"টঙ্গীর সেই যুবক"
.
.
.
[খণ্ডঃ ০১ Click This Link ]
.
.
.
খণ্ডঃ ০২
.
.
প্রায় এক ঘন্টা কথা হল নাদিম ও নাছিরের। নাছির শিমলা সম্পর্কে যাবতীয় খবর ও তার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানাল নাদিমকে। নাদিম সব কিছু শুনে স্পষ্ট বুঝতে পারল শিমলা তার প্রতি অনেকটাই দুর্বল হয়ে আছে।.............
এক সঙ্গে দুপুরের খাবার খেয়ে টঙ্গীর উদ্দেশ্যে রওনা করল নাদিম। সারাপথ সেই পুরনো স্মৃতি গুলো নাড়া দিতে থাকল তাকে।
রাত এগারটা। ঘুমায়নি কিন্তু ঘুম ঘুম ভাব চোখে নাদিমের। হঠাৎ ফোন বেজে ইঠল সমস্ত তন্দ্রা কাটিয়ে দিল মোবাইলের উচ্চ সাউন্ড। ফোন হাতে নেয় নাদিম। অপরিচিত নাম্বার।
-হ্যালো!
কোন আওয়াজ নেই ওপাশে।
-হ্যালো হ্যালো!!
নাদিম আরো কয়েকবার হ্যালো হ্যালো করে বিরক্তির সাথে ফোনটা রেখে বিছানায় গা এলিয়ে দিল।
তিন মিনিট পর আবার ফোন।
সেই একই নাম্বার। নাদিম সবুজ বাটনে চাপ দিয়েই বলে উঠল সমস্যা কি আপনার? কাকে চাই?
:কেমন আছো নাদিম?
-নাদিম অপ্রস্তুত ভাবে জবাব দিল....... ভালো তো আছি ;....কিন্তু কে?
নাদিমের মোবাইল নাম্বারটা গতকাল নাছিরের কাছ থেকে নিয়েছে শিমলা। কিন্তু নাছির নাদিমকে তা জানায়নি। আজ শিমলা কে নিয়ে আলোচনা করার পর রাতে আবার শিমলারই ফোন! নাদিম একটু অবাক হচ্ছে।
-শিমলা?
:বেজাই আনন্দ লাগছে যে এত বছর পরেও তুমি আমার কণ্ঠ চিনতে পেরেছো।
নাদিম চুপ করে থাকে। কি বলবে তা বুঝতে পারছেনা।
:কেমন ছিলে এতদিন?
:কি করছো এখন?
:তোমার কি ছোটবেলার সেই কথা গুলো মনে পড়ে?
নাদিম মোবাইলটা কানের সঙ্গে লাগিয়েই রেখেছে শুধু কোন কথা বলছেনা। মুহূর্তেই চলে গেছে সেই পুরনো কৈশরে - স্কুলের বিভিন্ন রুম, দরজা আর আঙ্গিনায় ঘুরে ফিরছে আর স্মৃতিতাড়িত হচ্ছে।
:তোমার আম্মা ভাল আছেন তো?
নাদিম সম্বিত ফিরে পায়। কোন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সে বলে
-শিমলা তুমি কেন এত দিন পর আমার সাথে যোগাযোগ করছো? আর কেনই বা হঠাৎ পুরোনো দিনে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছ?
.
.
.........................কথা চলছেই................
.
.
এক ঘণ্টা তের মিনিট কথা হয় তাদের দুজনের।
নাদিম বুঝতে পারে শিমলা তার জীবনে অটুট বন্ধনে আবদ্ধ হাতে চাচ্ছে। কিন্তু মুখে সরাসরি বলেনি কিছু। নাদিম এ সম্পর্কে জড়াতে চায়না। শিমলারা বিত্তশালী লোক। ওর বাবা বিরাট ব্যবসায়ী। চাচারা ঢাকা শহরের পুরনো ধনী। এদিকে নাদিম একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের যুবক। প্রধান সমস্যা এই জায়গায়। শিমলার পরিবার কিছুতেই এ সম্পর্ক মেনে নেবেনা। নাদিমের বাবা-মাও শক্ত ধরনের। তাঁদের পছন্দ না হলে তাঁরাও এটি মেনে নেবেনা। আবেগকে বিদায় করে দিয়ে বাস্তবতা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ে নাদিম।
পরদিন দুপুরের শেষ বিকালের শুরু নাদিম দুই বন্ধুর সাথে সিরাজ ভাইয়ের দোকানে কফি খাচ্ছে। চমৎকার কফি বানায় সিরাজ ভাই।এই এলাকায় আরো দশ বারোটা দোকান থাকলেও বেশিরভাগ যুবক সিরাজ ভাইয়ের দোকানে ভিড় জমাই। কফি আর দুধ চা এই দুটো জিনিসে কফি বা চা পাতা, দুধ আর চিনির অনুপাতটা ঠিক ঠাক মত জানা ও প্রয়োগ করা বিশাল একটা শিল্প এবং বিরাট এক যোগ্যতা। সব দোকানি এই অনুপাতটা ঠিক রাখতে পারেনা তাই কফি বা চায়ের আসল ফ্লেভারটা বের করে আনতে পারেনা। এ ক্ষেত্রে সিরাজ ভাইয়ের জুড়ি নেই। অবশ্য আরো একটা দোকানের নাম বলাই যায় এখানে তা হল পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম গেইটের জামাল ভাই এর দোকান। তিনি এ বিষয়ে আর একটু এগিয়ে। দুধ চা থেকে কফির ফ্লেভার বের করে আনেন (অবশ্য বাড়তি কিছু যোগ করা লাগে।)
.
মোবাইল বেজে উঠল নাদিমের। শিমলার ফোন। বন্ধুদের কাছ থেকে উঠে গেল নাদিম।
:কি করছো নাদিম?
.........তের মিনিট পর...........
.
-দেখ শিমলা তুমি যেটা চাও এটা সম্ভব নয়। তোমার আমার অবস্থার অনেক পার্থক্য। তোমার আমার সম্পর্ক আজ না হোক কাল বিয়েতে গড়াবে। আমাদের পারিবারিক অবস্থাতো কিছুটা হলেও তোমার জানা। আমার বাবা একজন শক্ত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন লোক। তার পছন্দের বাইরে কোন কাজ তিনি কোনভাবেই মেনে নিতে চাইবেননা। তাছাড়া তোমার পরিবারও এ সম্পর্ক মেনে নিবেনা।
:আমি কোন বাধা বিপত্তির কথা শুনতে চাইনা। আমি তোমাকে ভালবাসি এবং অনেক আগে থেকেই তা প্রসন্ন ছিল আমার হৃদয়ে আমি তোমায় বলতে পারিনি। মাঝে হারিয়ে ফেলেছিলাম তোমাকে। এখন হারাতে চাইনা। আমাকে ফিরিয়ে দিওনা নাদিম। আমার পরিবারের কথা তোমার ভাবতে হবেনা। সে ব্যবস্থা আমার দায়িত্বে।.......
.
.
নাদিম দিনের পর দিন বাধ্য হাতে থাকল তার অনিচ্ছার সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৪:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




