somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেমন ছিলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা)

২৬ শে নভেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




কেমন ছিলেন সকল সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা ) ? তিনি কি চঞ্চল ছিলেন না গুরুগম্ভীর, রাগী না প্রতিবাদহীন, ভয়ংকর না ভীতু , মজার না থমথমে, পাগলাটে না ধীরস্থির, ভাববাজ না বন্ধুত্বপূর্ণ ! চলুন তো দেখি কেমন ছিলেন তিনি


ঘটনা -১: পবিত্র নবী মুহাম্মদ (সা ) ও একজন দরিদ্র সাহাবীর আংগুর

এক দরিদ্র লোক মুহাম্মদ (সা ) এর জন্য একগুচ্ছ আঙ্গুর উপহার নিয়ে আসলেন । মুহাম্মদ (সা ) লোকটির সাথে গল্প করতে করতে প্রথমে একটি খেলেন, তারপর আরেকটি খেলেন , তারপর একটি একটি করে সবগুলো খেয়ে নিলেন । খাবার সময় তিনি হাসিখুশি ছিলেন । সবগুলো আংগুর মুহাম্মদ ( সা ) একাই খেয়েছেন দেখে লোকটি খুশিতে আত্মহারা হয়ে চলে গেলেন । একজন সাহাবা বিস্মিত হয়ে জানতে চাইলেন "হে আল্লাহর নবী ! আপনি কিভাবে আমাদের কাওকে না দিয়ে সবগুলো আংগুর একাই খেয়ে ফেললেন ! " মুহাম্মদ (সা) মৃদু হাসলেন আর বললেন " আমি সবগুলো আংগুর একাই খেয়েছি কারণ আংগুরগুলো টক ছিল । যদি তোমাদের দিতাম তোমরা অদ্ভুদ মুখভংগী করতে আর তা দেখে লোকটি মর্মাহত হতো । আমি দরিদ্র ভাইটিকে দু:খ দিতে চাই নি ।


ঘটনা -২ : মেষশাবক উৎসর্গ ও মহানবী (সা) এর প্রতিক্রিয়া


ভ্রমনরত মুহাম্মদ (সা) ও তার সাহাবীরা ক্লান্ত হয়ে কিছুক্ষন বিশ্রামের জন্য একটি ভালো স্থান দেখে তাবু করলেন । তারপর জিনিসপত্র উট, মেষের পিঠ থেকে নামিয়ে খাবারের ব্যবস্থা করতে উদ্যত হলেন । একজন সাহাবী বললেন তিনি একটি মেষশাবক উৎসর্গ করবেন । একজন সাহাবী বললেন "আমি চামড়া ছুলবো " একজন বললেন "আমি রান্না করব " এভাবে একেকজন একেক দায়িত্ব নিচ্ছেন । মুহাম্মদ (সা)ও বললেন " আমি জংগল থেকে আগুন জ্বালানোর জন্য কাঠ ব্যবস্থা করব " । শুনে সাহাবীরা বিচলিত হয়ে পড়লেন " হে আল্লাহর নবী ! এটা তেমন কোন কঠিন কাজই না । আপনাকে মোটেও কিছু করতে হবে না আপনি বিশ্রাম নিন । আমরা নিজেরা কাজটা করতে পারলে সম্মানিত বোধ করব " । তখন মুহাম্মদ (সা ) মৃদু হেসে বললেন "আমি জানি তোমরা অত্যন্ত আনন্দের সাথেই কাজটি করবে । কিন্তু আল্লাহ তার দাসদের মধ্যে প্রভেদ অপছন্দ করেন । এবং কোন দাসের নিজেকে অন্যের দাসের চেয়ে উৎকৃষ্ট ভাবাকে অপছন্দ করেন ।" বলে তিনি কাঠ সংগ্রহ করতে জংগলে চলে গেলেন ।


ঘটনা -৩ : সাহায্যকারী

মুহাম্মদ (সা) দেখলেন একজন দাস শস্য ভানছে আর কাঁদছে । দেখে মুহাম্মদ (সা) বিচলিত হয়ে পড়লেন । কাছে গিয়ে দাসটিকে কাঁদার কারণ জিজ্ঞেস করলেন । দাসটি বলল " আমি অসুস্থ তাই পর্যাপ্ত গতিতে কাজ করতে পারছি না । মালিক অত্যন্ত নির্দয়, সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে আমাকে অনেক মারধর করবে ।" শুনে মুহাম্মদ (সা) দাসটির অবশিষ্ট শস্য নিজেই ভাংগিয়ে দিলেন । আর বললেন "শস্য ভানার সময় সবসময় আমাকে ডাকবে ( সুস্থ হওয়া অব্দি ), আমি তোমার শস্য করে দিব" ।

অন্য একদিন মুহাম্মদ (সা) দেখলেন একজন বয়স্ক লোক পানির থলে বহন করার সময় বেশি ওজনে তার সমস্ত শরীর কাপছে । লোকটি কিছুদুর বহন করার পর থেমে যাচ্ছে, কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার বহন করছে । এ অবস্থা দেখে মুহাম্মদ (সা) লোকটির পানির থলে তার গন্তব্যে পৌছে দেন ।

ঘটনা -৪ : উট বাঁধাতে ফিরে আসা


ঘন্টাখানেকের মত মরুযাত্রার পর সবার চেহারায় ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠলো। মুহাম্মদ (সা) সুবিধামত স্থান দেখে সেখানে সবাইকে নিয়ে থামলেন এবং কয়েকজন সাহাবীকে সাথে নিয়ে অযু ও পানের পানি অন্বেষনের জন্য বেড়িয়ে পরলেন। কিন্তু অপ্ল কিছুক্ষনের মধ্যেই কাওকে কিছু না বলে তিনি (সা) উটের কাছে ফিরে আসলেন । সাহাবীরা বিস্মিত হলেন আল্লাহর নবী কি এখানে থাকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন ? সাহাবীরা চোখ কান খাড়া করে সতর্কভাবে মুহাম্মদ (সা) এর নির্দেশনার অপেক্ষায় তাকে পর্যবেক্ষণ করতে থাকলেন । তাদের বিস্ময়কে দ্বিগুন করে দিয়ে মুহাম্মদ (সা) উটটিকে বেঁধে আবার পানির সন্ধানে যেতে উদ্যত হলেন , দেখে সাহাবীরা মুহাম্মদ (সা) কে প্রশ্ন করলেন " হে আল্লাহর নবী ! এ সামান্য কাজটির জন্য আপনি আবার কষ্ট করে ফিরে আসলেন কেন ? দূর থেকে আমাদের ইশারা করলেই আমরা আনন্দের সাথে কাজটি করে দিতাম "

মুহাম্মদ (সা) বললেন "কখনো নিজ কাজের জন্য অন্যের সাহায্য চাইবে না । কখনো অন্যের প্রতি হেলে থাকবে না , এক টুকরো মেসওয়াকের জন্যও না ।"




নবিজী(সা) ' র জীবনের কিছু আনন্দঘন মুহূর্ত :

ঘটনা-১ : এ আলী ! তুমি এতো বেশি খেজুর খেয়েছো !!

মুহাম্মদ (সা ) , আলী (রা ) আর কয়েকজন সাহাবী একটি বড় খেজুরের প্লেটের চারপাশে গোল হয়ে বসে খেজুর খাচ্ছিলেন আর গল্প করছিলেন । সবাই খেজুর খেয়ে বিচিগুলো পায়ের কাছে জমিয়ে রাখছিলেন । মুহাম্মদ (সা) তার খেজুরের বিচিগুলো নিজের কাছে না রেখে আলী (রা ) র পায়ের কাছে জমাতে থাকলেন । গল্পের গভীরতায় সাহাবীরা গভীর মগ্ন তাই ব্যপারটি কেও খেয়াল করেননি । যখন সবাই খাবার শেষ করলেন তখন মহানবী( সা) এর পায়ের কাছে কোন বিচি নেই অন্যদিকে আলী (রা) র পায়ের কাছে বিচির পাহাড় । মুহাম্মদ (সা) অবাক হবার ভান করে জিজ্ঞেস করলেন, "এ আলী ! তুমি এত খেজুর খেয়েছো !! " শুনে সাহাবীরা আলী (রা ) র দিকে তাকিয়ে হাসিতে ফেটে পড়লেন । প্রতুত্তরে আলী (রা ) নবিজীর পায়ের দিকে তাকিয়ে (যেখানে বিচি থাকার কথা ) বিনয়ের সাথে বললেন "হে আল্লাহর নবী ! আজ আমি বুঝতে পারলাম আপনি বিচিসহ খেজুর খান !!" শুনে মুহাম্মদ (সা) এর পায়ের দিকে তাকিয়ে দ্বিগুন বেগে হেসে ওঠেন সাহাবীরা ।


ঘটনা- ২ : কে কিনবে এ দাসটিকে ?

জাহের বিন হারাম (রা) নামের একজন গ্রামী সাহাবী গ্রাম থেকে পন্য এনে মদিনায় বিক্রি করতেন । আসার সময় মুহাম্মদ (সা ) এর জন্য বিভিন্ন গ্রামীণ উপহার নিয়ে আসতেন । বিনিময়ে মুহাম্মদ (সা) মদিনার তৈরী বিভিন্ন জিনিস সাহাবীকে উপহার দিতেন ।

জাহের (রা ) একজন আরব ও জ্ঞানী সাহাবী ছিলেন কিন্তু ব্যক্তিত্বে আফ্রিকানদের মতো ছিলেন। মুহাম্মদ (সা) তাকে অনেক শ্রদ্ধা করতেন ও ভালোবাসতেন । সবসময় বলতেন " ও আমার গ্রামী বন্ধু আমি তাঁর শহুরে" । একদিন মুহাম্মাদ (সা ) জাহের (রা ) কে মার্কেটে বিক্রিরত অবস্থায় দেখলেন | বেশ কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে চুপি চুপি পেছন দিক দিয়ে তাঁর কাছে গেলেন এবং আচমকা পেছন থেকে জাপ্টে ধরলেন । জাহের (রা ) বিরক্ত হয়ে বললেন " এই এটা কে ? ছাড় আমাকে ! " আশেপাশের সাহাবীরা দেখে হেসে ওঠলেন, যখন তিনি বুঝতে পারলেন ব্যক্তিটি মুহাম্মদ (সা ) তখন তিনি মুহাম্মদ (সা) হাতদুটো শক্ত করে ধরলেন যাতে এভাবেই আরো কিছু সময় থাকতে পারেন ।মুহাম্মদ (সা ) জাহের (রা) সেভাবেই ধরে সাহাবীদের দিকে তাকিয়ে মজার ছলে হাঁকলেন "কে কিনবে এ দাসকে ?" মুহাম্মদ (সা ) এর হাতের ভেতর আবদ্ধরত অবস্থাতেই জাহের (রা ) হাসিতে ফেটে পড়লেন "এ আল্লাহর নবী ! আমাকে বিক্রি করে আপনি ঠকবেন ! (আমার বাজে ব্যক্তিত্বের জন্য কেও আপনাকে ভালো মূল্য দিবে না ) " মুহাম্মদ (সা ) বললেন " না জাহের ! যদি পৃথিবীর একজন ব্যক্তিও তোমাকে যথাযথ সম্মান না দেয়, তারপরও তুমি আল্লাহর কাছে অমূল্য " ।

সোর্স : 12. Stories from the life of Prophet Muhammad (peace be upon Him)

( ব্লগার ভাইদের কাছে আমার আশা - পোস্টে ভুল ভ্রান্তি চোখে পরলে আগের পোস্টের মত ধরিয়ে দিয়ে সাহায্য করবেন, এতে আমাদের মত নতুন লেখকদের লেখার মান আরও বাড়বে । পাশাপাশি কোন্‌ ঘটনাটি আপনাদের বেশি আলোড়িত করেছে তা জানাতেও ভুলবেন না )
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:২৫
৩০টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভালো শিক্ষার্থী কখনো পরীক্ষা পেছাতে চায় না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:২৯

কারণ একজন প্রস্তুত শিক্ষার্থী জানে, পরীক্ষা যত দ্রুত শেষ হবে, সে তত দ্রুত জীবনের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবে। অনিশ্চয়তা, বারবার সময়সূচি পরিবর্তন কিংবা দীর্ঘ অপেক্ষা—এসব কারও জন্যই কল্যাণকর নয়।

বৃষ্টি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারত কোন ভাবেই স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে সৈন্য পাঠায়নি!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৬


ভারত কোন ভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য সৈন্য পাঠায়নি! সৈন্য পাঠিয়েছিল পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে ও তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে লুটপাট করার উদ্দেশ্যে। প্রতিবেশি দূর্বল হলে দাদাগিরি করতে পারবে এটাই ছিল ইন্দ্রিরাগান্ধির ভিষন... ...বাকিটুকু পড়ুন

উপপোকায় খাওয়াচ্ছ

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮


তোমার ফসলী মাঠের ফসল.
কেন উইপোকায় খাওয়াচ্ছ
কিছুদিন পর করবেটা কি
পাগল পাগল হবেই. শুনি!
পড়ালেখা করে একদিন বড় হবে
এটাই তো স্বপ্ন দেখি ওগো সোনাধন
তোমার সুনাম ভরে যাবে পাড়ায় পাড়ায়
গর্বে ভরে ওঠবে বাবা মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত- এই বিশ্বাসকে নিজের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে রেখেছি সারাজীবন। কতবার ব্যক্তিগত ইচ্ছা, সুযোগ, এমনকি ন্যায্য অভিমানও গিলে ফেলেছি। কতবার চুপ থেকেছি, শুধু এই বিশ্বাসে যে ব্যক্তির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকাল বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষ যে কারণে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে ভয় পায়

লিখেছেন এমএলজি, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৪

বছর দশেক আগের কথা। আমি তখন কানাডায় ব্যবসারত অস্ট্রেলিয়ান এক ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে সিনিয়র স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করি। আমার এক সহকর্মী ছিলেন যার বয়স কমবেশি ৪৫ বছর। বেশ ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×