সংশ্লিষ্ট জাতিগোষ্ঠী :
আরব, গ্রিক , রোমান ,পারসিয়ান , মঙ্গোলিয়ান, টুর্ক , রুশ , হিন্দ
সংশ্লিষ্ট ধর্মীয়গোষ্ঠী :
ইহুদি, খ্রিস্টান ,ইসলাম, বৌদ্ধ, পৌত্তলিক
ঘটনাপ্রবাহ : ইহুদি ধর্মের আবির্ভাব
স্থান :মিশর (সিনাই)
সময়কাল : ফারাওহ বাদশার শাসনামল
পটভুমি : ইহুদি ধর্ম অনুযায়ী , তৎকালীন মিশরে ইসরায়েলি সম্প্রদায়ের ( যারা সংখালঘু দাস হিসেবে বাস করত) জনসংখ্যা তুলনামূলক দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছিলো, এতে ফারাওহ বাদশা নিজ গোত্রের সংখ্যালঘু হয়ে যাবার আশংকায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন । ইসরায়েলিদের আধিক্য রুখতে তিনি সেনাদের নির্দেশ দেন ইস্রাইলি সম্প্রদায়ের সকল ছেলে সন্তানকে নীল নদে ফেলে হত্যার আর কন্যা সন্তানদের ছেড়ে দেবার । জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে এক ইস্রাইলি নারী জোকেবেদ প্রসব করেন ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের একজন মুসা (আ ) । অবস্থার শোচনীয়তায় জোকেবেদ ভাসিয়ে দিলেন শিশু মুসা (আ) কে নীলনদে , একটি ঝুরিতে রেখে। ঘটনাচক্রে বাদশা রাজকন্যা শিশু মুসা (আ ) পান এবং শিশুটিকে সন্তানরূপে পালন করেন । ফলশ্রূতিতে মুসা (আ ) বাদশার বিশেষ দৃষ্টি পান এবং বাদশার অনুগ্রহে আইন,যুদ্ধ , নেতৃত্ব ইত্যাদি বিষয়ে বিশেষ শিক্ষা অর্জন করেন এবং মিশরীয় বিচারব্যবস্থায় বিশেষ অবস্থান অর্জন করেন ।
ইসরায়েলি সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় মুসা (আ ) গোচরেই একজন দাসপরিচালক এক ইসরায়েলি দাসকে মারধর করেন, এতে রাগান্নিত হয়ে মুসা (আ ) সে দাস পরিচালককে হত্যা করেন । হত্যার পর তিনি মিশর থেকে মেডিয়ানে (বর্তমান সৌদি আরবের একটি প্রদেশ ) পালিয়ে যান এবং সেখানে নবুয়াতপ্রাপ্ত হন । অতঃপর সৃষ্টিকর্তা ইসরাইল সম্প্রদায়কে মুক্ত করার জন্য তাকে পুনরায় মিশর পাঠান । মিশরে ফিরে গিয়ে মুসা (আ) বাদশার কাছে ইসরাইল সম্প্রদায়কে দাসবৃত্তি থেকে মুক্তি দেবার দাবি জানান ।বাদশা তাতে কর্ণপাত না করায় সৃষ্টিকর্তা মিশরবাসীর উপর আজাব দান করেন , ১০ দফা প্লেগ আক্রমণে পর্যদুস্ত হয়ে অবশেষে বাদশা ইসরায়েলি দাসদের মুক্তি দেয়ার নির্দেশ দেন । মুসা (আ ) ইসরাইল সম্প্রদায়কে নিয়ে নীল নদ পারি দেবার সময় বাদশা তার মন পরিবর্তন করেন এবং তার সেনাবহর নিয়ে মুসা (আ ) কে পেছন থেকে হত্যার উদ্যেশ্যে ধাওয়া করেন । মুসা (আ ) তার সম্প্রদায়কে নিয়ে নিরাপদে নীল নদ পার হলেও ফারাওহ সেখানে প্লাবিত হয়ে সেনাবহর নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন ।

[মুসা (আ ) এর লাঠির আঘাতে পাথর বিদীর্ণ হয়ে নিঃসৃত সুপেয় পানি ]
অতঃপর মুসা(আ) সম্প্রদায়কে নিয়ে মিশরের সিনাই উপত্যকায় বসতি স্থাপন করেন , তাদেরকে সেখানে রেখে সিনাই পর্বতের চূড়ায় আরোহন করেন সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্য লাভের আশায় । সেখানে ৪০ দিন ৪০ রাত অবস্থান করেন এবং সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে ওহী লাভ করেন। অতঃপর সম্প্রদায়ের কাছে যখন ফিরে আসেন এবং দেখতে পান তার সম্প্রদায় তার ভাই নবী আরন ও একটি বাছুর ছানার মূর্তি নির্মাণ করে পূজা করছে তাতে এতটাই রাগান্নিত হয়ে পড়েন যার দরুন তার হাত থেকে সৃষ্টিকর্তার ওহী সম্বলিত ট্যাবলেট পরে টুকরো হয়ে যায় | এর ধারাবাহিকতায় সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে বাছুরছানার মূর্তি নির্মাণ করে পূজাকারিদের হত্যার নির্দেশনা আসে । মুসা (আ) সৃষ্টিকর্তার কাছে তাদের পক্ষ থেকে ক্ষমাপ্রাথনা করলে সৃষ্টিকর্তা তাদেরকে ক্ষমা দেন করেন । অতঃপর মুসা (আ ) সৃষ্টিকর্তার ওহী অনুযায়ী ইসরাইল সম্প্রদায়কে আরো ৪০ বছর পরিচালনা করেন ।
ফলাফল : মিশরের সিনাইয়ে ইহুদি ধর্মের প্রতিষ্ঠা লাভ , সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে মুসা (আ ) এর প্রতি তোরাহ্ অবতরণ, সেখান থেকে ইহুদি ধর্মের মর্মবাণীর বিকাশ যাত্রার সূচনা ।
পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ : গ্রিক উত্থান, গ্রিকদের অধীনে ইহুদিদের অবস্থা ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

