাদের বহুল ব্যবহূত অস্ত্র এইটি।
বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ যখন আনবিক বোমাকে সবচেয়ে মারাত্বক অস্ত্র হিসাবে বিবেচনা করে এর বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলে সেই সময় চুপিসারে ক্ষুদ্র অস্ত্রগুলো বাজারে প্রচুর ব্যবসা করে নেয়। এক হিসাবে দেখা গেছে এখন ছোট অস্ত্রের বাজারে প্রতি বছর ৭০ লক্ষ নতুন অস্ত্র যোগ হয়। এর বেশীর ভাগই আসে আমেরিকা আর ইউ থেকে। এর বাজারের আয়তন ২০০০ সালে ছিল ৭.৪ বিলিয়ন ডলার - এখন বেড়েছে বলাই বাহুল্য। আরেকটা তথ্য আরো ভয়াবহ - বিশ্বে এখন ৬৩৯ মিলিয়ন ছোট অস্ত্র আছে ব্যবহারকারীদের হাতে - যার ৫৯% বেসামরিক লোকজনের হাতে।
আর ছোট অস্ত্রের কারনে মৃত্যুর হিসাবটাও ভয়াবহ।
১) যুদ্ধে এই অস্ত্রের ব্যবহারে মারা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।
২) শান্তিকালীন সময়ে বছরে দুই লক্ষ মানুষ মারা যায় ছোট অস্ত্রের আঘাতে। আমেরিকা, ব্রাজিল এবং দক্ষিন আফ্রিকায় যুবকদের মৃত্যুর প্রধান কারন হলো ছোট অস্ত্র।
৩) বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ২০ লক্ষ শিশু ক্ষুদ্রাস্ত্রের আঘাতে মারা যায়।
৪) প্রতি বছর প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ এই কারনে আহত হয়।
এই অবস্থার কথা কালাশনিভের না জানার কথা না। তার মেধা দিয়ে তৈরী অস্ত্রের এতো মৃত্যুতে তার ঘুমের ব্যঘাত ঘটাতে পারেনি। সে বলেছেন - “আমি সুনিদ্রা উপভোগ করি”। কারন সে বিষয়টাকে একটু ভিন্ন ভাবে দেখে। তার মতে এই সকল সংঘাত আর মৃত্যুর জন্যে দায়ী হলো রাজনীতিবিদরা। কারন তারা বিবাদ মিমাংসার পথ হিসাবে শান্তির পরিহার করে সংঘর্ষের লিপ্ত হয়। কিন্তু চোর ডাকাতদের হাতে এই অস্ত্র দেখলে কালাশনিকভ কষ্ট পান বলে জানিয়েছেন - কারন পিতৃভূমি রক্ষার জন্যই তিনি এই অস্ত্রটা বানিয়েছিলেন।
বিবেককে চাপা দিয়ে শান্তিতে ঘুমানোর এটাই কি আসল পথ - সব দোষ অন্যজনের উপর চাপিয়ে দাও আর নিজেকে মহান ভাবো - যদিও সেটা মানবজাতিকে বিপর্যস্থ করে দিচ্ছে।
সুত্র ১
সূত্র ২
আলোচিত ব্লগ
জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার
ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন
একটা ছিলো সোনার কণ্যা, মেঘ বরন কেশ!!!!

শাওন প্রশ্ন করেছিলে ৭৮ বছর বয়স্ক একজন মহিলার। অন্তর্বাস উচিয়ে যখন অন্তর্জালে দাঁত মুখ খিচিয়ে উল্লসিত বহু পোস্টে ভেসে যায় ।কিংবা দেয়ালে সরাসরি দি লিখে প্রচার করছিলো তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন
‘ছুটি’র স্মৃতি
(প্রায় দু’মাস আগে লেখা। তখন গ্রীষ্মকাল হলেও ঢাকায় কয়েকদিন পরপর বৃষ্টি হতো। এখনকার মত “ঘাম ঝরে দরদর” ধরণের গরম ছিল না। রাতগুলো তুলনামূলকভাবে বেশ ঠাণ্ডা থাকতো।)
আজ খুব ভোরে (শেষরাতে)... ...বাকিটুকু পড়ুন
যে কারণে এবারের বিশ্বকাপও আর্জেন্টিনার ঘরেই উঠবে B-)

কারণ আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত, মেসি-মার্তিনেজরা অপ্রতিরোধ্য। আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত এই বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচেই একছত্র আধিপত্য দেখিয়ে জয়লাভ করে প্রবল বেগে ফাইনালের দিকে ধ্বাবিত হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে গতবারের... ...বাকিটুকু পড়ুন
হোমিওপ্যাথি হচ্ছে একটি ধাপ্পাবাজ কিবিরাজি চিকিৎসা পদ্ধতি এর বৈজ্ঞানীক কোন ভিত্তি নেই

হোমিওপ্যাথি যে একটি ভাঁতাবাজি চিকিৎসা পদ্ধতি তা আমি আগেও জানতাম কিন্তু আমি কখনো এর বিরুদ্ধে কথা বলিনি বা কোথাও কিছু লিখিনি- তবে আজ কি মনে করে চ্যাটজিপিটির কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।