somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পঞ্চগড়ে তিনদিন

০৫ ই মে, ২০১৪ রাত ৮:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক দিন যাবত শুনছিলাম বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলে খ্রিস্টান মিশনারীদের বিভিন্ন রকম তৎপরতার কথা।

ভারতের সীমানা ঘেষা পঞ্চগড় বাংলাদেশের সর্বোত্তরের জেলা। শিক্ষা-দিক্ষা ও নাগরিক সুবিধাদী বঞ্চিত জেলাটি মিশনারীদের নজর কেড়েছে বহু বছর আগেই। এ অঞ্চলের অনেক দ্বীনদার শ্রেণীর সাথে এ বিষয় নিয়ে আমার কথা হয়েছে। তারা এ বিষয়ে খুবই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন।

পঞ্চগড়ের বিভিন্ন গ্রামের লোকদের সাথে আমার আলোচনা হয়েছে। প্রত্যেকেই আমাকে বলেছেন, আমাদের গ্রামে মিশনারীদের কার্যক্রম ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।

যতটুকু জানা গেছে ছোট্ট এ জেলাটিতে বিভিন্ন এনজিও-এর কার্যক্রম চলছে এবং জেলাটিতে কম বেশি ১১ থেকে ১২টি মিশনারী স্কুল রয়েছে। ঐ এলাকার এক ভাই আমার কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করে বললেন, আজ থেকে দশ বছর পর যদি খ্রিস্টান মিশনারী এবং কাদিয়ানীরা মিলে এটিকে তাদের নিজস্ব অঞ্চল বলে ঘোষণা করতে চায় তাহলে সেটা বিচিত্র কিছু হবে না।

পঞ্চগড় শহরের এক ভাই বললেন, আমাদের বাজারের এক তৃতীয়াংশ কাদিয়ানী। আর এক তৃতীয়াংশ খ্রিস্টান মিশনারীদের দ্বারা প্রভাবিত সাধারণ মুসলিম।

সেখানকার এক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের বক্তব্য হল, ওদের কার্যক্রম শিক্ষার আবরণে হওয়ায় ওদের বিরুদ্ধে কিছু বলা কঠিন। বললেই শিক্ষা কার্যক্রমে বাধা দানের অভিযোগ তোলে।

আগ থেকেই কিছু বিষয় শুনে আমি ঐ এলাকা দেখার জন্য আগ্রহী হই এবং কিছুদিন আগে সেখানে যাই। সকাল নয়টার দিকে পঞ্চগড় পৌঁছি। আগে থেকে এক ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করে রাহবার ঠিক করি। রাহবার আমাকে নিয়ে যায় চাকলাহাট ইউনিয়নের ভান্ডারু গ্রামে। সেখানে গিয়ে দেখি একটি মিশনারী স্কুল। প্রথমে রাহবার আমাকে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে নিয়ে যান। এলাকাবাসী এবং শিক্ষকদের সাথে আলোচনায় জানতে পারি কিছু কিছু কথা। এরপর স্কুলটি দেখতে যাই। ভেতরে ঢুকতে চাইলে রাহবারসহ এলাকাবাসী নিষেধ করেন। তারা বললেন, আমরাও ঢুকি না, আপনি ঢুকলে সমস্যা হতে পারে। মিশনারী স্কুলটি সম্পর্কে বিভিন্ন জরুরি বিষয় তুলে ধরেন স্থানীয় এক শিক্ষক। তিনি কয়েকদিন সময় দিয়ে ঐ সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করেন। নিম্নে সে বিষয়ে ওই শিক্ষকের সাথে আমার কথোপকথন তুলে ধরছি।

ওয়ারিস আমীন : মিশনারীটি কবে থেকে এবং কীভাবে এখানে কাজ করছে আমাদের জানাবেন কি?

শিক্ষক : আমরা এটা ছোট থেকেই দেখছি। ঠিক কতদিন আগে শুরু হয়েছে তা বলতে পারব না। তবে এদের কার্যক্রম সম্পর্কে বলতে পারব।

ওয়ারিস আমীন : আপনি কি স্কুলটির ভেতরে কখনো ঢুকেছিলেন?

শিক্ষক : হ্যাঁ, আমি একবার বাচ্চাদের টিকা খাওয়ানোর জন্য স্কুলটির ভেতরে গিয়েছিলাম, তখন বেশ কিছু বিষয় আমার দেখার সুযোগ হয়েছে। এরপর আমি কৌতূহলী হয়ে আরো অনেক তথ্য সংগ্রহ করেছি।

ওয়ারিস আমীন : ভেতরের পরিবেশ সম্পর্কে কিছু বলতে পারবেন?

শিক্ষক : স্কুলটির অফিস রুমেই যীশুর মূর্তী রাখা। আর প্রত্যেক রুমের সামনেই ক্রুশচিহ্ন আছে। আর প্রায় রুমেই যীশু-মরিয়মের ছবি আছে। তারপর এদের কী পড়ানো হয় -জিজ্ঞাসা করে জানতে পারি, স্কুলের ইসলাম ধর্ম বই পড়ানো হয় না বরং খ্রিস্টানদের নিজস্ব ধর্মীয় বই পড়ানো হয়। সে বইয়ের উপরে ছবি আছে; মেরী তার বাচ্চা কোলে নিয়ে আসছেন। এটা মূলত বাইবেলের কিছু শোক নিয়ে লেখা হয়েছে।

ওয়ারিস আমীন : বইটি সংগ্রহ করে দেখা যাবে কি?

শিক্ষক : বর্তমানে বইটি ছাত্রছাত্রীদের হাতে দেয়া হয় না। প্রতি রবিবার বইটি ক্লাসে পড়ানো হয়, ঐ সময় অফিস থেকে এনে তাদের হাতে দেয়া হয়। পড়া শেষে তা অফিসে রেখে দেয়া হয়। বাসায় আনতে দেয় না। কারণ, এটা নিয়ে আমাদের মসজিগুলোতে একবার আলোচনা হয়েছিল, তাই তারা সতর্ক হয়ে গেছে।

ওয়ারিস আমীন : আমরা শুনেছি সেখানে মুসলমান বাচ্চাদেরকে খ্রিস্টান বানানো হয়, সেটা কীভাবে?

শিক্ষক : তাদেরকে শুধু খ্রিস্ট ধর্মের বই পড়ানো হয়, ইসলাম ধর্মের বই পড়ানো হয় না। আর প্রতি রবিবার খ্রিস্টানদের ইবাদতের দিন। সেদিন মুসলিমসহ সকল বাচ্চাদেরও তাদের সাথে ইবাদত করতে হয়। সেখানে বাইবেল পাঠ হয়, প্রার্থনা হয়, ছবি আঁকা, নাচ-গান শেখানো হয়। শুক্র ও শনিবার ছাড়া দৈনিক স্কুলেই তাদের দুপুরে খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। খাওয়ার আগে তাদের বিশেষ কক্ষে বিশেষ ধরনের প্রার্থনা করানো হয়। সব বাচ্চারা খাওয়ার আগে মাথার উপর হাত তুলে ক্রুশচিহ্ন বানায় আর বলে, ‘হে প্রভু যীশু, তুমি যে আমাকে খেতে দিয়েছ যারা পায়নি তাদেরকে দাও, আমাদেরকে যীশুর নামে চাই’ অর্থাৎ তারা নিজেদেরকে যীশুর নামে উৎসর্গ করে।

ওয়ারিস আমীন : কী বলেন, তাহলে তো খ্রিস্টান হতে আর কিছু বাকী

থাকে না!

শিক্ষক : তাই তো।

ওয়ারিস আমীন : এদের পরিবারের লোকজন এ সমস্ত খবর জানে?

শিক্ষক : হ্যাঁ, অবশ্যই জানে। আমি কয়েকজনের অভিভাবকের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। একজন আমাকে বলে বসেছে যে, আমরা জানি বাচ্চাটা সেখানে গিয়ে খ্রিস্টান হচ্ছে, কিন্তু আমরা বাসায় নিয়ে এসে তাদেরকে কালেমা পড়াই কুরআন শিখাই। পরে আমি তাদেরকে বলি দেখেন, বাচ্চাটা এক সময় পুরা খ্রিস্টান হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে এর সম্পূর্ণ গুনাহ আপনার হবে। কারণ, সে তো নিষ্পাপ, কিছু বুঝে না। আপনি সেখানে দেয়ার কারণে যে খ্রিস্টান হচ্ছে, এর জন্য দায়ী আপনি হবেন। এক অভিভাবক তো আমার কাছে কেঁদেই ফেলেছে এই বলে যে, আমরা কী করবো? দেখেন আমার তিনটা ছেলে, একটা ছেলেকে ঐ স্কুলে দেয়ার কারণে বাকী ছেলেদের অন্য প্রতিষ্ঠানে পড়াতে পারি। কারণ, তারা ঐ বাচ্চার সম্পূর্ণ খরচ বহন করে। এতে মোটামুটি আমার সংসার চলে। ঐ বাচ্চাটাকে ওখানে না দিলে বাকীদের পড়াতে পারবো না।

ওয়ারিস আমীন : তারা বাচ্চাদের কী দেয়?

শিক্ষক : তারা মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয় -খাদ্য, অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা প্রায় সবই দেয়।

ওয়ারিস আমীন : একটু বিস্তারিত বলবেন কি?

শিক্ষক : আমি এক ভাইয়ের কাছে যাই, তার এক মেয়ে ওই স্কুলে পড়ে। সে ২০১৪ নতুন শিক্ষাবর্ষে কী কী পেয়েছে। এছাড়া বাৎসরিক বা মাসিক তারা কী কী দেয়-এ বিষয়ে ঐ ভাই বিভিন্ন তথ্য দিয়েছে।

প্রতি মাসে স্কুলে একটি মা সমাবেশ হয় বাচ্চাদের মায়েদেরকে নিয়ে এ সমাবেশ হয়। সেখানে শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন আলোচনা হয় এবং বিভিন্ন উপহার দেয়া হয়। যেমন প্রতি মাসেই একটি লাক্স সাবান, তিন টাকা দামের দশ পাতা শ্যাম্পু, মাঝারী সাইজের একটি লোশন, মাঝারী সাইজের একটি প্যারাসুট তেল, হাফ কেজি হুইল পাউডারের পেকেট। আর মাঝে মধ্যে ফসল বাজেট আসে, চালের বস্তা আর ডাল ইত্যাদি বাসায় পাঠিয়ে দেয়। বছরে একটা করে স্কুল ব্যাগ, একসেট স্কুল ড্রেস। ছয় মাস পর পর এক জোড়া মোজা দেয়া হয়। প্রতি শীতে একটি করে কম্বল। একটা বাচ্চা যখন ভর্তি হয় তখন একটা বড় লেপ দেয়া হয়। প্রতি মাসেই খাতা কলম দেয়া হয়। বছরে একবার বই, নোট ইত্যাদি দেয়া হয়। বছরে এক/দুই বার ছেলেদেরকে খেলনার গাড়ি বা হেলিকপ্টার দেয়া হয়। প্রতিটি গাড়ি বা হেলিকপ্টারের মূল্য তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ টাকা হবে। আর মেয়েদরকে পুতুল দেয়। প্রত্যেক বাচ্চাকে তার জন্মদিন পালনের জন্য যাবতীয় খরচ যেমন কেক, মোমবাতি, নতুন পোশাক ইত্যাদি দেয়া হয়। প্রত্যেক বাচ্চাকে শীতে ড্রেসের সাথে মিল রেখে জ্যাকেট দেয়া হয় এবং প্রতি মাসে তিনশ করে টাকা দেয়া হয়। তবে রবিবার তাদের উপাসনার দিন হওয়ায় সেদিন সকল বাচ্চার উপস্থিত থাকা আবশ্যক। সেদিন কোনো বাচ্চা উপস্থিত না থাকলে ঐ তিনশ টাকা থেকে একশ টাকা কাটা হয়। আর শুক্র ও শনি ছাড়া দৈনিক দুপুরে খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। আর মাঝেমধ্যে বন্ধুদের থেকে উপহার পায়।

ওয়ারিস আমীন : কোন বন্ধু থেকে তারা উপহার পায়?

শিক্ষক : ও আপনাকে বলিনি, যে বাচ্চাগুলো মিশনের স্কুলে পড়ে প্রত্যেক বাচ্চারই ইউরোপিয়ান খ্রিস্টান বন্ধু থাকে, ছেলেদের জন্য মেয়ে বান্ধবী, মেয়েদের জন্য ছেলে বন্ধু। এখানের শিক্ষকরা মাঝে মধ্যে তাদের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। ইউরোপীয়ান বাচ্চারা তো বাংলা জানে না। তারা শুধু এতটুকু বলে, বন্ধু কেমন আছ, তোমার কী প্রয়োজন? স্কুলের বাচ্চারা তাদের প্রয়োজন বলে; কেউ খেলনা চায় কেউ পোশাক চায়। এ ক্ষেত্রে দোভাষী থাকে তারা বিদেশি বন্ধুদেরকে বুঝিয়ে দেয়। এরপর তারা সেখান থেকে টাকা পাঠিয়ে দেয়। আর এখানে যারা দায়িত্বে থাকে তারা সে টাকা দিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে দেয়।

ওয়ারিস আমীন : এভাবে বন্ধু বানায় কেন, এতে এদের কী লাভ?

শিক্ষক : স্বাভাবিক কথা, ছেলের সাথে মেয়ের বন্ধুত্ব বা মেয়ের সাথে ছেলের বন্ধুত্ব এমনিতেই জমে উঠে। আবার যখন সে উপহার পাঠায় সেক্ষেত্রে তাদের সম্পর্ক আরো গভীর হয় এবং পরবর্তী জীবনে খ্রিস্টান হতে বাধ্য হয় বা উদ্বুদ্ধ হয়। বন্ধুর কারণে খ্রিস্টান হওয়ার জন্য বেশ মানসিক চাপে থাকে।

ওয়ারিস আমীন : বন্ধু থেকে এরা কী কী পেয়েছে এমন কিছু জানেন কি?

শিক্ষক : এক মেয়ে তার বন্ধুর কাছে পোশাক চেয়েছিল, সে তেরশত টাকা পাঠালে তা দিয়ে তাকে পোশাক কিনে দেয়া হয়েছে। আরেকটি মেয়ে প্রথম শ্রেণীতে পড়ে। তার চোখের সমস্যা ছিল, একথা তার বন্ধুর কাছে বলেছে। তার চিকিৎসার জন্য বিদেশি বন্ধু সত্তর হাজার টাকা পাঠিয়েছে। আরেক ছেলে তার বান্ধবীর কাছ থেকে আট হাজার একশত এক টাকা পেয়েছে। আরেকটি ছেলের বান্ধবী বন্ধুর জন্য এক হাজার দুইশত বেয়ালিশ টাকা পাঠিয়েছে।

মিশন থেকে মাঝে মাঝে বাচ্চাদের জন্য গরু ছাগলও কিনে দেয়া হয়। তবে এক্ষেত্রে নিয়ম হল, পুরা খরচ মিশন দেয় না; আংশিক বাচ্চার পরিবারও দেয়।

ওয়ারিস আমীন : ঐ স্কুলে মোট কতজন শিশু আছে?

শিক্ষক : ১৯৭ জন ছাত্র-ছাত্রী আছে। পাশে প্রাইমারী স্কুলেরও কিছু বাচ্চা আছে, যারা তাদের স্কুলের তালিকাভুক্ত, তাদেরকেও তারা মাসিক বিভিন্ন উপহার দেয়। ফলে তারাও এদের আওতায় চলে।

ওয়ারিস আমীন : তাদের আওতায় মোট কতজন শিশু রয়েছে?

শিক্ষক : মোট চারশত-এর মত হবে।

ওয়ারিস আমীন : সবাই কি একই গ্রামের?

শিক্ষক : শিশুগুলো বিভিন্ন গ্রামের, দূর থেকেও অনেক বাচ্চা আসে। মিশন এদের আসা যাওয়ার ভাড়া দিয়ে দেয়।

ওয়ারিস আমীন : মুসলমান বাচ্চা কতজন?

শিক্ষক : তিনশত হবে। বাকিরা অন্যান্য ধর্মের। এলাকায় কিছু মানুষ আছে যারা স্কুলে খ্রিস্টান বানায় শুনে তাদের বাচ্চাদের ঔ স্কুলে দেয় না।

ওয়ারিস আমীন : স্কুলটি কোন শ্রেণী পর্যন্ত?

শিক্ষক : পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত। কোনো বাচ্চা মেধাবী হলে মিশন সেই বাচ্চার আঠার বছর পর্যন্ত পড়ার খরচ চালায়।

ওয়ারিস আমীন : আপনাদের এত কাছে মুসলমান বাচ্চাদের খ্রিস্টান বানানো হচ্ছে, এক্ষেত্রে আপনাদের কোনো উদ্যোগ আছে কি?

শিক্ষক : এ বিষয়গুলো দেখে আমরা খুবই চিন্তিত, কিন্তু আসলে কী করবো? তারপরও মুসলমান বাচ্চাগুলোকে আমাদের এখানে আনার জন্য অনেক চেষ্টা করি, অভিভাবকদের বুঝাই এবং তারা যা দিচ্ছে আমরাও সেভাবে কিছু দেয়ার চেষ্টা করি। যেমন তারা পিকনিকে নিয়ে যায়, আমরাও পিকনিকে নিয়ে গিয়েছিলাম। তারা বই ফ্রি দেয়, আমরা গরিবদের কাছে অর্ধেক দামে বই বিক্রি করি। তারা চিকিৎসা সম্পূর্ণ ফ্রী দেয়। তাদের এক বাচ্চা গাছ থেকে পড়ে পা ভেঙ্গে গিয়েছিল, দিনাজপুর গিয়ে মিশনারী হাসপাতাল থেকে সম্পূর্ণ ফ্রী চিকিৎসা করা হয়েছে। আরেক বাচ্চা বড় ধরনের অসুস্থ ছিল তাকে বিদেশ থেকে পর্যন্ত চিকিৎসা করিয়ে এনেছে। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা ফ্রী করার জন্য বিভিন্ন ক্লিনিকের সাথে আলোচনা করেছি, একটি ক্লিনিক আমাদের ফ্রী চিকিৎসার আশ্বাস দিয়েছে ।

আমরা ফ্রী ড্রেস দেয়ার একটা উদ্যোগ নেই ২০১৩ এর জানুয়ারিতে। ছাত্র সংখ্যা ছিল ষাট জন। আমরা তাদের ফ্রী ড্রেস তৈরি করার জন্য পঞ্চগড়ের বিভিন্ন দাতাদের কাছে যাই। আলহামদুলিল্লাহ এর ব্যবস্থাও হয়েছে। আমরা অভিভাবক সমাবেশ ডেকে ড্রেস বিতরণ করি। এতে বেশ সাড়া পড়ে। দেখা যায় অল্প সময়ের মধ্যে ছিয়ানববই জন ভর্তি হয়ে যায়। গত বছর শেষ পর্যন্ত একশত পয়ত্রিশ জন হয়েছে। এমনকি মিশনারী স্কুল থেকেও কয়েকজন এখানে চলে এসেছে।

ওয়ারিস আমীন : শুধু ড্রেস দেয়াতে চলে আসলো, আপনারা তো অন্য কিছু দেন না, মিশনারীরা তো অনেক কিছু দেয়।

শিক্ষক : আগে এদের অভিভাবকদের বুঝানোও হয়েছিল। আসলে এলাকার মানুষ খুবই গরিব। এদেরকে কিছু সহযোগিতা করতে পারলে বাচ্চাদের সহজে আনা যায়। এ বছর আমরা কম্বল বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। যাদের বাচ্চা মিশনে দিবে বলে মনে হচ্ছে তাদেরকে ঘরে ঘরে কম্বল দিয়ে আসতে পারলে তাদের বাচ্চাগুলো এদিকে আনা যেত, কিন্তু পর্যাপ্ত কম্বল পাইনি। মিশনারী স্কুলে তো রবি থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন খাওয়ানো হয়, আমরা মাসে একদিন খানার আয়োজন করি; সব ছাত্ররা চাল নিয়ে আসে, সথে কেউ দশ টাকা কেউ বিশ টাকা দেয়। বাকী টাকা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দিয়ে আমরা খিচুড়ী-গোস্তের আয়োজন করি।

ওয়ারিস আমীন : আপনাদের এখানে বেতন কত?

শিক্ষক : একশত টাকা করে ধরা আছে, ২০% সম্পূর্ণ ফ্রী পড়ে, ২০% অর্ধেক দেয়।

আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ এতেই তাদের তুলনায় বেশি ফল দিচ্ছেন। দেখছেন তো আমাদের সবগুলো ঘরই বেড়ার তৈরি, নিচে মাটি। একটিও পাকা ঘর নেই। শিক্ষকের বেতনও কম। তাও ঠিক মত পরিশোধ হয় না।

ওয়ারিস আমীন : মুসলিম শিশুদের ঈমান রক্ষায় এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় কী বলে আপনি মনে করেন?

শিক্ষক : মূলত এলাকাটিতে দুটি সমস্যা প্রকট : ১. এলাকায় বড় কোনো যোগ্য আলেম নেই। কোনো বড় মাদরাসাও নেই, পুরো পঞ্চগর জেলাতেই নেই। তাই মুসলমানগণ তাদের দ্বীন সম্পর্কে সহীহ জ্ঞান থেকে বঞ্চিত থাকছে। ২. দরিদ্রতার আধিক্যতা। যেটিকে পুঁজি করে মিশনারীগুলো তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাই এ পরিস্থিতির মোকাবেলার জন্য প্রয়োজন এলাকায় একটি ভালো মানের বড় মাদরাসা ও যোগ্য কিছু আলেম এবং গ্রামে-গ্রামে প্রাইমারি মক্তব। সাথে সাথে মুসলিম বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসতে হবে দরিদ্রদের শিশুগুলোর পড়াশোনার খরচ নির্বাহের ও আনুষঙ্গিক খরচাদি মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় ফান্ড নিয়ে।

ওয়ারিস আমীন : আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। আপনাদের নেক নিয়ত কবুল করুন। সকলের ঈমানের হেফাজত করুন। আমীন।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×