somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উদাসীর কিছু জমে না!

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ১১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইদানিং বেশ ব্যাস্ততায় দিনকাটে। ব্যস্ততার মাঝে মনে হয় এক সময় কোনো কাজ করবো না, শুধু ভাববো অতীতের কথা।
ইদানিং খুব মনে পড়ে আমার পুরোনো বন্ধুদের কথা।কুফা জাহিদটার বাসায় যেতে মন চাইছে আজ। কাজিপাড়ায় থাকতো ছেলেটা। কলেজে প্রথম এসে এই ছেলেটার সাথে দেখা এবং প্রথম দেখাতেই মনে হলো ছেলেটা মিশতে পারে যেকোনো পরিবেশে। আমরা মাঝে মাঝেই ফার্মগেটের খ্রীস্টান পাড়ায় আড্ডা বসাতাম। তখন ওখানে সুইডেন আসলামের ছোট ভাই জাকির, লীগের কচি ভাই ছিলো প্যাসিফিক এ্যাসেম্বলির হর্তাকর্তা। আমাদের ঐ আড্ডায় একটা ছেলে ছিলো "ক্যালকাশিয়ান" আলাউদ্দিন। সাইজে বাট্টু হলে কি হবে, এলাকায় এমন কোনো ক্যাডার নাই যে ওরে মাইর দিয়া তাগো ক্যাডার লাইফ শুরু করে নাই। এক্সারসাইজ করতে করতে পেটে ৬টা এ্যাবস বের করে ফেলেছিলো। একবার কি হলো,কোরবানী ঈদের আগে হঠাত জাকির ভাই এসে ওর কলার ধরে,"তোর নাম কি?" চারিদিকে পোলাপান প্রায় ঘিরে ফেলেছে!
-জ্বী, আলাউদ্দিন!
কাপতে কাপতে আলাউলের জবাব।
-আবার যদি ঐ খানে দেখি তর ঠ্যাং এর নলি ভাইঙ্গা দিমু!এখন এইখানে খাড়া তরে সাইজ করতাছি!
আমাদের অনেকের ছোটাছুটি শুরু হয়ে গেলো। এলাকার পুলাপান জড়ো করে তার মাথা ঠান্ডা করার ব্যাবস্হা করতে হলো। পরে যেটা জানতে পারলাম জাকিরের কোনো এক বোনের সাথে আলাউদ্দিন টাংকি মারতে প্রতিদিন। ওর স্কুলের পথে দাড়িয়ে থাকতো,পিছু নিতো, শয়তানী করতো। হঠাত একবার ও সাহস করে একটা চিঠি ছুড়ে দেয় গ্রীন সিগন্যাল পেয়ে। ও তখনও জানতো না এই মেয়েটা কে? যাই হোক সেই যাত্রায় ওর মাথা মুন্ডানো হয়, আর তেমন কিছুই খোয়াতে হয় নাই। আরেকবার থার্টিফার্স্ট নাইটে খুব হল্লাহাটি হলো।এলাকার বড় ভাইদের সাথে অনেক বিটলামী। তখন রিগ্যানদের বাসায় জায়গা না হওয়ায় সবাই শুতে গেলাম আলাউদ্দিনের বাসায়। কারন রাতের বেলা গান আর গ্যান্জ্ঞাম করার পর অবস্হা ছিলো না বাসায় যাবার। ওর বাসায় যাবার পর ও লুঙ্গি দিলো সবাইকে। সকালে যখন ঘুম ভাঙলো তখন দেখি অধিকাংশ বাইরে বেরিয়ে গেছে। আমি চোখে মুখে পানি দিয়ে বাইরে বেরোই। দেখি জাহিদ পাজকোলা করে আলাউদ্দিনকে উপরে তুলছে আর নামাচ্ছে। আমি বললাম," কিরে আবার কি করলো?"
জাহিদ বললো," আরে বলিস না,সকালে প্যান্ট পরার টের পাইলাম আমার সিণ্গাপুরী আন্ডুয়াটা চেন্জ্ঞ হইয়া গেছে। পরে শুনি আলাউদ্দিনেরটাও। এখন দেখি ওর ওয়েট মাপতাছি এই পিচকারটা আমার আন্ডুয়াটার পরার পর কত ওজনে বাড়লো!"
পরে শুনি কেউ কারো আন্ডুয়াটা ফেরত নেয় নাই। জাহিদ এখন অস্ট্রেলিয়ায়। চট্রগ্রামে মেরিন ফিশারিজে পড়ার পর ওখানে এ্যাকাউন্টিং পড়তে চলে গেছে ২০০৩ সালে।
হয়তো সামনের বছর বিয়ে করতে আসবে হবে আবার একটা রিইউনিয়ন! তবে এখন মনে হয় অনেক বেলা পেরিয়ে গেছে।

আরো যাদের কথা মনে পড়ে তারা আহাদ, নাহিদ, জামিল, রাসেল, আহাম্মদ আলি, রাসেল লস্কর আরও কত। এদের সাথে নানা স্মৃতি আজও মিশে আছে। যেমন নাহিদের একবার কি হলো এলাকার ঝর্নাকে বিয়ে করবে। পাগলা সাধেই পাগলা না, পুরা জাত পাগলা। ঝর্নার বাবা মা কোন মতেই চাইছিলো না, এই পাগলের সাথে ওর বিয়ে দেবে না। ও মাথা গরম করে পাশের কুমার নদীতে দিলো ঝাপ। ঝাপ দিয়েই পড়লো সমস্যায়। কারন শীত কালে কুমার নদীতে হাটু পানি!
মাথাটায় আজ নস্টালজিক রোগে ধরছে। সবাই একে একে আসছে যাচ্ছে মাথার ভেতরে। পার্থর মাথানস্ট গানটা বার বার বাজছে বুকে:

একলা ঘরে ধুলোজমা গীটার
পড়ে আছে লেলিন পড়ে আছে সেক্সপীয়ার
টিশার্ট জিন্সগুলো দেয়ালে আছে
শুধু মানুষটা তুই নেই তো নেই কাছে

ও বন্ধু তোকে মিস করছি ভীষন
তোকে ছাড়া কিছু আর জমে না এখন!


আসলেই কিছু জমে না!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:০২
২৭টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৩৬



ফেসবুক মেমোরিঃ
৩২ জুলাই এই পোস্ট লিখেছিলাম.....

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

ভালো থাকার চেষ্টা সবসময় করি, বেঁচে থাকার উপাদান খুঁজে নিতে চেষ্টা করি- পুঞ্জিভূত ক্ষোভ আর কিছু করতে না পারার আফসোস... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা সীমানা পেরিয়ে - বালির দাগে রাজনীতি

লিখেছেন রাজসোহান, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:০২



১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর রাতে পৃথিবীর ইতিহাসে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। ভোলা সাইক্লোন। দশ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস উঠে আসে ব-দ্বীপের নিচু চরে। মৃতের সংখ্যা তিন থেকে পাঁচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কথার বুলেট ছুড়ি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



ভাবতে তোমার দোষটা কোথায়?
ভেবে দেখো পাপ করোছো নাকি
সংসারে কেনো জাহান্নামে পুড়ো-
ভাবতে তোমার দোষটা কোথায়?

দোষটা তোমার নিজের ভুলগাড়ি
কেমনে চালাও ব্রেক ফেল হয় আড়ি
অহমিকার ভুলটা তোমার নয় কি
দোষটা তোমার নিজের ভুলগাড়ি।

এক্সিডেন্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরি - ১৯৫

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১২



আজ সকালে হোটেলে নাস্তা করেছি।
ইচ্ছা ছিলো ঘুম থেকে উঠবো ১২ টায়। কিন্তু এক ছাগলে অকারণে ফোন করে ঘুমটা নষ্ট করে দিয়েছে। রাতে যে মোবাইলের সাউন্ড বন্ধ করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ ভ্রমনঃ মেহেন্দীগঞ্জ উলানিয়া_জমিদার বাড়ি

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭

আপনি যদি ঢাকায় থাকেন, তবে কোনো এক বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় চলে যান সদরঘাটে। সেখান থেকে উলানিয়াগামী কোনো একটি লঞ্চে উঠে পড়ুন। লঞ্চের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে এক পাশের একটি কেবিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×