অ্যান্টিট্রাস্ট - আমার ভালোলাগা একটা ছবি, কিছু লিখতে ইচ্ছা হল।
ছবিটার কনসেপ্ট টা অসাধারণ, অনেকটাই কম্পিউটার জগৎকে নিয়ে, ক্যাটেগরী হিসেবে এটি থ্রিলার টাইপ ছবি, যে কারোই ভালো লাগবে।
অসংখ্য থ্রিলার ছবির মাঝে এটাকে সবসময়ই আলাদা করে রাখবো, কারণ ছবিটা থেকে শেখার, জানার অনেক কিছুই আছে। ওপেনসোর্স জগৎ এর সাথে অর্থলোলুপ প্রযুক্তি ব্যবসায়ীদের দ্বৈরথ, জ্ঞানকে কুক্ষিগত করে রেখে বিত্তের জন্য মানুষ, একদল নামী দামী প্রভাবশালী তথাকতিত সফ্টওয়ার জায়ান্ট রা যে কতটা পিশাচ আর বিবেকবর্জিত হতে পারে, ছবিটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। ২০০১ এর সময়ের ছবি, সে সময় ডিরেক্টর যে এরকম চিন্তা করতে পেরেছেন সেটাই দারুণ।
একদল অসম্ভব প্রতিভাবান তরুণ কম্পিউটার প্রোগ্রামার। যারা মুক্তসোর্সে বিশ্বাসী, বিশ্বাসী জ্ঞানকে পুরো পৃথিবীটার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে। আরেক দিকে কারা? যাদের আমরা চিনি ভেকধরা ভালো মানুষের মুখোশটারই পরিচয়ে। এরা চায় সবকিছু কিনে নিতে, প্রযুক্তি, সম্ভাবনা আর জ্ঞানকে নিজেদের ব্রান্ডের মোড়কে পুড়ে একচেটিয়া ব্যবসা করে যেতে। যাদের নিজেদের মেধাসত্ত্বা বলে কিছুই নেই, তার বদলে আছে অন্যকে শেষ করে দেওয়ার পৈশাচিক হিংস্রতা। এদের আছে ক্ষমতা, আছে চোখধাধানো চাকচিক্য, আছে নিজেদের একচেটিয়া কর্তৃত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনে অন্যকে শেষ করে দেওয়ার বিভৎস মানসিকতা, আছে কর্পোরেট জৌলুস যার আড়ালে এদের ক্ষুদ্র মানসিকতা সবসময়ই ঢাকা পড়ে যায়।
এই কর্পোরেট জায়ান্টের মুখপাত্রদের বুলি বাধা নীতিকথার সাথে আসল চেহারার কতটা অমিল? নিজেদের গ্রাহকদের, অন্যদের প্রাইভেসি পলিসির আড়ালে এরা যান্ত্রিক চোখ বসিয়ে দিয়েছে সম্ভাব্য সব জিনিয়াসদের কর্মক্ষেত্রে। নিয়মিত চোখ রাখে কারা ভালো করছে, কারা নতুন কিছু তৈরি করছে। যখনই শিকার পায়, ঝাপিয়ে পড়ে হিংস্র শ্বাপদের মত। প্রথমে এরা এদের ডাকে নিজেদের দলে, পিশাচ মুখটাকে কর্পোরেট জৌলুসের আড়ালে ঢেকে লোভ দেখায় নাম, দাম, সবকিছুর, যদি শিকার ফাদে পা দেয় তাহলে তো ভালোই। আর যদি তারা বিদ্রোহ করে? যদি কেউ চিনে নেয় এদের আসল রূপ, তাহলে এদের লক্ষ্য একটাই, উপড়ে দাও সমস্যার শিকড়! হ্যা, যে মাথা থেকে বের হয় অসম্ভব সব উদ্ভাবনী চিন্তা, সেই মাথাকেই এরা পিষে ফেলে অবলীলায়, তার আগে বের করে নেয় মাথার সবটুকু তথ্য। এরপর? বের হয় এদের নতুন কোন প্রোডাক্ট, সবাই গোগ্রাসে গিলে, এই কর্পোরেট পিশাচদের তহবিল বাড়তে বাড়তে সীমা ছাড়িয়ে যায় মিলিয়ন বিলিয়নের। কিন্তু প্রযুক্তির নৈপথ্যে কারা - এটুকু সবার চোখের আড়ালে থেকে যায়।
বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের খেলার চমৎকার একটি ছবি - এন্টিট্রাস্ট। বেশি কিছু বলে মজা নষ্ট করতে চাইনা, যেকারই ছবিটা ভালো লাগবে। দেখার মত, শেখার জন্য, আর ভালো মানের থ্রিলার হিসেবেও চমৎকার এই ছবি এন্টিট্রাস্ট।
আইএমডিবি: http://www.imdb.com/title/tt0218817/
direct download | [link|http://thepiratebay.org/torrent/4008181/Antitrust[2001]DvDrip[Eng]-madeec|torrent download]
এর আগে প্রকাশিত চতুর্মাতৃকে
এন্টিট্রাস্ট: যে ছবিটি বলে মুক্তসোর্সের গল্প
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
১৫টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন
যুদ্ধে কেউ জয়ী হয়না, যুদ্ধ বন্ধ হলে মানবতার জয় হয়।
যুদ্ধে কে জয়ী হয়েছে?
আমার উত্তর খুব সহজ- কেউ না।
যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী বলে কেউ থাকে না। যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন শুধু সৈনিক নয়; মায়ের বুক খালি হয়, শিশুর ভবিষ্যৎ ভেঙে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।
দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।
ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন
কটা দুলাল

বাল্য বন্ধু শফির ফোন পাইলেই টেনশনে থাকি। কোন একটা দুঃসংবাদ নিশ্চিত। আর সেটা যদি হয় সকাল বেলা তবে তো কথাই নেই। যদিও আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই মোটেও তবুও... ...বাকিটুকু পড়ুন
জীবন পর্ব -১

(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।