
আইউবের বিরুদ্ধে গণঅভ্যূত্থান হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু বাকশাল গঠন করলেন। বাকশাল গণতান্ত্রিক ছিল না।বঙ্গবন্ধুর বিদায়ের পর এরশাদ স্বৈরাচার হলেন।এরশাদের বিদায়ের পর খালেদা-হাসিনা স্বৈরাচার হলেন।সামনে কি আমাদেরকে অন্য কোন স্বৈরাচারের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে কিনা সেটা সময় বলে দিবে।
বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ডাকে সাড়া দিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জনগণ যখন স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছে তখন কি তারা ভেবেছে বঙ্গবন্ধু স্বৈরাচারী হবেন? খালেদা-হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জনগণ যখন আন্দোলন করেছে তখন কি তারা ভেবেছে খালেদা-হাসিনা স্বৈরাচারী হবেন? এদেশের মানুষ যা ভাবে না এদেশে সেটাই হয়।
চব্বিশে স্বৈরাচারের কবরে শেষ পেরেক গেঁথে দেওয়ার কথা অনেকে বলছে। কিন্তু স্বৈরাচার কবরে না থেকে কবরের উপরে থাকলে স্বৈরাচারের কবরে পেরেক গেঁথে কি হবে। কম শিক্ষিত খালেদার পর আরো বেশী শিক্ষিত হাসিনাকে দায়িত্ব দেওয়ার পর তাঁকে তাড়াতে হলো। এখন সবচেয়ে বেশী শিক্ষিত ড. ইউনুচ দেশের দায়িত্বে আছেন তথাপি দেশ চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। তারেক রহমান থেকে কেউ ভালো কিছু আশা করছে কি? আমার মনে হয় এদেশের মানুষের মনে এখন আর আশা বাসা বাঁধে না। সেজন্য ৫ আগষ্ট উত্তেজিত হইনি। ৫ আগষ্টের ১ বছর পূর্তিতেও মনে কোন উত্তেজনা নাই। তবে একদিন ছুটিতে ভালো লাগছে। কেউ কেউ সপ্তাহে ২ দিন ছুটির বিরুদ্ধে। তাহলে আমরা ৫ দিন কেন কাজ করি? ৫ দিন কাজ করে যদি ২ দিন শান্তিতে থাকা না যায় তাহলে ৫ দিন কেন কাজ করা হবে?
কিছু অফিসারের নিকট কাজের গুরুত্ব থাকলেও ছুটির গুরুত্ব নাই। তাহলে কাজ করছি কেন? আয় করছি সুখের জন্য, সুখ ভোগের জন্য ছুটি না দিলে আয় করছি কেন? জীবনটা উপভোগের জন্য সময়ের দরকার আছে এবং জীবনটা উপভোগের জন্য আয় করারও দরকার আছে। নিজের মত অপরের উপরে চাপিয়ে দেওয়ার মানসিকতা আমাদের মাঝে প্রচুর আছে। ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্র সবস্থানে স্বৈরাচার আসন পেতে বসে আছে। এক স্বৈরাচারের আসন উল্টে দিলে হাজার স্বৈরাচার মিটি মিটি হাসে। গাজার অবস্থা ভয়াবহ। নিতানিয়াহুর এসবের পরোয়া নাই।গরীব মুসলমান না খেয়ে মরলেও ধনী মুসলমানের বিলাসিতার শেষ নাই। সেজন্য মনে ভাসে আজ আশা নাই। এক মুরুব্বী বললেন আশার কপালেও মুতি আশার বাপের কপালেও মুতি, তখন এক ছোড়া বলল কাকু মই লাগবে যে! সে যাই হোক আমাদের দেশে আশা করতে নেই। কারণ এখানে আশা করলেই আশাহত হতে হয়। অনেকেই আশার বাণী শুনায় তাতে উত্তেজনার বদলে ঘুম আশে এ আশায় যে স্বপ্নে যদি কোন আশা পূরণ হয়। এখানে স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায় কোন দির আর তা’ পূরণ হয় না। রাজাকার বিরোধী কথা বললে, জনতা বলে- তুমি কে আমি কে রাজাকার রাজাকার। তারমানে জনচেতনা এখন উল্টে গেছে। সামনে আওয়ামী লীগের খাওন তবে কিসে থাকবে? তারা তো চেতনা ব্যবসা করে অনেক অনেক লাভ ঘরে তুলেছে।এখন চেতনার কথা বললে জনতা অচেতন হয়ে যায় এবার তবে কি হবে? কেউ জানে না এবার তবে কি হবে? জলাবদ্ধতার মতই ভাবনা বদ্ধতা তৈরী হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৫ রাত ১১:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




