somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লা-মাযহাবী/গায়ের মুক্বাল্লিদ/আহলে হাদিস: আশির্বাদ নাকি অভিশাপ?

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“চার মাযহাবের অনুসারী পৃথিবীতে কত পার্সেন্ট’’ এর উত্তরে কেউই 95% এর কম বলবে না। বাকি কেউ সালাফী, লা মাযহাবি আবার কেউ মাযহাব না মেনে শুধুই ‘“মুসলিম” বলতে পছন্দ করেন। যাইহোক, সংখ্যা যেমন সত্য মিথ্যার একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না, ঠিক তেমনি বিশাল জনগোষ্ঠীর বিপরীতে গুটিকয়েক অবস্থান সঠিক হওয়া অতি নগন্য। ইসলামের ইতিহাসে এরকম দলকে “ফিরকা” আখ্যায়িত করেছে।

পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলে তেমন চোখে না পড়লেও ভারত উপমহাদেশে বর্তমান সময়ে চার মাযহাবকে অতি নিকৃষ্ট এবং ভ্রান্ত মতবাদ ঘোষণা করে, দীর্ঘ তের শ’ বছর ধরে মুসলমানদের আমলকে “অগ্রহণযোগ্য” সিদ্ধান্ত দিয়ে সরাসরি হাদিসের উপর আমলের চেষ্টা করা হচ্ছে। হাদিসের উপর আমল করা নাজায়েয তো নয়ই বরং উচিত। কিন্তু তারা একটি হাদিস অনুযায়ী আমল করতে গিয়ে অন্যের আমলকে হারাম এমনকি শিরক পর্যন্ত বলে ফেলা হচ্ছে। যারা নিজেদেরকে আসলুস সুন্নাহ বলেন এবং দাওয়াতী কাজ করতে চান, তাদেরকে অবশ্যই স্হান কাল পাত্র সম্পর্কে জ্ঞাত থাকা আবশ্যক।

●লা-মাযহাবিদের মধ্যে মূলতঃ তিনটি স্তর বা দল রয়েছে।
(i) প্রচারক দলঃ গায়ের মুক্বাল্লিদের প্রথম দল হচ্ছেন, আলেম। যাঁরা কোনো ইমামের তাক্বলিদ না করে, কারো মাযহাব না মেনে সরাসরি কোর'আন-হাদিস থেকে শরীয়ত পালনের দাওয়াতী মিশনে কাজ করেন। অনলাইনে-অফলাইনে বিভিন্ন লেকচার, বই প্রচার করেন।এসব উলামা-এ-কেরাম কারো কাছে বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার, কারো কাছে ইসলাম বিদ্বেষীদের পেইড এজেন্ট, কারো কাছে গোমরাহ আলেম। কিন্তু এরকম কোনো ধরণের খেতাব না দিয়ে বলা উচিত, তারাও ইসলামের খেদমত করতে চান, ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিতে চান সর্বত্র। তাঁদের জন্য শুধু এটুকুই প্রার্থনা, আল্লাহ যেন তাঁদেরকে এবং তাঁদের মাধ্যমে পুরো উম্মাহকে সিরাতুল মুস্তাকীমে প্রদর্শন করুন।

(ii)আলেম-বিদ্বেষী দলঃ এই গ্রুপের আদি-অন্ত খুঁজলে পাওয়া যায়, সবসময়ই আলেম-উলামাদের অপছন্দ করে। এরা আলেমদেরকে ডিঙিয়ে কোর'আন-হাদিস এবং ইসলাম নিয়ে আসতে চায়। ইসলাম চায় কিন্তু আলেম চায় না। আলেমদেরকে সর্বদা ইসলাম বিক্রেতা বলে আসছে। ইতিহাস বলে, এরকম নবীর ওয়ারিসদের নর্দমায় ফেলে নবীকে ধরতে একটা দল আবু বকর (রাঃ)’র যুগ থেকেই চলে আসছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খলিফাকে অমান্য করা দিয়ে শুরু করে আজ অবধি নবীদের উত্তরাধিকারীদেরকে অস্বীকার করে চলেছে। মাযহাব অমান্যের এই সুযোগে তাদের মধ্যে নতুন সজীবতা এসেছে। তাদের জন্যও শুধু একটা কথা ‘’আলেমগণ নবীদের উত্তরাধিকারী”। সুতরাং আলেমদেরকে ঘৃণা করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালবাসার দাবী কিংবা ইলমে নববী অর্জন করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। শুধু মরীচিকার পিছনেই দৌড়াবে। আল্লাহ পথ না দেখালে কখনোই সিরাতুল মুস্তাকীম পাবে না।

(iii) সত্যান্বেষী দলঃ সহীহ আক্বিদা’র অন্বেষায় মাযহাব-বিমুখ সবচেয়ে বড় দল হচ্ছে এটি। এদের অধিকাংশই আধুনিক শিক্ষিত। দেখা যায়, তারা ইসলামিক কিছু চটি বই পড়ে কিংবা কয়েকটি লেকচার শুনে সবকিছুকে বিদ'আত সাব্যস্ত করছেন। খুঁজ নিলে দেখা যায়, আসলেই তারা বিদ’আত কিংবা অত্যন্ত কুসংস্কারাচ্ছান্ন পরিবেশে বড় হয়েছে। যখন তারা অনুধাবন করেছে যে, তারা যা পড়ছে/আমল করছে, এগুলো সঠিক নয়, ঠিক তখনই সত্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে এক জায়গায় আটকে যাচ্ছে।

তাদের এই অবস্থাকে হযরত ইব্রাহীম আলাইহিসালামের নবুওত পূর্ববর্তী সময়ের সাথে তুলনা করা যায়। ইব্রাহীম আলাইহিসালাম যেমন, একবার চন্দ্রের সৌন্দর্য দেখে রব বলতেন, আবার তারকার ঔজ্জ্বল্য দেখে সেটাকে রব বলতেন। অতঃপর দিনের বেলায় সূর্যের জ্বলজ্বলানী দেখে এটাকে রব বলতেন। এভাবেই খুঁজতে খুঁজতে একসময় আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন। ঠিক সেভাবেই এই ভাই-বোনেরা আলো খুঁজছে। যারা আসলুস সুন্নাহর দায়ীঈ তাদের উচিত, সে সমস্ত ভাইদেরকে ভ্রান্ত, ভ্রষ্ট ইত্যাদি গালাগালি না করে বরং হিকমাতের সাথে দ্বীনের সঠিক আলোটা তাদের নিকট পৌঁছে দেয়া। আল্লাহ যদি কপালে হিদায়াত রাখেন, ফিরে আসবেই। এরকম অনেকে ফিরে আসছেনও।

যারা সঠিক আক্বিদা’র দাওয়াত দিচ্ছেন, তাদেরকে জাতীয় কবির দুটো লাইন মনে রাখা উচিত-
“বিদ্বেষ লয়ে ডাকিলে কি কভূ পথভ্রান্ত ফিরে,
ভালবাসা দিয়ে তাহারে ডাকিতে হয় বক্ষের নীড়ে।”
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৪:১৬
২১টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাউন্টেন গোট (Mountain Goat) বা পার্বত্য ছাগল....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৮

মাউন্টেন গোট (Mountain Goat) বা পার্বত্য ছাগল....



পড়া, টিভি, মুভি এগুলো- এগুলো বেকারদের অবলম্বন। বেশীরভাগ বয়স্কদের পছন্দ- ডিসকভারি চ্যানেল, ন্যাশনাল জিওগ্রাফি, বিবিসি আর্থ ইত্যাদি ইত্যাদি চ্যানেল। আমার হাতে টিভির... ...বাকিটুকু পড়ুন

গত ৪৮ ঘণ্টায় সামু'র সর্বোচ্চ পঠিত ২ ব্লগার হচ্ছেন - অপলক এবং সৈয়দ কুতুব

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:১৭

গতকাল রাত ৮টা ১২ মিনিট থেকে এখন রাত ৯ টা ১৭ মিনিট পর্যন্ত সামুতে পোস্ট এসেছে মোট ১৬টি, আমার এই পোস্টটি ছাড়া।
এই পোস্টগুলোতে উত্তর ও প্রতিউত্তর মিলিয়ে কমেন্টেসের সংখ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একদিন আমরা ক’জনা মিলে …….

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১২



ব্লগের একাধারে নম্র ও প্রাজ্ঞ এবং গবেষক সহ-ব্লগার শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলীর “ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন”... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে-----

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৪



জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় ..।

দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে
যেদিন মানুষ নিজের কাছে
মিথ্যে বলা বন্ধ করবে
অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে
সত্যের পথে দৃঢ় পায়ে চলবে।

যেদিন বিবেক জাগবে মনে
লোভ হারাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার কি ইউনূস সাহেবকে ভয় পাচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৩


ব্যাপারটা এখন আর কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখে না। বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক, আওয়ামী লীগ হোক কিংবা বর্তমান সরকার, সবাই যেন একজন কমন করফাঁকিদাতা খুঁজে পেয়েছে। সেই করফাঁকিদাতার নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×