আল-কোরআনের ১০৮ নং সুরা কাওসার এর নাম তো আমরা সবাই শুনেছি। এই সুরার ১ম ও ২য় আয়াত টি হল যথাক্রমে “ ইন্না আ’ত্ব্যাইনা কাল কাওসার ( اِنَّاۤ اَعۡطَیۡنٰکَ الۡکَوۡثَرَ ), ফাসাল্লি লিরাব্বিকা ওয়ানহার ( فَصَلِّ لِرَبِّکَ وَ انۡحَرۡ )।” এই আয়াত ২ টির অর্থ হল- “ অবশ্যই আমি আপনাকে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে কাওসার দান করেছি, সুতরাং আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন ও কুরবানী করুন। ”
এই ২ টি আয়াত নাযিল হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কার সকল কবি কে আমন্ত্রণ জানান এই সুরার ৩য় আয়াত টি লেখার জন্য। শর্ত হল ৩য় আয়াত টি অবশ্যই প্রথম ২ আয়াতের ব্যাকরণগত ছন্দের সাথে সামঞ্জস্য রেখে রচনা করতে হবে এবং ৩য় আয়াত টির শব্দ সংখ্যা ১ম ও ২য় আয়াতের থেকে বেশি হলেও কম হতে পারবে না এবং ৩য় আয়াতের অর্থ ১ম ২ আয়াতের সাথে প্রাসঙ্গিক হতে হবে। প্রায় ১ মাস চেষ্টার পর মক্কার সকল কবিরা মিলে সুরা কাওসার এর ৩য় আয়াত টি তাদের মত করে যা লিখল তা হল- “ লাইসা হা যা কালামুল বাশার অর্থ্যাৎ এটা কোন মানুষের কালাম বা বাক্য নয়।” ঠিক ঐ দিনই মক্কার সকল কবি রা বুঝতে পারল যে আল-কোরআনের ব্যাকরনগত ছন্দের মত করে যে কোন সুরার ১ টি আয়াতও তাদের দ্বারা রচিত করা সম্ভব নয়। এরপরই আল্লাহ সুবহানাতায়ালা ওহী নাযিল করে সুরা কাওসার এর ৩য় আয়াত টি নাযিল করেন যা হল - “ইন্না শা’ নিয়াকা হুয়াল আবতার” ( اِنَّ شَانِئَکَ ہُوَ الۡاَبۡتَرُ ) যার অর্থ হল - “নিশ্চয়ই আপনার প্রতি বিদ্বেশ পোষনকারীরাই নির্বংশ। ” এই ঘটনার পর পরই আবু জাহেল তার বিখ্যাত উক্তিটি করে- “ হে মুহাম্মদ! আমি তোমাকে মিথ্যাবাদী বলি না তবে তুমি যা প্রত্যাদেশ নিয়ে এসেছ আমি তা অস্বীকার করি। ”
পৃথিবী বাসীর প্রতি আল কোরআনের এই সূরা কাওসারের চ্যালেঞ্জ টা কিন্তু এখনো রয়েছে।
শুধু সুরা কাওসার নয় পুরা আল কোরআন জুরেই একটি চমৎকার ব্যাকরন গত ছন্দ রয়েছে যেটাকে আরবী ভাষায় বলা হয় বালাগাত বা ভাষা সৌন্দর্য্য।
পুরা আল কোরআনে অসংখ্য ব্যাকরণ গত সৌন্দর্য্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আমি এইখান থেকে আল কোরআনের কিছু ব্যাকরণ গত সৌন্দর্য্য আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো। সবচেয়ে ভাল হয় আমার এই NOTE টি পড়ার পর আপনি নিজে কোরআন হাতে আমার এই কথা গুলি মিলিয়ে দেখলে। আমি নিজে কোরআন পড়ে আল কোরআনের এই ব্যাকরণগত সৌন্দর্য্য গুলি বের করেছি। তাই NOTE এর নিচে কোন তথ্যসূত্র দেয়া হল না।
যেমন সূরা ক্বাদরের প্রতিটা আয়াতের শেষে শুধু ر/রা অক্ষরটি উচ্চারিত হয়েছে।
যেমন সূরা ক্বদরের ১ম আয়াত টা হল ইন্না আনযালনাহু ফি লাইলাতিল ক্বাদর/اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنٰہُ فِیۡ لَیۡلَۃِ الۡقَدۡرِ , ২য় আয়াতটি হল ওমা আদরাকামা লায়লাতুল ক্বাদর/وَ مَاۤ اَدۡرٰىکَ مَا لَیۡلَۃُ الۡقَدۡرِ , এইখানে আমরা দেখতে পাইযে প্রতিটি আয়াতের শেষে ر/রা অক্ষরটি উচ্চারিত হয়েছে।
আবার আল কোরআনের ৯১ নং সূরা আশ শামসে প্রতিটি আয়াতের শেষে হা যবর হা (ها/হা) উচ্চারিত হয়েছে। যেমন ১ম আয়াতটা হল ওয়াশশামসি ওয়াদুহাহা/وَ الشَّمۡسِ وَ ضُحٰہَا , ২য় আয়াত টা হল ওয়াল ক্বামারি ইযা তালাহা/وَ الۡقَمَرِ اِذَا تَلٰىہَا , ৩য় আয়াতটি হল ওয়ান্নাহারি ইযা জাল্লাহা/وَ النَّہَارِ اِذَا جَلّٰىہَا , এরকম ভাবে সূরা আশ শামসের প্রতিটি আয়াতের শেষে হা যবর হা (ها/হা) উচ্চারিত হয়েছে। আবার আল কোরআনের ১০৪ নং সূরা হুমাজাহতেও প্রতিটি আয়াতের শেষে হা/ه উচ্চারিত হয়েছে। যেমন সূরা হুমাযায় ১ম আয়াতের শেষে উচ্চারন হয়েছে যাহ/زَهْ, আবার ২য় আয়াতের শেষে উচ্চারন হয়েছে দাহ/دَهْ, আবার সূরা হুমাযাহ তে ৩য় আয়াতের শেষে উচ্চারন হয়েছে দাহ/دَهْ। আবার আল কোরআনের ১০৫ নং সূরা ফীলের প্রতিটি আয়াতের শেষে লাম/ل উচ্চারিত হয়েছে। যেমন সূরা ফীলের ১ম আয়াতের শেষে উচ্চারন হয়েছে ফীল/فِيْل, আবার ২য় আয়াতের শেষে উচ্চারন হয়েছে লীল/لِيْل, আবার সূরা ফীলের ৩য় আয়াতের শেষে উচ্চারন হয়েছে বীল/بِيْل। আল কোরআনের ১০৮ নং সূরা কাওসারের প্রতিটি আয়াতের শেষে রা/ر অক্ষরটি উচ্চারিত হয়েছে। আবার আল কোরআনের ১১২ নং সূরা ইখলাসের প্রতিটি আয়াতের শেষে দাল/د অক্ষরটি উচ্চারিত হয়েছে। আবার আল কোরআনের সর্বশেষ সূরা নাসের প্রতিটি আয়াতের শেষে নাস/نَسْ শব্দটি উচ্চারিত হয়েছে।
আমরা জানি কোন আয়াতের শেষে যদি গোল তা/ة থাকে এবং ঐ আয়াতটি পড়া শেষে যদি ওয়াকাফ করতে হয় তাইলে গোল তা ছোট হা/ه এ পরিনত হয়ে যায়।
তাজবীদের এই রীতি অনুসারে আল কোরআনের ৯৮ নং সূরা আল বাইয়্যেনাহ এর প্রতিটি আয়াতের শেষে হা/ه অক্ষরটি উচ্চারিত হয়েছে। আবার ৬৯ নং সূরা আল হাক্কাহর ১ম থেকে শুরু করে ৩২ নং আয়াত পর্যন্ত প্রতিটি আয়াত শেষে হা/ه উচ্চারিত হয়েছে। আবার সূরা যিলযালের ৬ষ্ঠ আয়াত ছাড়া প্রতিটি আয়াতের শেষে হা/ه উচ্চারিত হয়েছে।
আবার আল কোরআনের ৬৩ নং সূরা মুনাফেকুনের প্রতিটি আয়াতের শেষে নুন/ن অক্ষরটি উচ্চারিত হয়েছে। আর প্রত্যেকটি আয়াতের শেষে নুন/ن অক্ষরটি এসেছে যবর আকারে অর্থ্যাৎ নুন যবর না/نَ। আর সূরা মুনাফেকুনের প্রত্যেক আয়াতের শেষে উচ্চারন গুলি হয়েছে এই ছন্দ আকারে
বুন/بُوْنَ , লুন/ لُوْنَ, হুন/هُوْنَ। সুবহানাল্লাহ!
আবার আল কোরআনের ৫৪ নং সূরা ক্বামারের প্রতিটি আয়াতের শেষে রা/ر অক্ষরটি উচ্চারিত হয়েছে। সুবহানাল্লাহ।
আল কোরআনের ৪৭ নং সূরা মুহাম্মদের ৩৮ টি আয়াতের মাঝে ২৮ টি আয়াতের প্রতিটি আয়াতের শেষের অক্ষরটি হয়েছে হা পেশ হু এর পর মিম এর উপরে যজম অর্থ্যাৎ এই রকম ভাবে হুম/هُمْ। আর ৮ টি আয়াতের শেষে হয়েছে কাফ এর উপর পেশ এবং এর পর মিম এর উপর জযম মানে কুম/كُمْ। আর এই বাক্য রীতিটা আসছে এরকম ভাবে লাহুম/لَهُمْ বা লাকুম/لاَكُمْ। একটু চিন্তা করে দেখুন কোন মানুষের পক্ষে কি সম্ভব ৩৬ টি আয়াতের প্রতিটি আয়াতের শেষের অক্ষরটি হবে হুম/هُمْ বা কুম/كُمْ। আল কোরআন যে মানব রচিত না এর থেকে বড় প্রমান আর কি হতে পারে ?
আবার আল কোরআনের ১৮ নং সূরা কাহাফের প্রতিটি আয়াতের শেষের অক্ষরে ২ যবরের প্রয়োগ হয়েছে এরকম ভাবে لاً دً بً এবং প্রতিটি আয়াতের শেষে উচ্চারন টা হয়েছে এরকম ভাবে উসরা/عُسْرً, খুবরা/ خُبْرً, কুফরা/ كُفْرً।
আবার ঠিক একই ভাবে আল কোরআনের ৭২ নং সূরা জ্বীনের প্রতিটি আয়াতের শেষের অক্ষরে ২ যবরের প্রয়োগ হয়েছে এরকম ভাবে قً دً بً এবং প্রতিটি আয়াতের শেষে উচ্চারন টা হয়েছে এরকম ভাবে আহাদা/اَحَدً, রাশাদা/رَشَدً, আবাদা/اَباَدً
আবার ঠিক একই ভাবে আল কোরআনের ৪৮ নং সূরা ফাতাহের প্রতিটি আয়াতের শেষের অক্ষরে ২ যবরের প্রয়োগ হয়েছে এরকম ভাবে قً دً بً এবং প্রতিটি আয়াতের শেষে উচ্চারন টা হয়েছে এরকম ভাবে লিমা/لِيْمً, হাকীমা/حَكِيْمً, ক্বারিবা/قَرِيْبً সুবহানআল্লাহ।
আবার ঠিক একই রকম বাক্য রীতিতে আল কোরআনের সূরা নিসার ৪ টি আয়াত ছাড়া প্রতিটি আয়াতের শেষের অক্ষরে ২ যবরের প্রয়োগ হয়েছে এরকম ভাবে مً رً صً এবং প্রতিটি আয়াতের শেষে উচ্চারন হয়েছে এরকম ভাবে আযিমান/عَظِيْمً, বায়িদান/بَعِيْدً, খাবিরান/خَبِيْرً ।
আবার ঠিক একই রকম বাক্য রীতিতে আল কোরআনের ৭৬ নং সূরা দাহারের প্রতিটি আয়াতের শেষের অক্ষরে ২ যবরের প্রয়োগ হয়েছে এরকম ভাবে لأً رً مً এবং প্রতিটি আয়াতের শেষে উচ্চারন হয়েছে এরকম ভাবে কুরা/كُوْرً, রুরা/رُوْرً, তাকদ্বীরা/تَقْدِيْرً, সালসাবীলা/سَلْسَبِيْلً সুবহানআল্লাহ।
আবার ঠিক একই রকম বাক্য রীতিতে আল কোরআনের ১৭ নং সূরা বনী ইসরাইলের ১ম আয়াত ছাড়া প্রতিটি আয়াতের শেষের অক্ষরে ২ যবরের প্রয়োগ হয়েছে فً لً دًপ্রতিটি আয়াতের শেষে উচ্চারন হয়েছে এরকম ভাবে তানযিলা/تَنْجِيُلً, নাসিরা/نَصِيْرً, ক্বারিবা/قَرِيْبً।
আবার ঠিক একই রকম বাক্য রীতিতে আল কোরআনের ৭৮ নং সূরা আন নাবার ৬ষ্ঠ আয়াত থেকে শুরু করে প্রতিটি আয়াতের শেষের অক্ষরে ২ যবরের প্রয়োগ হয়েছে এরকম ভাবে بأً فً قً এবং প্রতিটি আয়াতের শেষে উচ্চারন হয়েছে এরকম ভাবে লিবাসা/لِبَسً, সাওবা/صَوَبً, তুরাবা/
تُرَبً সুবহানাল্লাহ।
আবার আল কোরআনের ৮৩ নং সূরা মুতাফ্যিফিনের প্রতিটি আয়াতের শেষে নুন/ن অথবা মিম/م অক্ষরটি ব্যবহৃত হয়েছে। সূরা মুতাফ্যিফিনের প্রতিটি আয়াতের শেষে নুন/ن অক্ষরটি এসেছে যবর আকারে মানে نَ। আর নুনের উচ্চারন গুলি হয়েছে এরকম ভাবে ইয়াস্তাওফুন/يَسْتوْفُوْنَ, মুক্বাররাবুন/مُقَرَّبُوْنَ। আবার ঠিক একই ভাবে আল কোরআনের ৬৮ নং সূরা ক্বালামের প্রতিটি আয়াতের শেষে নুন/ن অথবা মিম/م অক্ষরটি ব্যবহৃত হয়েছে।আবার ঠিক একই ভাবে আল কোরআনের ৪৫ নং সূরা জাযিয়ার ৪ টি আয়াত ছাড়া প্রতিটি আয়াতের শেষে নুন/ن অক্ষরটি ব্যবহৃত হয়েছে এবং আর প্রতি আয়াতের শেষে নুন/ن এর উচ্চারন টা হয়েছে এরকম ভাবে উন/عُوْنَ, মুন/مُوْنَ, ক্বীন/قِيْنَ, মীন/ مِيْن আর বাকী ৪ টি আয়াতের শেষে মিম/م ব্যবহৃত হয়েছে।
আবার ঠিক একই ভাবে আল কোরআনের ৬১ নং সূরা ছফের ৩ টি আয়াতটি ছাড়া প্রতিটি আয়াতের শেষে নুন/ن অক্ষরটি নুন যবর না/نَ আকারে ব্যবহৃত হয়েছে। আর সূরা ছফের নুনের উচ্চারন টি হয়েছে এরকম ভাবে মুসকিরুন/مُشْرِكُوْنَ, কাফিরুন/كَفِرُوْنَ।
আবার ঠিক একই ভাবে আল কোরআনের ৪৬ নং সূরা আহক্বাফের ৬ টি আয়াত ছাড়া প্রতিটি আয়াতের শেষে নুন যবর না/ نَ অক্ষরটি ব্যবহৃত হয়েছে। সূরা আহক্বাফে নুনের উচ্চারন টা হয়েছে এরকম ভাবে তাফসাকুন/ تَفْسَقُوْنَ, ইয়াসতাহযিউন/ يَسْتَهْزِءُوْنَআর বাকী ৫ টি আয়াতের শেষে মিম /م অক্ষরটি এসেছে এরকম ভাবে রাহিম/ رَحِيْمُ, কাদিম/ كَدِيْمٌ ও একটি আয়াতের শেষে রা/ر ব্যবহৃত হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
আবার ঠিক একই ভাবে আল কোরআনের ৪৪ নং সূরা দোখানের ৪ টি আয়াত ছাড়া প্রতিটি আয়াতের শেষে নুন/ن ব্যবহৃত হয়েছে। সূরা দোখানে নুনের উচ্চারণটা হয়েছে এরকম ভাবে আখিরিন/ اَخَرِيْنَ, মুজরিমীন/ مُجْرِمِيْنَআর বাকী ৪ টি আয়াতের প্রতিটি আয়াতের শেষে মিম/م অক্ষরটি উচ্চারিত হয়েছে এইভাবে রাহিম/ رَحِيْمٌ, হামীম/ حَمِيْمَ। সুবহানাল্লাহ
আজ পর্যন্ত আরবী সাহিত্যের কোন প্রবন্ধ, গল্প বা কবিতায় আল কোরআনের মত এই বালাগাত বা ভাষা শৈলীর ছিটাফোটাও দেখাতে পারিনি।
আবার ঠিক একই ভাবে আল কোরআনের ৪৯ নং সূরা হুজরাতের ৬ টি আয়াত ছাড়া প্রতিটি আয়াতের শেষে নুনের উপর যবর/نَ ব্যবহৃত হয়েছে। আর সূরা হুজরাতে নুনের উচ্চারণটা হয়েছে এইভাবে ছোয়াদিকীন/ صَدِقُوْنَ , যোলিমুন/ ظَلِمُوْنَ, মুউমিনুন আর বাকি ৫ টি আয়াতের শেষে মিমের উপর ২ পেশ/مٌ অক্ষরটি ব্যবহৃত হয়েছে l আর মিমের উচ্চারন টা হয়েছে এরকম ভাবে রাহিম/ رَحِيْمٌ, হাকীম/ حَكِيْمٌ
আবার ঠিক একই ভাবে আল কোরআনের ২৭ নং সূরা নামলের ৩ টি আয়াত ছাড়া প্রতিটি আয়াতের শেষে নুন/ ن অক্ষরটি ব্যবহৃত হয়েছে। j আর সূরা নমলে নুনের উচ্চারণটা হয়েছে এরকম ভাবে মুসলিমীন/ مُسْلِمِيْنَ, কাফিরীন/ كٰفِرِيْنَ আর বাকী ৩ টি আয়াতের শেষে মিম/م অক্ষরটি ব্যবহৃত হয়েছে।
আবার ঠিক একই ভাবে আল কোরআনের ৩০ নং সূরা রুমের ৪ টি আয়াত ছাড়া প্রতিটি আয়াতের শেষে নুন যবর না/نَ অক্ষরটি ব্যবহৃত হয়েছে। আর সূরা রুমের প্রতি আয়াতের শেষে নুন/ن এর উচ্চারন টা হয়েছে এরকম ভাবে রুন/رُوْنَ, ক্বুন/قُوْنَ আর বাকী ৩ টি আয়াতের শেষে মিম/م ব্যবহৃত হয়েছে। ও ৫০ নং আয়াতের শেষে রা/ر অক্ষরের প্রয়োগ হয়েছে। আবার ঠিক একই ভাবে আল কোরআনের ২৯ নং সূরা আনকাবুতের ৬ টি আয়াত ছাড়া প্রতিটি আয়াতের শেষে নুন যবর না/ نَ অক্ষরটি ব্যবহৃত হয়েছে। সূরা আনকাবুতে নুনের উচ্চারণটা হয়েছে এরকম ভাবে ইয়াশউরুন/يَشْعُرُوْنَ, ফাংবুদুন/فَعْبُدُوْنَ আর সূরা আনকাবুতের ৩ টি আয়াতের শেষে মিম/م ও অপরটি ৩ টি আয়াতের শেষে রা/ر ব্যবহৃত হয়েছে। আবার ঠিক একই ভাবে আল কোরআনের ২৮ নং সূরা কাসাসের ৩ টি আয়াত ছাড়া প্রতিটি আয়াতের শেষে নুন/ ن অক্ষরটি ব্যবহৃত হয়েছে আর প্রতি আয়াতের শেষে নুন/ن এর উচ্চারন টা হয়েছে এরকম ভাবে মুন/مُوْن, হুন/حُوْن, মীন/ مِيْن, বীন/ بِيْن অর্থ্যাৎ এরকম বাক্যরীতিতে তাঙকিলুন/تَعْقِلُوْنَ, ইয়াংবুদুন/يَعْبُدُوْنَ , মুংমিনীন/مُءْمِنِيْنَ, ইয়াশুঊরুন/يَشْعُرُوْنَ সুবহানআল্লাহ
আবার ঠিক একই ভাবে আল কোরআনের ৬ নং সূরা আনআমের ৪ টি আয়াত ছাড়া প্রতিটি আয়াতের শেষে নুন যবর না/ نَ অক্ষরটি ব্যবহৃত হয়েছে এবং প্রতি আয়াতের শেষে নুন/ن এর উচ্চারন টা হয়েছে এরকম মুশরীকিন/مُشْرِكِيْن, যোলিমীন/ ظَلِمُوْن
আবার আল কোরআনের ৭ নং সূরা আরাফের ৪ টি আয়াত ছাড়া প্রতিটি আয়াতের শেষে নুন যবর না/ نَ অক্ষরটি ব্যবহৃত হয়েছে মুন্যিতারীন/مُنْتَظِرِيْنَ, মুফসিদিন/مُفْسِدِيْنَ।
১০ নং সূরা ইউনুসের ৩ টি আয়াত ছাড়া প্রতিটি আয়াতের শেষে নুন যবর না/ نَ অক্ষরটি ব্যবহৃত হয়েছে এবং প্রতি আয়াতের শেষে নুন/ن এর উচ্চারন টা হয়েছে এরকম বাক্যরীতিতে লুন/لُوْن, উন/عُوْن, মীনিন/مِنِيْن, যিরীন/زِرِيْن আর সূরা ইউনুসের বাকী ৩ টি আয়াতের শেষের অক্ষর টি হয়েছে মিম/م।
আবার সূরা মায়িদা ও সূরা বাকারাতেও প্রায় সকল আয়াতের শেষের অক্ষরটি হয়েছে নুন যবর নুন/ نَ। সুবহানাল্লাহ।
আবার আল কোরআনের ৬৮ নং সূরা ক্বলমের ৪ টি আয়াত ছাড়া প্রতিটি আয়াতের শেষে নুন/ن অক্ষরটি ব্যবহৃত হয়েছে। সূরা ক্বলমে নুনের উচ্চারণটা হয়েছে এই রকম বাক্যরীতিতে ক্বাদিরীন/قٰدِرِيْنَ, যোলিমীন/
ظَلِمُوْن আর সূরা ক্বলমের বাকী ৪ টি আয়াতের শেষে মিম/م ব্যবহৃত হয়েছে।
আবার আল কোরআনের ৬৭ নং সূরা মূলকের ১ম থেকে ২২ নং আয়াত পর্যন্ত প্রতিটি আয়াতের শেষে রা/ ر অক্ষরটি ব্যবহৃত হয়েছে। আবার আল কোরআনের ৬২ নং সূরা জুমুয়ার ৫ম আয়াত থেকে শুরু করে শেষ আয়াত পর্যন্ত প্রতিটি আয়াতের শেষে নুন/ ن অক্ষরটি ব্যবহৃত হয়েছে। আবার সুরা ত্বীনে ৪র্থ আয়াত ছাড়া সকল আয়াতের শেষে শুধু নুন/ ن অক্ষরটির উচ্চারিত হয়েছে।
আল কোরআনের ৯২ নং সূরা আল-লাইলের ৪ টি আয়াত ছাড়া প্রতিটি আয়াতের শেষে খাড়া যবরের প্রয়োগ হয়েছে যেমন شٰ رٰ وٰ। আবার আল কোরআনের সূরা আদ দোহায় ১ম আয়াত থেকে শুরু করে ৮ম আয়াত পর্যন্ত সকল আয়াতের শেষে খাড়া যবরের প্রয়োগ হয়েছে যেমন شٰ رٰ وٰ।। আবার সূরা নজমের কয়েকটি আয়াত ছাড়া আর সকল আয়াতের শেষের অক্ষরে ধারাবাহিক ভাবে খাড়া যবরের প্রয়োগ হয়েছে যেমন شٰ رٰ وٰ।।
এরকম ভাবে পুরা আল কোরআনে হাজার হাজার ব্যাকরন গত ছন্দের প্রয়োগ হয়েছে যার মত করে একটি আয়াতও আজ পর্যন্ত কোন আরব কবি রচনা করতে পারে নি আর পারবেও না।
আমরা সবাই ১৪ অক্ষর ও ১৪ লাইন বিশিষ্ট সনেটের নাম শুনেছি। যে কোন ভাষায় কিন্তু সনেট রচনা করা সম্ভব। সাহিত্য জগতে যে কোন ভাষার যে কোন কবিতা বা গল্প বা প্রবন্ধের সাথে সামঞ্জস্য রেখে হুবহু আরেকটি কবিতা, গল্প বা প্রবন্ধ রচনা করা কোন ব্যাপারই নয়।
কিন্তু আল কোরআনের যে কোন সূরার যে কোন দিক থেকে এর প্রথম ২ টি আয়াতের সাথে ব্যাকরন গত সামঞ্জস্য রেখে ৩ আয়াতটি রচনা করা বর্তমান জগতের কোন আরব কবি বা সাহিত্যিকের পক্ষেও সম্ভব না। বরং সমগ্র আরব কবি সাহিত্যিক রা সম্মিলিত ভাবে চেষ্টা করলেও আল কোরআনের ব্যাকরন গত ছন্দের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ১ টি আয়াতও রচনা করতে পারবেনা। আল কোরআনের এই মুজেজাটা সবচেয়ে ভাল বুঝেছে বর্তমান জগতের বড় বড় খ্রিষ্টান পন্ডিত রা। তাই খ্রিষ্টান পন্ডিত রা ভুলেও কখনো কোরআনের ব্যাকরন গত ছন্দ নিয়ে কখনই কোন অভিজ্ঞ মুসলমানের সাথে তর্ক করে না। আল কোরআনের এই ব্যাকরন গত ছন্দটা ভাল ভাবে বুঝতে হলে আপনাদের কে তাজবীদ ও মাখরাযের সহিত কোরআন পড়া শিখতে হবে। তারপরই বুঝবেন আল কোরআনের ভিতর আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কত রহস্য লুকিয়ে রেখেছেন।
খুব কষ্ট পাই যখন দেখি কোন মুসলমান ছেলে নিজেকে নাস্তিক বলে পরিচয় দেয় কিন্তু আল কোরআনের ব্যাকরনগত মুজেজা সম্পর্কে সে কিছুই জানে না। আসলে দোষ তো আমাদেরই আমরা কেন তাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌছাইতে পারি নাই।
ইসলামী আক্বীদা সংশোধনের জন্য আরো পড়তে পারেন
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বহু বিবাহ প্রসঙ্গে ইসলাম বিদ্বেষীদের সমালোচনার জবাব
আল্লাহ সুবহানাতায়ালার অস্তিত্ত্বের একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমান
পুরুষ জাতির বহু বিবাহ প্রথাকে ইসলামী শরীয়াহ আসলে কতটুকু সমর্থন করে
বনী কুরায়জা গোত্রের সকল পুরুষ ইহুদি হত্যা করা প্রসঙ্গে একটি পর্যালোচনা
ইসলামি শরীয়াহ কি কখনই দাস দাসী প্রথাকে সমর্থন করেছিল
স্টালিনের নৃশংসতার স্বীকার এক বাঙ্গালী বিপ্লবী
মাওসেতুং এর সময় চীনা মুসলমানদের দূর্দশতার কথা শুনুন
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ১০:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


